ইপিএফে সুদের হার ৮.২৫ শতাংশেই অপরিবর্তিত। ফলে অনেকের প্রশ্ন—বাড়তি সঞ্চয় ভিপিএফে রাখবেন, নাকি এসআইপিতে বিনিয়োগ করবেন? রইল টিপস।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 10 March 2026 13:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেতনভুক কর্মীদের অবসরকালীন সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে অন্যতম ভরসা কর্মচারী ভবিষ্যনিধি বা ইপিএফ (Employees’ Provident Fund বা EPF)। অনেকেই শুধু বাধ্যতামূলক সঞ্চয়ে থেমে থাকেন না। অতিরিক্ত অর্থ জমা করেন স্বেচ্ছা ভবিষ্যনিধি বা ভিপিএফে (Voluntary Provident Fund বা VPF)। স্থিতিশীল রিটার্ন, কর সুবিধা এবং নিরাপত্তার জন্য এই বিকল্প দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয়।
সম্প্রতি ইপিএফও (Employees’ Provident Fund Organisation বা EPFO) বোর্ড ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের (FY26) জন্য সুদের হার ৮.২৫ শতাংশই অপরিবর্তিত রেখেছে। এরপর অনেক বিনিয়োগকারীর মনে প্রশ্ন উঠছে—ভিপিএফে আরও বেশি অর্থ জমা রাখা উচিত, নাকি অতিরিক্ত সঞ্চয় বাজারভিত্তিক বিনিয়োগে, যেমন এসআইপি-তে (Systematic Investment Plan বা SIP) সরিয়ে দেওয়া ভাল?
এই বিষয়ে সম্প্রতি কথা বলেছেন কর্মা ম্যানেজমেন্ট গ্লোবাল কনসাল্টিং সলিউশনস প্রাইভেট লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও চিফ ভিশন অফিসার প্রতীক বৈদ্য (Pratik Vaidya)। তাঁর মতে, সিদ্ধান্তটি মূলত নির্ভর করবে বিনিয়োগকারীর ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা এবং সামগ্রিক আর্থিক পরিকল্পনার উপর।
প্রতীক বৈদ্যের মতে, “৮.২৫ শতাংশ সুদে ভিপিএফ এখনও বেতনভুক বিনিয়োগকারীদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ে স্থিতিশীলতা চাইলে এটি একটি শক্তিশালী বিকল্প।” তিনি জানান, যেখানে সাধারণ সেভিংস অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩ শতাংশ সুদ পাওয়া যায় এবং ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিটে (Fixed Deposit বা FD) সুদ সাধারণত ৬ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে থাকে, সেখানে ইপিএফ ও ভিপিএফ তুলনামূলকভাবে বেশি রিটার্ন দেয়।
ভিপিএফের একটি বড় সুবিধা হল, এতে ইপিএফের সমান সুদ পাওয়া যায় এবং এটি অবসরকালীন সঞ্চয়ের একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ কাঠামোর মধ্যেই থাকে। বৈদ্যের কথায়, মধ্য-কেরিয়ারের অনেক পেশাদারের জন্য বাজারের ঝুঁকি না নিয়েই অবসর তহবিল বাড়ানোর সহজ উপায় হল ভিপিএফ।
বর্তমান অনিশ্চিত বিনিয়োগ পরিবেশে ইপিএফভিত্তিক সঞ্চয়ের স্থিতিশীলতা অনেক রক্ষণশীল বিনিয়োগকারীর কাছে বিশেষভাবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। যদিও সুদের হার অপরিবর্তিত রয়েছে, তবু এই স্থিতিশীলতাই অনেকের আস্থা বাড়াচ্ছে।
প্রতীকের মতে, গত কয়েক বছরে বহু বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সুদের হার বা বাজার পরিস্থিতিতে ঘন ঘন ওঠানামা দেখা গেছে। তার তুলনায় ইপিএফের কাঠামো খুব বেশি পরিবর্তিত হয়নি। তাই অনেক কর্মীর কাছে ৮.২৫ শতাংশের স্থিতিশীল সুদের হার ভবিষ্যৎ সঞ্চয়ের পরিকল্পনা করতে একটি নির্ভরযোগ্য ভিত্তি তৈরি করে।
তবে অতিরিক্ত ভিপিএফ সঞ্চয় সরিয়ে এসআইপি বা শেয়ারবাজারভিত্তিক বিনিয়োগে দেওয়া উচিত কি না, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি। বলেন, 'এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র ইপিএফের সুদের হার দেখে নেওয়া ঠিক নয়; পুরো আর্থিক পরিকল্পনা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।'
ইকুইটি ভিত্তিক তহবিল দীর্ঘমেয়াদে বেশি বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, তবে তার সঙ্গে ঝুঁকি ও অস্থিরতাও থাকে। বিপরীতে ভিপিএফ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল এবং পূর্বানুমেয় রিটার্ন দেয়। তাই শুধুমাত্র বেশি লাভের আশায় বিদ্যমান ভিপিএফ সঞ্চয় তুলে নেওয়া ঠিক নয় বলে মনে করেন বৈদ্য। তাই তাঁর পরামর্শ, তরুণ বিনিয়োগকারীরা যদি বাজারের ঝুঁকি নিতে স্বচ্ছন্দ হন, তবে অতিরিক্ত সঞ্চয়ের একটি অংশ ইকুইটি বিনিয়োগে রাখতে পারেন। আর সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হল ভারসাম্য বজায় রাখা—বৃদ্ধির জন্য ইকুইটি এবং স্থিতিশীলতার জন্য ভিপিএফ।
সব মিলিয়ে, অবসর পরিকল্পনায় ভিপিএফ এখনও নিরাপদ, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং কর-সুবিধাযুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সঞ্চয়পথ হিসেবেই রয়ে গেছে।