সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের জন্য (Inclusive Economy) গভর্নর’স অ্যাওয়ার্ড অফ এক্সেলেন্স (Governor's Award of Excellence) পেলেন বন্ধন গ্রুপের (Bandhan Group) চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখর ঘোষ (Chandrashekhar Ghosh)।

সম্মানিত চন্দ্রশেখর ঘোষ
শেষ আপডেট: 29 January 2026 19:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সমাজের সমস্ত স্তরে উন্নয়ন, প্রান্তিক মানুষের ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির স্বীকৃতি পেলেন বন্ধন গ্রুপের চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখর ঘোষ। রাজ্যপাল ডঃ সি. ভি. আনন্দ বোস-এর হাত থেকে তিনি গ্রহণ করলেন গভর্নর’স অ্যাওয়ার্ড অফ এক্সিলেন্স– বন্দে মাতরম পুরস্কার ২০২৬। কলকাতার লোক ভবনে আয়োজিত ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের রাজ্য পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এই সম্মান-পুরস্কার দেওয়া হয় তাঁকে।
এটি কেবল একটি ব্যক্তিগত সম্মান নয়, ভারতে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, সামাজিক উদ্যোক্তা ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিকাঠামো নির্মাণে চন্দ্রশেখর ঘোষের দীর্ঘদিনের অবদান এবং সুদূরপ্রসারী প্রভাবের এক ঐতিহাসিক স্বীকৃতি। সমাজের প্রান্তিক ও বঞ্চিত মানুষের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়নের দরজা খুলে দেওয়ার যে স্বপ্ন তিনি বহু বছর আগে দেখেছিলেন, আজ তা বাস্তবের মাটিতে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে।
স্বেচ্ছাসেবী ক্ষেত্র থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ঋণ উদ্যোগের পথপ্রদর্শক চন্দ্রশেখর ঘোষের যাত্রাপথ সহজ ছিল না। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর উদ্যোগ ভারতের আর্থিক মানচিত্রে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেয়। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে ‘বন্ধন’ ধীরে ধীরে ভারতের বৃহত্তম ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

এই যাত্রার এক ঐতিহাসিক অধ্যায় রচিত হয় ২০১৫ সালে, যখন বন্ধন একটি ইউনিভার্সাল ব্যাঙ্ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। স্বাধীনতার পর এটি ছিল পূর্ব ভারতের প্রথম নতুন ব্যাঙ্ক, যা শুধু আর্থিক ক্ষেত্রেই নয়, গোটা অঞ্চলের সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিশা বদলে দেয়। গ্রাম থেকে শহর, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মূলধারার অর্থনীতিতে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য।
গভর্নরস অ্যাওয়ার্ড অফ এক্সিলেন্স মূলত সামাজিক সাম্যতা, উদ্ভাবন এবং দেশ গঠনের প্রতি আজীবন দায়বদ্ধতাকে সম্মান জানায়। সেই অর্থে চন্দ্রশেখর ঘোষের নাম এই পুরস্কারের সঙ্গে যুক্ত হওয়া নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর নেতৃত্বে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কেবল একটি নীতিগত ধারণা নয়, বরং বাস্তব পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

এই সম্মানের প্রতিক্রিয়ায় চন্দ্রশেখর ঘোষ বলেন, ‘এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার গ্রহণ করতে পেরে আমি গভীরভাবে সম্মানিত। এই স্বীকৃতি শুধু আমার একার নয়, এটি সেই লক্ষ লক্ষ মানুষেরও প্রাপ্য, যাঁদের হার না মানা মানসিকতা আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পথে আমাদের যাত্রাকে অনুপ্রাণিত করেছে। আমি কৃতজ্ঞচিত্তে এই পুরস্কার গ্রহণ করছি এবং নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে সমাজসেবার প্রতি আমার অঙ্গীকার আরও একবার নিশ্চিত করছি।’
২০০১ সালে চন্দ্রশেখর ঘোষের হাত ধরে যাত্রা শুরু করা Bandhan Financial Services Limited (Bandhan Group) আজ একটি বহুমাত্রিক, বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত আর্থিক পরিষেবা গোষ্ঠী। শুরু থেকেই তাদের মূল লক্ষ্য আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন।

ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পথচলা শুরু হলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বন্ধন গ্রুপ নিজেদের পরিধি বিস্তৃত করেছে ব্যাঙ্কিং, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট, লাইফ ইনশিওরেন্স এবং সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি পরিষেবার মতো একাধিক ক্ষেত্রে।
বর্তমানে বন্ধন গ্রুপের চারটি ব্যবসা, Bandhan Bank, Bandhan AMC, Bandhan Life এবং Bandhan Technologies। এবং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ছড়িয়ে রয়েছে তিনটি মহাদেশে। ভারতের জুড়ে ৬,৫০০-রও বেশি শাখা, ৭৭ হাজারেরও বেশি কর্মী এবং ৩.৬ কোটিরও বেশি গ্রাহক নিয়ে বন্ধন শুধুমাত্র একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি একটি সামাজিক আন্দোলন। যে আন্দোলন আর্থিক ক্ষমতায়নের মাধ্যমে মানুষের জীবন বদলে দিচ্ছে।

চন্দ্রশেখর ঘোষের এই সম্মান আসলে বাঙালির উদ্যোগ, অধ্যবসায় এবং মানবিক নেতৃত্বেরই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, যা আগামী প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখতে এবং সমাজ বদলাতে অনুপ্রাণিত করবে।