সোনার গয়না বেঁচে অন্য কিছুতে বিনিয়োগ করার কথাও হয়তো কেউ কেউ ভাবছেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে—এই সোনা বিক্রির অর্থ আপনার হাতে পুরোটা থাকবে না। কারণ এর উপর দিতে হতে পারে ‘লং টার্ম ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স’ (old gold sale – long term capital gain tax) বা দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী লাভ কর।

গ্রাফিক্স দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 9 October 2025 14:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোনার দাম (Gold price) এখন প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় সওয়া লক্ষ টাকায় পৌঁছে গেছে। তাই অনেকেই পারিবারিক পুরনো সোনা বা গয়না বিক্রির কথা ভাবছেন। কারণ, সোনায় গয়না থাকলেও এখন অনেকেরই আর পরার সুযোগ হয় না। বছরের বেশিরভাগ সময়ে ব্যাঙ্কের লকারে শীতঘুমে থাকে। কেননা বাড়ির আলমারিতে রেখে দেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। আবার বিয়ে বা অনুষ্ঠানের নিমন্ত্রণ এলে লকারে যাওয়ার কথা ভাবলেই গায়ে যেন জ্বর আসে। তাই সোনার গয়না বেঁচে অন্য কিছুতে বিনিয়োগ করার কথাও হয়তো কেউ কেউ ভাবছেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে—এই সোনা বিক্রির অর্থ আপনার হাতে পুরোটা থাকবে না। কারণ এর উপর দিতে হতে পারে ‘লং টার্ম ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স’ (old gold sale – long term capital gain tax) বা দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী লাভ কর।
পুরনো সোনা বিক্রিতে করের নিয়ম কী?
আয়কর আইনের নিয়ম অনুযায়ী, সোনা বা সোনার গয়না বিক্রি করলে সেটি ‘ক্যাপিটাল গেইনস’ বা মূলধনী লাভের আওতায় পড়ে। যদি সেই সোনা কেনা হয়ে থাকে ১ এপ্রিল ২০০১-এর আগে, তাহলে ধরা হবে সেই সময়কার ‘ফেয়ার মার্কেট ভ্যালু’ (FMV) বা ন্যায্য বাজারমূল্যই ‘কস্ট অফ অ্যাকুইজিশন’ বা ক্রয়মূল্য হিসেবে। যেহেতু সাধারণত পারিবারিক গয়না বহু বছর আগে কেনা হয়, তাই এই বিক্রির ক্ষেত্রে ‘লং টার্ম ক্যাপিটাল গেইনস’ (LTCG) ধরা হবে। এই লাভের ওপর কর ধার্য হবে ১২.৫% হারে, তার সঙ্গে প্রযোজ্য সারচার্জ ও সেস।
করের হিসেব কীভাবে হবে?
করযোগ্য মূলধনী লাভের হিসাব হবে এইভাবে: বিক্রয়মূল্য – (ফেয়ার মার্কেট ভ্যালু হিসাবে ধরা ক্রয়মূল্য) = লং টার্ম ক্যাপিটাল গেইন
উদাহরণস্বরূপ: যদি ১৯৯৮ সালে কেনা সোনার গয়না আজ ৫ লক্ষ টাকায় বিক্রি করেন, আর ২০০১ সালের ফেয়ার মার্কেট ভ্যালু ধরা হয় ৫০ হাজার টাকা, তাহলে করযোগ্য লাভ হবে ৪.৫ লক্ষ টাকা। এই টাকার উপর ১২.৫% হারে কর ধার্য হবে।
সোনা কেনার বিল না থাকলে কী করবেন?
অনেক সময়ে পুরনো গয়নার কোনও বিল থাকে না। তা ছাড়া ভারতীয় সংস্কৃতিতে বিয়ে বা অন্নপ্রাশনের মতো অনুষ্ঠানে সোনার উপহার দেওয়ার চল রয়েছে। সেই সব উপহারের অধিকাংশ সময়েই বিল থাকে না। সেই ক্ষেত্রে কোনও নিবন্ধিত ভ্যালুয়ার বা মূল্যায়নকারী-র কাছ থেকে গয়নার মূল্যায়ন করিয়ে নিতে হবে। এই মূল্যায়নই হবে আপনার জন্য ক্রয়মূল্যের ভিত্তি, যা আয়কর দপ্তর গ্রহণ করে।
পেনশনভোগী ও সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য কর ছাড়
রিবেটের সুযোগও আছে
যদি মোট করযোগ্য আয় ১২ লক্ষ টাকার মধ্যে থাকে, তাহলে Section 87A অনুযায়ী সম্পূর্ণ কর ছাড় পাওয়া যায়। অর্থাৎ আপনার করযোগ্য আয় যদি এই সীমার মধ্যে পড়ে, তবে সোনা বিক্রি করেও কার্যত কর দিতে নাও হতে পারে।
সতর্ক থাকুন, আগেভাগেই পরিকল্পনা করুন
এই মুহূর্তে সোনার দাম রেকর্ড উচ্চতায়। অনেকে তাই পুরনো সোনা বিক্রি করে লাভ তুলতে চাইছেন। কিন্তু করের নিয়ম না জেনে বিক্রি করলে পরে ঝামেলায় পড়তে হতে পারে। তাই বিক্রির আগে সঠিক মূল্যায়ন করিয়ে, প্রয়োজনীয় কর পরিকল্পনা করে নিলে অপ্রত্যাশিত আর্থিক চাপ এড়ানো সম্ভব। পুরনো সোনা বিক্রিতে কর দিতে হতে পারে। তবে সঠিক মূল্যায়ন ও কর ছাড়ের সুযোগ ব্যবহার করলে করের বোঝা অনেকটাই কমানো সম্ভব। এ ব্যাপারে কোনও স্বীকৃত পরামর্শদাতার সঙ্গে পরামর্শ করে নেওয়া সঠিক পদক্ষেপ হবে।