বিশ্ব সঙ্কটের মাঝে সরবরাহ ব্যবস্থার ধাক্কা সামলাতে পেপারলেস ট্রেডের ওপর জোর বিমস্টেক বৈঠকে। ডিজিটাল বাণিজ্যই ভবিষ্যতের পথ।
.jpg.webp)
শেষ আপডেট: 21 March 2026 18:19
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রো চ্যান্সেলর ধ্রুবজ্যোতি চট্টোপাধ্যায় (Dhrubajyoti Chattopadhyay) সহজ ভাষায় বলেন, বাণিজ্য যদি দ্রুত করতে হয়, খরচ কমাতে হয়, তাহলে কাগজের ফাইল নয়, ডিজিটাল ফাইলই ভবিষ্যৎ। বিশেষ করে ছোট ব্যবসায়ী বা নতুন ই-কমার্স উদ্যোগগুলির জন্য এই পরিবর্তন খুবই জরুরি। কারণ সীমান্ত পেরিয়ে ছোট ছোট চালান পাঠাতে গিয়ে তারাই সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন।
এই আলোচনায় বড় ছবিটাও সামনে আসে। ইন্দ্রমণি পান্ডে জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলে চলা সংঘাতের জেরে তেল-গ্যাস সরবরাহে টান পড়েছে, আর তার প্রভাব পড়ছে গোটা বিশ্বে। দক্ষিণ এশিয়া থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া— সব দেশই এর ধাক্কা অনুভব করছে। শুধু অর্থনীতি নয়, আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুনও অনেক জায়গায় ভেঙে পড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে বড় বড় আন্তর্জাতিক জোটের চেয়ে আঞ্চলিক জোটগুলিই বেশি কার্যকর হয়ে উঠতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। BIMSTEC-এর মতো সংগঠনগুলিতে সদস্য দেশ কম, সমস্যাও প্রায় একই রকম—ফলে একসঙ্গে বসে দ্রুত সমাধান খুঁজে নেওয়া সহজ হয়।
বিমস্টেকভুক্ত দেশগুলির মধ্যে ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং ভৌগোলিক যোগসূত্র রয়েছে। সেই জায়গা থেকেই এই জোট ভবিষ্যতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে এক সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারে। সম্মিলিত অর্থনীতির আকারও ছোট নয়—প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলার। ফলে সম্ভাবনাও বিশাল।
অর্থনীতিবিদ প্রবীর দে মনে করিয়ে দেন, বিশ্বজুড়ে একের পর এক সঙ্কটের জেরে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ছে পণ্য পরিবহণে। সমুদ্রপথে জটিলতা, খরচ বৃদ্ধি— সব মিলিয়ে বাণিজ্য ধাক্কা খাচ্ছে। বিমস্টেক দেশগুলির মধ্যেকার বাণিজ্য এখনও খুব বেশি না হলেও, তা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে অভিজিৎ চক্রবর্তী একেবারে সোজা কথায় বলেন, ডিজিটাল হওয়া এখন আর ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নয়, বর্তমানের প্রয়োজন। যত দ্রুত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলি পুরো প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল করতে পারবে, ততই তারা প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবে।
সব মিলিয়ে বার্তাটা পরিষ্কার। বিশ্ব যখন অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তখন বাণিজ্যের গতি ধরে রাখতে হলে বদল আনতেই হবে। আর সেই বদলের কেন্দ্রে রয়েছে পেপারলেস ট্রেড। কম কাগজ, বেশি গতি— এই সমীকরণই আগামী দিনের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।