সিস্টার নিবেদিতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অষ্টম প্রতিষ্ঠা দিবস ও সমাবর্তনে ২,২৫৬ শিক্ষার্থী ও ৮ জন পিএইচডি গবেষককে ডিগ্রি প্রদান। চ্যান্সেলর ও উপাচার্যের ভাষণে উঠে এল ভবিষ্যৎ, প্রযুক্তি, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের বার্তা।
.jpg.webp)
এসএনইউ-তে সমাবর্তন
শেষ আপডেট: 26 February 2026 17:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার শিক্ষাঙ্গনে উৎসবের আবহ। অষ্টম প্রতিষ্ঠা দিবসকে সামনে রেখে সমাবর্তনের মঞ্চে একসঙ্গে ভবিষ্যতের ২,২৫৬ জন শিক্ষার্থী ও ৮ জন পিএইচডি গবেষককে ডিগ্রি প্রদান করল সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটি (Sister Nivedita University)। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮টি বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের এই সাফল্য উদ্যাপনের মধ্য দিয়ে নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করল প্রতিষ্ঠানটি।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, তাঁদের লক্ষ্য ছিল এমন স্নাতক তৈরি করা, যারা শিল্পক্ষেত্রে দক্ষ, সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ এবং বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতায় সক্ষম। প্রযুক্তি, গবেষণা, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ—এই চার স্তম্ভের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে শিক্ষার কাঠামো।
চ্যান্সেলর স্নাতকদের উদ্দেশে বলেন, আজ তাঁরা হাতে শুধুই একটি সার্টিফিকেট হাতে পাচ্ছেন না, দায়িত্বও গ্রহণ করছেন। দ্রুত প্রযুক্তি-পরিবর্তন, বৈশ্বিক আন্তঃসংযোগ এবং জটিল সামাজিক বাস্তবতার যুগে তাঁদের ভূমিকা আরও তাৎপর্যপূর্ণ। শিক্ষা কেবল চাকরির যোগ্যতা নয়; এটি গভীরভাবে চিন্তা করা, নৈতিকভাবে কাজ করা এবং সমাজে ইতিবাচক প্রভাব রাখার প্রতিশ্রুতি।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, সিস্টার নিবেদিতা শিক্ষাকে দেখেছিলেন মানুষের অন্তর্গত শ্রেষ্ঠত্বকে জাগিয়ে তোলার প্রক্রিয়া হিসেবে। প্রযুক্তিগত শিক্ষার প্রসার ও উচ্চতর গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন। সেই আদর্শেই অনুপ্রাণিত এই বিশ্ববিদ্যালয়।
স্বামী বিবেকানন্দর বিশ্বভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার দর্শনকে সামনে রেখে অন্তর্ভুক্তি, যুবশক্তির ক্ষমতায়ন এবং সামগ্রিক বিকাশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। স্নাতকদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা ছিল স্পষ্ট, যেখানেই জীবনের বাগানে রোপিত হও, সেখানেই সৌরভ ছড়াও। চিন্তায় সাহসী হও, প্রয়াসে বিনয়ী হও, সত্য ও ন্যায়ের অনুসন্ধানে অবিচল থাকো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক (ড.) শঙ্কু বসু সমাবর্তন সম্পর্কে বলেন, এটি এমন এক সংযোগ মুহূর্ত, যেখানে দায়িত্ব ও নেতৃত্বের সূচনা ঘটে। তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রতিষ্ঠানের পেছনে রয়েছে টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের চার দশকেরও বেশি সময়ের ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, দৃঢ়তা ও দেশগঠনের স্বপ্ন।
বর্তমানে এসএনইউ একটি প্রাণবন্ত শিক্ষাকমিউনিটি। ১০,০০০-এরও বেশি শিক্ষার্থী, ৫৫০ জন শিক্ষক, ১৮০ জন গবেষক, সাতটি স্কুল, ২৮টি বিভাগ, ১০টি সেন্টার অফ এক্সেলেন্স এবং ১৫৬টি একাডেমিক প্রোগ্রাম নিয়ে বিস্তৃত তার পরিসর।
তিনি জানান, শিক্ষক উন্নয়ন, গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধি, পাঠ্যক্রম আধুনিকীকরণ এবং শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক—এই চার ক্ষেত্রে ধারাবাহিক বিনিয়োগের ফলেই গড়ে উঠেছে এই একাডেমিক সংস্কৃতি। তাঁর কথায়, বিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে তবেই শিক্ষার প্রকৃত পরিবেশ নির্মাণ সম্ভব।
উপাচার্য আবেগঘন ভাষণে বলেন, প্রতিটি স্নাতকের পেছনে রয়েছেন এমন এক অভিভাবক, যিনি অপেক্ষা করেছেন, দুশ্চিন্তা করেছেন, ত্যাগ স্বীকার করেছেন। আজকের এই সাফল্য তাঁদের বিশ্বাসেরও জয়।
তিনি স্নাতকদের স্মরণ করিয়ে দেন, তাঁদের লক্ষ্য কখনও শুধুই ‘জব-রেডি’ করা ছিল না; বরং ‘লাইফ-রেডি’ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর এই বিশ্বে প্রযুক্তি বদলাবে, কিন্তু চরিত্র, সততা ও সৃজনশীলতা চিরকালীন সম্পদ হয়ে থাকবে।
২০২৬ সালের স্নাতকদের উদ্দেশে তাঁর শেষ বার্তা, আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে চলো, নেতৃত্ব দাও বিনয়ের সঙ্গে, সততার সঙ্গে সমাজকে সেবা করো এবং শেখা কখনও থামিও না। পৃথিবী অপেক্ষা করছে তোমাদের স্বাক্ষরের জন্য।
অষ্টম প্রতিষ্ঠা দিবসের সকালে তাই কেবল ডিগ্রি নয়, এক নতুন প্রজন্মের দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা ও ভবিষ্যৎদর্শিতার অঙ্গীকার প্রতিধ্বনিত হল সমাবর্তনের মঞ্চে। সিস্টার নিবেদিতা বিশ্ববিদ্যালয় যেন জ্ঞানের দীপশিখা হয়ে আগামী দিনেও আলোকিত করে চলুক সমাজ ও দেশকে— এই প্রত্যাশাতেই শেষ হল উৎসবমুখর আয়োজন।