ভারতীয় সোনার বাজারে বর্তমানে নতুন ধারা তৈরি হচ্ছে। সব মিলিয়ে, উৎসবের মুহূর্তে সোনার দামের এই পতন ভারতের মধ্যবিত্তের জন্য নিঃসন্দেহে সুখবর।

ছবি - এআই
শেষ আপডেট: 11 October 2025 16:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উৎসবের মরশুমে স্বস্তির হাওয়া বোধহয় একেই বলে। দীর্ঘদিন ধরে আকাশছোঁয়া সোনার দামে নাজেহাল সাধারণ মানুষ অবশেষে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছে। এক ধাক্কায় কমল সোনার দাম, যা মধ্যবিত্তের মুখে হাসি ফোটাতে চলেছে। সামনেই ধনতেরাস ও দীপাবলি— আর এই সময়ে গয়না কেনার জন্য এর চেয়ে উপযুক্ত সময় আর হয় না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের ওঠানামা এবং ভারতীয় অর্থনীতির সাম্প্রতিক পরিবর্তনের ফলে এই পতন ঘটেছে। ফলে ক্রেতাদের জন্য এটি একেবারে সুবর্ণ সুযোগ।
উৎসবের মরসুমে সোনার দামে পতন
দেশের বাজারে টানা বৃদ্ধি পাওয়ার পর অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে সোনার দামে বড় পতন দেখা গেছে। করবা চৌথের পরেই এই পরিবর্তন, যা ধনতেরাস ও দীপাবলির আগে কেনাকাটার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। সাধারণত উৎসবের সময় সোনার চাহিদা বাড়লে দামও বৃদ্ধি পায়, তবে এবার তার উলটো চিত্র দেখা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারের কিছু বড় পরিবর্তন এই দামে প্রভাব ফেলেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই বছর সোনার দাম প্রায় ৫১ শতাংশ বেড়েছিল। তাই দাম কমায় বহু ক্রেতা নতুন করে কেনার পরিকল্পনা করছেন।
আজকের সোনার দাম: বিস্তারিত আপডেট
১১ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে ভারতে ২৪ ক্যারেট সোনার ১০ গ্রামের দাম দাঁড়িয়েছে ১,২২,২৯০ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় ১,৮৬০ টাকা কম। অন্যদিকে ২২ ক্যারেট সোনার ১০ গ্রাম বিক্রি হচ্ছে ১,১২,১০০ টাকায়, যা ১,৭০০ টাকা কমেছে।
কলকাতায় ১১ অক্টোবরের দরে দেখা যাচ্ছে, ২৪ ক্যারেট সোনার ১ গ্রাম ১১,৯২৩ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১১,৩৫৫ টাকা। অর্থাৎ, প্রতি গ্রামে যথাক্রমে ১৮৬ ও ১৭০ টাকা কমেছে।
বিভিন্ন শহরে ১১ অক্টোবরের সোনার দাম (প্রতি ১০ গ্রাম):
দিল্লি: ২৪ ক্যারেট ১,২২,৪৪০ টাকা | ২২ ক্যারেট ১,১২,২০০ টাকা
মুম্বই: ২৪ ক্যারেট ১,২২,২৯০ টাকা | ২২ ক্যারেট ১,১২,১০০ টাকা
চেন্নাই: ২৪ ক্যারেট ১,২২,৮৪০ টাকা | ২২ ক্যারেট ১,১২,৬০০ টাকা
বেঙ্গালুরু: ২৪ ক্যারেট ১,২২,২২৯ টাকা | ২২ ক্যারেট ১,১২,২১০ টাকা
আমদাবাদ: ২৪ ক্যারেট ১,২২,২৩৪ টাকা | ২২ ক্যারেট ১,১২,২১০ টাকা
কেন কমছে সোনার দাম?
সোনার দাম পতনের পেছনে একাধিক বৈশ্বিক কারণ কাজ করছে। মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়া এবং ইজরায়েল-হামাসের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির চুক্তিই মূলত এই পরিবর্তনের কারণ বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা কমলে বিনিয়োগকারীরা সোনা থেকে মুনাফা তুলতে শুরু করেন, ফলে চাহিদা হ্রাস পায় এবং দামের ওপর চাপ পড়ে। পাশাপাশি, মার্কিন ডলারের দুর্বলতাও সোনার দামে প্রভাব ফেলেছে।
মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত নীতিও বড় ভূমিকা রাখছে। উচ্চ সুদের হার সোনার মতো অ-উৎপাদনশীল সম্পদের আকর্ষণ কমিয়ে দেয়, কারণ সোনা থেকে কোনো সুদ পাওয়া যায় না। অন্যদিকে, কিছু দেশে সোনার দাম কমলেও, মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধি এবং ডলারের দুর্বলতার কারণে অন্য দেশে দাম বেড়েছে।
বিনিয়োগকারীদের ভাবনা
বিনিয়োগকারীদের জন্য এই পরিস্থিতি মিশ্র। যাঁরা আগেই উচ্চ দামে সোনা কিনেছেন, তাঁদের কিছুটা ক্ষতি হতে পারে। তবে যারা দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের জন্য এটি কেনার সুবর্ণ সুযোগ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী বৈঠকে সুদের হার নিয়ে সিদ্ধান্তই সোনার ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণ করবে। যদি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্দার ইঙ্গিত দেখা যায় বা সুদের হার কমানো হয়, তাহলে আবার সোনার দাম বাড়তে পারে।
ক্রেতাদের জন্য আশার বার্তা
উৎসবের মরসুমে সোনার দামে এই পতন সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বড় খবর। ধনতেরাস বা দীপাবলিতে সোনা কেনা ভারতের ঐতিহ্যের অংশ। তাই এই দামের পতনে নতুন করে কেনাকাটার আগ্রহ বেড়েছে।
বিশেষত, যারা বিয়ে বা পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য গয়না কেনার পরিকল্পনা করছিলেন, তাঁদের জন্য এখনই সেরা সময়। কম দামে কাঙ্ক্ষিত গয়না কেনা সম্ভব হচ্ছে, যা কিছুদিন আগেও অনেকের নাগালের বাইরে ছিল।
নতুন প্রবণতা ও ভবিষ্যৎ দিক
ভারতীয় সোনার বাজারে বর্তমানে নতুন ধারা তৈরি হচ্ছে। ভারী গয়নার তুলনায় এখন হালকা ডিজাইন, সোনার কয়েন, এবং ডিজিটাল সোনার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। পাশাপাশি, গোল্ড ETF এবং সার্বভৌম গোল্ড বন্ডে (SGB) বিনিয়োগও জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
সরকারও বাজার স্থিতিশীল রাখতে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। জিএসটি ৩ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকলেও, আমদানি শুল্ক হ্রাস সোনা পাচার রোধে সহায়তা করছে। তবে খুচরা বাজারে এই সুবিধা পুরোপুরি ভোক্তাদের কাছে পৌঁছায়নি।
সব মিলিয়ে, উৎসবের মুহূর্তে সোনার দামের এই পতন ভারতের মধ্যবিত্তের জন্য নিঃসন্দেহে সুখবর।