আজকের সোনার দামে বড় পরিবর্তন। কলকাতা-সহ সারা ভারতে ২২ ক্যারেট ও ২৪ ক্যারেট সোনার নতুন দর জেনে নিন। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব ও ভবিষ্যতের ইঙ্গিত নিয়ে বিস্তারিত খবর।

শেষ আপডেট: 8 November 2025 13:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ সকালে ভারতীয় বাজারে সোনার দামে নতুন চমক। দামের সামান্য পরিবর্তনেই মধ্যবিত্তের মনে জাগছে নতুন আশা, আবার কেউ কেউ ভাবছেন—এই ওঠানামা কি আরও বাড়িয়ে দেবে মাসিক খরচের চাপ? উৎসবের মরসুমে সোনার দামের গতি বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভারতীয় সমাজে সোনা শুধু গয়না নয়, এক অমূল্য বিনিয়োগও বটে।
বর্তমান সোনার দামের পরিস্থিতি
নভেম্বরের শুরুতেই দেশের সোনার বাজারে চলছে টানাপোড়েন।
৮ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে:
২৪ ক্যারেট সোনা: প্রতি গ্রাম ₹১২,২০২
২২ ক্যারেট সোনা: প্রতি গ্রাম ₹১১,১৮৫
৭ নভেম্বরের তুলনায় এই দাম কিছুটা কম। কলকাতায় গতকাল ২৪ ক্যারেট সোনার প্রতি ১০ গ্রাম ₹১,২২,৫৮০ এবং ২২ ক্যারেট সোনা ₹১,১২,৩৬০ ছিল। পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যে আজ সামান্য পতন হলেও বাজার এখনও অস্থির।
সোনার দামের বৃদ্ধির মূল কারণ
বিশ্ব অর্থনীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা সোনার দামে প্রধান প্রভাব ফেলছে।
পূর্ব ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের ফলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বেড়েছে।
মার্কিন ডলারের দুর্বলতা ও বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কাও দাম বাড়াচ্ছে।
দেশে দীপাবলি ও বিয়ের মরসুমে সোনার চাহিদা বাড়ায় দেশীয় বাজারেও দাম বেড়েছে।
রুপির পতনের ফলে আমদানি খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে।
মধ্যবিত্তের উপর প্রভাব
মধ্যবিত্ত ভারতীয়দের কাছে সোনা মানেই ঐতিহ্য, উৎসব ও নিরাপত্তা। কিন্তু ক্রমবর্ধমান দামে এখন অনেকেই হালকা গয়না বা সোনার কয়েনের দিকে ঝুঁকছেন।
ভারী গয়নার বিক্রি কমেছে,
সোনার ঋণের প্রবণতা বেড়েছে,
গোল্ড বন্ড ও ETF বিনিয়োগে আগ্রহ বেড়েছে।
গয়না শিল্পেও চাপ পড়ছে, কারণ প্রস্তুতকারকদের অতিরিক্ত খরচ গ্রাহকদের উপর পড়ছে।
উৎসবের মরসুমে সোনার বাজার
ধনতেরাস ও দীপাবলিতে সোনা কেনা শুভ বলে ধরা হয়। কিন্তু ২০২৫ সালে এই সময়ে দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। ৩১ অক্টোবর দাম সাময়িকভাবে কমায় ক্রেতাদের মুখে হাসি ফুটেছিল, কিন্তু নভেম্বরের শুরুতেই আবার উর্ধ্বগতি। এই বছর ক্রেতারা ভারী গয়না বাদ দিয়ে হালকা গয়না ও রূপোর দিকে ঝুঁকেছেন।
সরকারের পদক্ষেপ
ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনা আমদানিকারক। সরকার সম্প্রতি দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে:
আমদানি শুল্ক ১৫% থেকে কমিয়ে ৬% করা হয়েছে।
বেস ইমপোর্ট প্রাইস হ্রাস: প্রতি ১০ গ্রাম সোনায় ৪২ ডলার এবং প্রতি কেজি রুপোয় ১০৭ ডলার।
এই উদ্যোগের লক্ষ্য সোনার দাম ও গয়না খরচ কমানো এবং আমদানি নির্ভরতা হ্রাস।
বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিভঙ্গি
অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময় সোনা সবসময় নিরাপদ আশ্রয়।বিশ্বব্যাপী সোনা ক্রয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ। ভারতে ফিজিক্যাল সোনার পাশাপাশি এখন গোল্ড ETF ও SGB (Sovereign Gold Bond) বিনিয়োগের জনপ্রিয়তা বেড়েছে।
ভবিষ্যতের পূর্বাভাস
বিশেষজ্ঞদের মতে,
২০২৫ সালের ডিসেম্বর নাগাদ ১০ গ্রাম সোনার দাম ₹১,০০,০০০ ছুঁতে পারে।
বর্তমানে এটি ₹৯৫,৫০০ – ₹৯৮,৫০০ রেঞ্জে চলছে।
স্থিতিশীলতা ফিরলে নভেম্বরের শেষের দিকেই নতুন ঊর্ধ্বগতি দেখা যেতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদে সোনার বিনিয়োগ এখনও লাভজনক বলে মত দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা। ভারতের সোনার বাজার বর্তমানে এক অস্থির কিন্তু সম্ভাবনাময় অবস্থায়। বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তন ও উৎসবের চাহিদা—দুটিই একসঙ্গে দাম নির্ধারণ করছে। মধ্যবিত্তদের জন্য হয়তো এই মুহূর্তে চিন্তার কারণ, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সোনা এখনও ‘সেফ হেভেন ইনভেস্টমেন্ট’।