Budget 2026: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা অমিত মিত্রের (Amit Mitra) দাবি, এই বাজেট জনস্বার্থের পরিপন্থী এবং একের পর এক খাতে পরিকল্পিত ভাবে বরাদ্দ কমিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র।

মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা অমিত মিত্র
শেষ আপডেট: 1 February 2026 19:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬ (Union Budget 2026) ঘিরে বিরোধী শিবিরের আক্রমণ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। কৃষক, যুবসমাজ, শিক্ষা ও সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশ, সব ক্ষেত্রেই বরাদ্দ কমেছে বলে অভিযোগ তুলে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা অমিত মিত্র (Amit Mitra)। তাঁর দাবি, এই বাজেট জনস্বার্থের পরিপন্থী এবং একের পর এক খাতে পরিকল্পিত ভাবে বরাদ্দ কমিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র।
জনগণের স্বার্থে প্রশ্ন তোলাই তাঁর বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য বলে জানিয়ে অমিতবাবু বলেন, বাজেটের খুঁটিনাটিতে চোখ রাখলেই স্পষ্ট হয়ে যায়, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ব্যয় সংকোচনের পথ বেছে নিয়েছে কেন্দ্র (Budget News)।
শিক্ষা খাতে ধারাবাহিক কাটছাঁট
অমিত মিত্রের সবচেয়ে কড়া আক্রমণ শিক্ষা খাতের বরাদ্দ নিয়ে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবর্ষে কেন্দ্রীয় বাজেটের মোট ব্যয়ের ৩.৮ শতাংশ বরাদ্দ ছিল শিক্ষার জন্য। চলতি বাজেটে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২.৬০ শতাংশে। অর্থাৎ সময়ের সঙ্গে শিক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ার বদলে কমেছে।
অমিত মিত্রের প্রশ্ন, সরকার যদি সত্যিই শিক্ষার গুরুত্ব বুঝত, তবে এই খাতে বরাদ্দ কমানো সম্ভব হত না। তাঁর দাবি, বিশ্বের প্রায় সব দেশই শিক্ষা খাতে ব্যয় বাড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী মোট ব্যয়ের অন্তত ৫ থেকে ৬ শতাংশ শিক্ষায় খরচ হওয়া উচিত। সেখানে ভারতের বরাদ্দ ক্রমশ কমছে, যা উদ্বেগজনক।
কৃষক-গ্রামাঞ্চল নিয়ে উদাসীনতা?
সার ভর্তুকি কমানো নিয়েও কেন্দ্রকে তীব্র কটাক্ষ করেন অমিত মিত্র। তিনি জানান, ২০১৫-১৬ সালে মোট বাজেট ব্যয়ের ৪.০৪ শতাংশ ছিল সার ভর্তুকি। চলতি বাজেটের আনুমানিক হিসাব (BE) অনুযায়ী তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩.১৯ শতাংশে।
তাঁর অভিযোগ, কৃষক ও গ্রামাঞ্চলের মানুষের কথা ভেবে এই ভর্তুকি বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল। কিন্তু উল্টে তা কমানো হয়েছে। এতে স্পষ্ট, কৃষক স্বার্থ কেন্দ্রের অগ্রাধিকার তালিকায় নেই।
দুর্বল শ্রেণির বরাদ্দেও ছাঁটাই
সমাজের চারটি পিছিয়ে পড়া অংশ—তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি, ওবিসি ও সংখ্যালঘুদের কল্যাণে বরাদ্দ কমানোর অভিযোগও তুলেছেন অমিত মিত্র। তাঁর তথ্য অনুযায়ী,
২০১৫-১৬ সালে এই চার শ্রেণির কল্যাণে মোট বাজেটের ০.২১ শতাংশ বরাদ্দ ছিল। চলতি বাজেটে তা কমে হয়েছে ০.১৯ শতাংশ। আরও উদ্বেগের বিষয়, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের সংশোধিত হিসাব (RE)-এ এই বরাদ্দ আরও কম।
অমিত মিত্রের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার এই দুর্বল শ্রেণিগুলির প্রতি উদাসীন বলেই বরাদ্দে ধারাবাহিক কাটছাঁট করা হচ্ছে।
‘এই বাজেট কার জন্য?’
এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য তুলে ধরে অমিত মিত্র বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ঠিকই বলেছেন, এই বাজেট কৃষক-বিরোধী, যুব-বিরোধী এবং সমাজের দুর্বল শ্রেণির বিরোধী। মধ্যবিত্তদের জন্যও এতে তেমন কিছু নেই। ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, এই বাজেট আসলে কার জন্য তৈরি?
বাজেটের অঙ্ক নিয়ে অবিশ্বাস
বাজেটের পরিসংখ্যানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অমিত মিত্র। উদাহরণ হিসেবে তিনি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (শহর) প্রকল্পের হিসাব।
২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে বাজেটে এই প্রকল্পের জন্য ৩০,১৭০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সংশোধিত হিসাবে তা কমে দাঁড়ায় ১৩,৬৭০ কোটি টাকায়। চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশ হলে দেখা যায়, প্রকৃত খরচ হয়েছে মাত্র ৫,৮১৫ কোটি টাকা।
অমিত মিত্রের মন্তব্য, প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা থেকে নেমে বাস্তবে এক-ষষ্ঠাংশে দাঁড়ানো কোনও ভাবেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। বাজেটে যে ছবি মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়, বাস্তবের সঙ্গে তার বিস্তর ফারাক রয়েছে।
সব মিলিয়ে, কেন্দ্রীয় বাজেটের অঙ্ক ও অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলে অমিত মিত্র স্পষ্ট কথা, এই বাজেট সাধারণ মানুষের প্রয়োজন ও প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ।