
শেষ আপডেট: 5 January 2024 21:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্রেনের জটিল থেকে জটিলতম রোগ তাঁর হাতে আরোগ্য পেয়েছে। মৃত্যুর সঙ্গে লড়তে থাকা ব্রেন টিউমারের রোগীকে নতুন জীবন দিয়েছেন তিনি। শুধুমাত্র তাঁর উপর ভরসা রেখেই চেন্নাই, মুম্বই থেকে রোগীরা ছুটে এসেছেন তাঁর কাছে. তিনি বিশ্ববিখ্যাত নিউরোসার্জন ডা. অমিতাভ চন্দ। সজ্ঞানে ব্রেন টিউমারের অপারেশন করে তিনিই প্রথম পূর্ব ভারতে নজির গড়েছিলেন। ৩৫ বছরের কর্মজীবনের একাধিক জটিল থেকে জটিলতর অপারেশনে সাফল্য পেয়েছেন ডা. চন্দ। এবার সেইসব অভিজ্ঞতার ঝুলি বই আকারে প্রকাশ করেছেন তিনি। দেশের সফলতম নিউরোসার্জনের অভিজ্ঞতার সম্পদ একত্রিত হয়েছে ‘নিউরোসার্জনের ডায়রি’ আকারে।
শুক্রবার ‘নিউরোসার্জনের ডায়রি’ বইটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চাঁদের হাট বসেছিল। সেখানে ছিলেন সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, অধ্যাপক তথা চিকিৎসক সুকুমার মুখোপাধ্যায়, অভিনেতা চিরঞ্জিত চক্রবর্তী-সহ অনেকে। ডাক্তারবাবুর চিকিৎসায় সেরে ওঠা রোগীরাও ছিলেন সেখানে।
ডা. অমিতাভ চন্দ জানিয়েছেন, বইটি শুধু অটোবায়োগ্রাফি নয়, তাঁর বিভিন্ন রোগীর কেস স্টাডি, জটিলতম ব্রেন অপারেশনের নানা পদ্ধতি, বিভিন্ন রোগের কারণ ও তার প্রতিকারের উপায় লেখা আছে বইটিতে। নিউরোসার্জারির উপর এই বই চিকিৎসাবিজ্ঞানের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলেই মনে করেন তিনি। অনলাইন ও অফলাইন দু’ভাবেই পাওয়া যাবে বইটি।
অ্যানাস্থেসিয়া ছাড়াই সজ্ঞানে ব্রেন টিউমারের রোগীর অপারেশন করে নজির গড়েছেন তিনি। ডাক্তারবাবু বলেন, মস্তিষ্কে টিউমার অনেকের কাছেই বিভীষিকার মতো। তবে ভয় পেয়ে চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হলে কিন্তু বিপদ আরও বাড়তে পারে। মস্তিষ্কে টিউমারের কবল থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। সঠিক সময় ও সঠিক পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মস্তিষ্কের টিউমার বাদ দিয়ে রোগীকে আবার স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দেওয়া যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় ব্রেন টিউমারের রোগীর প্যারালাইসিস হয়ে গেছে। তাই সজ্ঞানে রোগীর অপারেশন করলে বোঝা যায় সার্জারির সময় কী কী বদল আসছে। সেইমতো তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
২০০৬ সালের একটি ঘটনার উল্লেখ করেন ডা. চন্দ। তিনি বলছেন, পেশায় নৃত্যশিল্পী একজন আসেন তাঁর চেম্বারে। নাচের অনুষ্ঠানে রিহার্সাল করার সময় হঠাৎই অজ্ঞান হয়ে যান। তারপর নানা সমস্যা দেখা দিতে থাকে। নানা ডাক্তারের কাছে ঘুরে তাঁর কাছে আসেন সেই রোগী। তাঁকে পরীক্ষা করেই বোঝা যায় টিউমার বাসা বেঁধেছে ব্রেনে। দেরি হওয়ার আগেই অপারেশন করা হয়। আর সেই রোগী এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। দেশ বিদেশে নাচের অনুষ্ঠান করে বেড়াচ্ছেন তিনি।
দুরারোগ্য রোগীদের বাঁচাতে যে কোনও সময়ে, যে কোনও পরিস্থিতিতে হাজির হয়েছেন ডাক্তারবাবু। দুই সন্তানের মা এক মহিলা জানান, মৃত্যুমুখ থেকে তাঁকে ফিরিয়েছেন ডাক্তারবাবু। প্রচণ্ড মাথাব্যথা নিয়ে তিনি চেম্বারে গিয়েছিলেন। ডাক্তারবাবু সেদিন ছিলেন না। জরুরি কাজে আসানসোল যেতে হয় তাঁকে। তবে তিনি কষ্ট পাচ্ছেন জেনে তিনি রাতেই ফিরে আসেন। ততক্ষণে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছিল তাঁর। বাঁচার আশা প্রায় ছিলই না। সেই অবস্থা থেকে তাঁকে নতুন জীবন দেন ডাক্তারবাবু।
সালটা ২০১২। ব্রেন টিউমার নিয়ে এক তরুণী নানা রাজ্য ঘুরে শেষে ডা. চন্দের কাছে আসেন। তাঁর টিউমার এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে পোস্ট-সার্জারি পর্বে প্যারালাইসিস হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি ছিল। ডাক্তারবাবুই প্রথম অ্যানাস্থেশিয়া না দিয়ে সজ্ঞানে সেই তরুণীর ব্রেন টিউমার অপারেশন করেন। জটিল সেই অপারেশনের পরে তরুণী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যান। পক্ষাঘাতের আর কোনও ভয়ই থাকে না তাঁর।
এমন অনেক রোগীর সেরে ওঠার কথা, তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা লেখা আছে বইটিতে। দীপ প্রকাশন থেকে বইটি ছাপা হয়েছে। দীপ প্রকাশনের প্রপাইটর শঙ্কর মণ্ডল বলছেন, “জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে উঠে এসেছে এই বই। মৃত্যুপথযাত্রী রোগীদের বেঁচে ফেরার নানা অভিজ্ঞতা লেখা আছে। ব্রেনের জটিল রোগ নিরাময়ের উপায়ও বলা আছে। আমি মনে করি আগামী দিনে এই বইটি নিউরোসার্জারির নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।”