ত্বকের যত্নে নতুন ট্রেন্ড কলার খোসা! কেউ বলছেন এটি বোটক্সের মতো কাজ করে, কেউ সন্দিহান। কী বললেন বিশেষজ্ঞ শেহনাজ হোসেন ও চর্মরোগ চিকিৎসকরা?

শেহনাজ হোসেন
শেষ আপডেট: 11 November 2025 20:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্লিনজার, সিরাম বা ফেস মাস্ক নয়, ত্বকের পরিচর্যায় নতুন জাদু দেখাচ্ছে ফেলে দেওয়া কলার খোসা! ফেলে দেওয়া একটা জিনিস যে, মুখে বোটক্সের কাজ করতে পারে, তা জানিয়েছেন ভেষজ এবং আয়ুর্বেদিক স্কিনকেয়ার পণ্যের জন্য সুপরিচিত শেহনাজ হোসেন।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ত্বকের যত্নে কলার খোসা ব্যবহারের নতুন ট্রেন্ড ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক বিউটি ইনফ্লুয়েন্সার কলার খোসার ভেতরের অংশ মুখে লাগিয়ে প্রাকৃতিক ফেস মাস্ক বা দাগ দূর করার উপায় হিসেবে দেখাচ্ছেন। কেউ কেউ বলছেন, এটি রোদে পোড়া ত্বক ঠিক করতে ও বলিরেখা কমাতেও সাহায্য করে।
তবে প্রশ্ন উঠেছে, কলার খোসা কি সত্যিই ম্যাজিকের মতো কাজ করে?
৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভেষজ এবং আয়ুর্বেদিক স্কিনকেয়ার পণ্যের জন্য সুপরিচিত শেহনাজ হোসেন এই প্রবণতা নিয়ে মুখ খুলেছেন। 'বোটক্সের মতো প্রভাব'-এর জন্য বিউটি ইনফ্লুয়েন্সারদের কলার খোসা ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, "অনেকে দাবি করছেন, কলার খোসা ত্বকে সঙ্গে সঙ্গে উজ্জ্বলতা ও টানটান ভাব আনে। কারও মতে এটি দারুণ কাজ করে, আবার কেউ বলেন কোনও পরিবর্তনই দেখা যায় না। তাই আমি বলব যে, সঠিকভাবে ব্যবহার ও এর উপকারিতা জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।"
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ প্রবীন বানোদকর (MBBS, DNB) জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যে কোনও কিছুই যে বৈজ্ঞানিকভাবে সত্যি, তা বলা যায় না। তাঁর কথায়, অনেক সময় ‘আগে ও পরে’র ছবি তৈরি করে আলো, ফিল্টার বা ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল ব্যবহার করা হয়, যা মানুষকে ভুল ধারণা দিতে পারে।
শেহনাজ হোসেনও একমত হয়ে বলেন, “কলার খোসা ব্যবহারের পক্ষে কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে অনেকের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, এটি বলিরেখা কমাতে, চোখের নীচের দাগ হালকা করতে সাহায্য করে।”
শেহনাজ হোসেন আরও বলেন যে, "কলার খোসা সঠিকভাবে ব্যবহার করলে ত্বককে উজ্জ্বল ও সতেজ দেখাতে পারে। তবে ব্যবহারের আগে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।"
তিনি সতর্ক করে দেন, "কলার খোসা ব্যবহারের আগে অবশ্যই আপনার চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করুন, যদি আপনার কলা বা এর মধ্যে থাকা কোনও উপাদানে অ্যালার্জি থাকে। তাহলে এড়িয়ে যাওয়াই ভাল।"
কীভাবে ব্যবহার করবেন?
কলার খোসায় রয়েছে ভিটামিন সি, বি৬ এবং প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ত্বকের কোষকে ক্ষয় থেকে রক্ষা করে। এটি বলিরেখা কমিয়ে চামড়ায় প্রাকৃতিক টান এনে দেয়। বয়সের ছাপ, দাগছোপ ও নিস্তেজভাব দূর করে ত্বককে করে তোলে ঝলমলে।
কলার খোসা ও ডিমের কুসুম একসঙ্গে ব্লেন্ড করে ফেসপ্যাক বানান। মুখে লাগিয়ে ৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২-৩ বার ব্যবহার করলে ত্বক হবে মসৃণ ও টানটান।
ডার্ক সার্কেল ও পাফিনেস কমাতে কলার খোসা অত্যন্ত কার্যকর। এর ভেতরের পুষ্টিগুণ রক্তসঞ্চালন বাড়ায়। চোখের নীচে কলার খোসার ভিতরের দিকটি হালকা করে ঘষে নিন, অথবা অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে লাগাতে পারেন।
কলার খোসায় থাকা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ও প্রদাহনাশক উপাদান ত্বকের প্রদাহ ও সংক্রমণ রোধ করে। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং ব্রণ বা ব্রেকআউটের প্রবণতা কমায়। কলার খোসা সরাসরি ব্রণর উপর ঘষুন, অথবা সামান্য লেবুর রসের সঙ্গে পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগান। ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহার করলে শীতের মরসুমেও ত্বক থাকবে পরিষ্কার।