
ত্বকের যত্নে কাঁচা দুধের ব্যবহার
শেষ আপডেট: 6 April 2025 18:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোশ্যাল মিডিয়ায় মাঝে মাঝেই নানা রকম স্কিনকেয়ার (skin care) টিপস ভাইরাল হয়। তার মধ্যে বেশি যেটা নিয়ে সবাই কথা বলে তা হল প্রাকৃতিক উপাদান (natural ingredient) দিয়ে তৈরি কোনও রূপটান। তাও যদি এমন কিছু হয় যেটা রয়েছে বাড়ির রান্নাঘরেই, তাহলে তো কথাই নেই।
কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিশেষজ্ঞরা প্রাকৃতিক উপাদানের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে থাকেন। তাও শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকেই চোখ বুজে ব্যবহার করে থাকেন সেসব। তেমনই এক উপাদান হল কাঁচা দুধ (raw milk)। সেখানে বলা হচ্ছে মুখে ব্রণর দাগ থাকলে কাঁচা দুধের ব্যবহারে (raw milk use) তা হালকা হতে থাকবে।
বলিউড সেলিব্রিটিদের মধ্যেও অনেকে ভরসা করে থাকেন কাঁচা দুধের ওপর। অভিনেতা শাহিদ কাপুরের স্ত্রী মীরা রাজপুত কাপুর তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে বলেছেন তাঁর রূপচর্চায় কাঁচা দুধের ব্যবহারের কথা। অভিনেত্রী শোভিতা ধুলিপালাও এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন তিনি এই একই জিনিস পছন্দ করেন।
অনেকের মতে ত্বকের পরিচর্যায় কাঁচা দুধের ব্যবহারের বেশ কিছু ভাল দিক রয়েছে। দুধের মধ্যে থাকা ল্যাক্টিক অ্যাসিড ত্বককে এক্সফোলিয়েট করে ঔজ্জ্বল্য আনে। ট্যান ও দাগছোপ দূর করে। ত্বককে নরম রাখতে সাহায্য করে। ব্রণর জন্য দায়ী ব্যাক্টেরিয়াগুলোকে ত্বক থেকে সরিয়ে দেয়। কিন্তু এই সব কিছুই ধারণার ওপর ভিত্তি করে চললেও এর কোনও বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা নেই সেইভাবে।
ত্বক বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন রূপচর্চায় (skin care) কাঁচা দুধের ব্যবহার নিয়ে?
কলকাতার কেরাডার্ম ক্লিনিকের সেলিব্রিটি কসমেটোলজিস্ট ডক্টর মাহনাজ জাহান বেগমের কথায়, দুধের মধ্যে থাকা ক্রিম অনেকসময় ত্বকের পোরসের মুখ বন্ধ করে দিতে পারে। তৈলাক্ত ত্বকে আরও সমস্যা বাড়তে পারে।
ডাক্তাররা আরও বলছেন, কাঁচা দুধ যেহেতু পাস্তুরাইজেশন করা নয়, এতে নানা রকম ব্যাক্টেরিয়া থাকতে পারে। ফলে ত্বকে ইরিটেশন বা ইনফেকশন হতে পারে। ব্রণ রয়েছে যে ত্বকে, সেই ক্ষেত্রে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
কাঁচা দুধের সরাসরি ব্যবহারের থেকে বেশি উপকার হতে পারে যদি দুধের গুণাগুণ সম্পন্ন স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করা যায়, যেমন, ল্যাক্টিক অ্যাসিড সেরাম, সেরামাইড ময়েশ্চারাইজার বা প্রোবায়োটিক-ইনফিউসড প্রোডাক্ট।
তাই বলা যেতে পারে, কাঁচা দুধ বা যে কোনও প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করলে বেশিরভাগ সময় অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন দেখা দিতে পারে। এক এক জনের ত্বকে এর এক এক রকম প্রভাব পড়তে পারে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাই এই ধরনের কিছু ট্রেন্ড চোখ বুজে ফলো না করে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।