এখন তো বাঙালি পরিবারেও ঢুকে পড়েছে অবাঙালি নানা রীতিনীতি। তাই সেই আবেগের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখন মেহেন্দি-ও।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 19 June 2025 15:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রঙিন আলো দিয়ে গোটা বাড়ি সাজানো, নহবতে সানাইয়ের সুর, নতুন লেহেঙ্গা হোক বা বেনারসি- সবার মনে খুশি, এটা এমনই এক দিন। বিয়ের দিনটা শুধু কোনও মেয়ে নয়, গোটা পরিবারের কাছে এক আবেগ। এখন তো বাঙালি পরিবারেও ঢুকে পড়েছে অবাঙালি নানা রীতিনীতি। তাই সেই আবেগের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখন মেহেন্দি-ও।

যতটা না রূপচর্চা, তার চেয়েও অনেক বেশি ঐতিহ্য আর অনুভূতির ছোঁয়া থাকে মেহেন্দির প্রতিটা নকশায়। আসলে মেহেন্দির মধ্যেও লুকিয়ে থাকে গল্প। ফলে বেশ কিছুটা বেছেই মেহেন্দি পরতে হবে।

সাজঘরে বসে কনে যখন হাতে মেহেন্দি পড়ছেন, হয়তো তখন বাইরে ঘরে জমে উঠেছে মেহেন্দি অনুষ্ঠান ঘিরে নাচগান। কিন্তু ভিতরে চলতে থাকে এক গোপন ভাবনার খেলা। মেহেন্দির প্রতিটি দাগে কনে যেন আঁকেন নিজের গল্প- ভবিষ্যতের স্বপ্ন, ভালবাসার রং আর নতুন জীবনের কল্পনা।

অনেকে নিজের হবু বরের নাম লুকিয়ে রাখেন হাতে। কেউ কেউ নকশার মধ্যে আঁকেন দুই চরিত্রকে। বর-কনে মুখোমুখি, হাত ধরাধরি করে দাঁড়িয়ে- মেহেন্দি যেন হয়ে ওঠে এক লুকোনো প্রেমপত্র, শুধু কাছের মানুষের চোখেই যার আসল মাধুর্য ফুটে উঠবে বাসর রাতে।

সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু পাল্টেছে। তবে বিয়ের মেহেন্দিতে আজও ‘ক্লাসিক’ ডিজাইনই সবচেয়ে জনপ্রিয়। ফুলের প্যাটার্ন, পাতার জাল, ময়ূরের পালক, ঘণ্টা বা মন্দিরের নকশা—এই সবই কনের হাতে এক অনন্য সৌন্দর্য এনে দেয়।

পুরো হাতজুড়ে ভরা মেহেন্দি আজও বেশি পছন্দের। অনেকেই পা পর্যন্ত মেহেন্দি পড়েন, যাতে সাজের সঙ্গে রয়ে যায় সেই ঐতিহ্যর টানটুকু।