
শেষ আপডেট: 21 March 2025 15:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহম্মদ ইউনুস Md Yunus) সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শেখ মুজিবুর রহমান (Sheikh Mujibur Rahman) বাংলাদেশের জাতির পিতা নয় (Father of the nation, Bangladesh)। জয় বাংলা (Joy Bangla) নয় জাতীয় স্লোগান। এবার মুক্তিযোদ্ধার (list of freedom fighters) তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠনের মূল কারিগর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর প্রধান চার সহযোগী সাবেক সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, মুহম্মদ মনসুর আলি এবং আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামারুজ্জামান। এঁদের মধ্যে সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গঠিত স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি। তাজউদ্দিন ছিলেন সেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী।
১৯৭২ সালে মুক্তিযুদ্ধ শেষে নতুন সরকার যাত্রা শুরুর পর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়। তাতে
১ হাজার ৩৬১ জনকে ‘লাল মুক্তিবার্তা স্মরণীয় যারা বরণীয় যারা’ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই তালিকায় ময়দানে অস্ত্র হাতে লড়াই করা সেনাবাহিনীর লেকজন ছাড়াও শেখ মুজিব সহ রাজনৈতিক নেতৃত্বের নাম ছিল। ছিল স্বাধীন দেশের সংবিধান রচনার উদ্দেশে গঠিত গণপরিষদ (Gana parishad) সদস্যদের নাম। ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচন বিজয়ী জাতীয় ও প্রাদেশিক আইনসভায় নির্বাচিত সকল সদস্যই গণপরিষদের সদস্য ছিলেন।
ইউনুস সরকার সিদ্ধান্ত করেছে, ময়দানে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করা সৈনিককরাই শুধু মুক্তিযোদ্ধা (Mukti Yodhya) বলে স্বীকৃতি পাবেন। বাকিদের মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী বলে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
সেই মতো মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অদলবদল করা হচ্ছে। এরফলে জীবিতদের অনেকেরই যেমন মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বাতিল হবে, তেমনই মরণোত্তর পরিচয় বদল হবে শেখ মুজিবুরসহ বহু নেতার।
মুক্তিযুদ্ধের এতদিনের চালু তালিকায় মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে দেশে দেশে প্রচার, ভারতের মাটিতে প্রশিক্ষণ নেওয়া, স্বাধীন বাংলা বেতার (Swadhin Bangla Betar) কেন্দ্রে কাজ করা কর্মীদের নাম ছিল। নাম ছিল কলকাতা থেকে চলা স্বাধীন বাংলা সরকারের কর্মচারীদের।
এই মানদণ্ড পুরো বদলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মহম্মদ ইউনুসের সরকার। নতুন মানদণ্ড অনুযায়ী শেখ মুজিব হয়ে যাবেন মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী আর ময়দানে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করায় জিয়াউর রহমানের (Ziaur Rahaman) মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বহাল থাকবে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম জানিয়েছেন, মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক আইন সংশোধনের সুপারিশ করেছিল। সেই মতো তালিকা অদলবদলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আইন মন্ত্রক সায় দিলে মুক্তিযোদার তালিকা বদলে যাবে।
ইউনুস সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের অনেকে। তাঁদের অন্যতম শিক্ষাবিদ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, মহান মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান ও স্বীকৃতি নিয়ে কাটাছেঁড়া করা অনুচিত। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর এই বিষয়ে গবেষণা নিষ্প্রয়োজন। সরকারের সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছেন বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল।
বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক কে, শেখ মুজিব নাকি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, তা নিয়ে সে দেশে তীব্র বিবাদ, বিতর্ক আছে। বিএনপি সমর্থকেরা দাবি করে থাকেন, স্বাধীনতার ঘোষণা জিয়াউর রহমান দিয়েছিলেন। আওয়ামী লিগ নেতাদের অভিযোগ, জিয়াউর রহমানকে মহিমান্বিত করতেই মুক্তিযোদ্ধার নতুন মানদণ্ড তৈরি করে স্বাধীনতার জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অসম্মান করা হচ্ছে।