.webp)
শেষ আপডেট: 21 October 2024 22:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র তিনি দেখেননি। রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিনের এই বক্তব্য মানতে নারাজ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের প্রশাসন। রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র তিনি দেখেননি। তাঁর কাছে পদত্যাগের কপি নেই। সোমবার সকালেই দ্য ওয়াল-এ এই সংক্রান্ত খবরে বলা হয়েছিল, রাষ্ট্রপতির কথায় বেজায় চটেছে অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস যে সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরাতে চান একাধিকবার সে কথাও। লেখা হয় দ্য ওয়াল-এ।
রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া দিতে সোমবার ঢাকায় সাংবাদিক বৈঠক ডেকে ইউনুসের তরফে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, 'রাষ্ট্রপতি এই মন্তব্য প্রত্যাহার না করলে তিনি ওই পদের জন্য উপযুক্ত কিনা উপদেষ্টামণ্ডলী তা খতিয়ে দেখবে।' এইভাবে রাষ্ট্রপতিকে প্রকারান্তরে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয়। স্পষ্ট করা হয়, সরকার তাঁর অপসারণ চায়।
আসিফ নজরুল এমন স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর রাতে রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিনের তরফে সুর নরম করে আপসের বার্তা দেওয়া হয়। বঙ্গ ভবনের তরফে প্রেস বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, শেখ হাসিনার পদত্যাগ সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে সংবাদমাধ্যমে চলমান বিতর্কের এবার অবসান হোক।
এর আগে আসিফ নজরুল রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ করে বলেন, সংবিধানে বলা আছে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকা দরকার। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে তিনি এখন উল্টো কথা বলছেন।
আসলে ৫ অগাস্ট রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন। তিনি তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। সরকার প্রশ্ন তুলেছে জাতির উদ্দেশে ভাষণে পদত্যাগপত্র গ্রহণের কথা বলার পর রাষ্ট্রপতি এখন উল্টো কথা বলছেন কেন।
আসলে শেখ হাসিনা নিজেই দেশ ছাড়ার পর দাবি করেছিলেন, তিনি পদত্যাগ করেননি। সাংবিধানিকভাবে তিনিই এখনও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের উপর আগে থেকেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস চটে আছেন। ছাত্র নেতৃত্বের তাঁর উপর চাপ আছে সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরানোর। এজন্য ছাত্ররাও সাহাবুদ্দিনের অপসারণ চেয়ে আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
প্রশ্ন হল, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন কেন বলেছিলেন তিনি শেখ হাসিনার পদত্যাগ গ্রহণ করেছেন। এর পিছনে দুটি কারণ থাকতে পারে। এক. সেনাসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী মহল থেকে তাঁকে ওই কথা বলতে বাধ্য করা হয়েছিল। দুই. সাংবিধানিক বিধি রক্ষা করতেই ওই কথা তাঁকে বলতে হয়েছিল। কারণ, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন না বললে নতুন সরকার গঠন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এখন দেখার রাষ্ট্রপতির গদি সাহাবুদ্দিন কতদিন টেকাতে পারেন।