গোপালগঞ্জ (Gopalgonj) ও টুঙ্গিপাড়ার Tungipara) অস্তিত্ব মুছে ফেলার প্রস্তাব বিবেচনা করছেন মহম্মদ ইউনুস (Md Yunus)।

শেষ আপডেট: 19 July 2025 16:37
গোপালগঞ্জ (Gopalgonj) ও টুঙ্গিপাড়ার Tungipara) অস্তিত্ব মুছে ফেলার প্রস্তাব বিবেচনা করছেন মহম্মদ ইউনুস (Md Yunus)। ঢাকা ডিভিশনের অন্তর্গত গোপালগঞ্জ হল একটি জেলা। গোপালগঞ্জের একটি উপজেলা হল টুঙ্গিপাড়া। শেখ মুজিবুর (Sheikh Munib) রহমানের জন্মস্থান হওয়ায় বাংলাদেশের অস্তিত্বের সঙ্গে জুড়ে আছে এই জেলা ও উপজেলার নাম। টুঙ্গিপাড়ার কৃতি সন্তান তিনি। সেখানেই পৈত্রিক ভিটায় রয়েছে তাঁর সমাধি। টুঙ্গিপাড়া শেখ হাসিনারও ( Sheikh Hasina) জন্মস্থান।
জেলা গোপালগঞ্জ ও উপজেলা টুঙ্গিপাড়ার অস্তিত্ব বিলোপ করে লাগলো জেলা, উপজেলাগুলির সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার দাবি ওঠে গত ১৬ জুলাইয়ের পর। ওই দিন জাতীয় নাগরিক পার্টির মার্চ টু টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ কর্মসূচি একপ্রকার ভেস্তে যায় আওয়ামী লিগ, বিশেষ করে ছাত্র লিগের প্রবল প্রতিরোধের মুখে।
এনসিপি ওইদিন সমাজমাধ্যমে মুজিবের সমাধি ভাঙার ডাক দিয়েছিল। পাল্টা আওয়ামী লিগ ঘোষণা করে বঙ্গবন্ধুর মাজারে কেউ টোকা দিলে সে আর হাত নিয়ে ফিরতে পারবে না।
এই প্রেক্ষাপটে সেনা ও পুলিশের ঘেরাটোপে নমো নমো করে সভা শেষ করে ঢাকা ফেরার পথে প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়েন এনসিপি নেতারা। শেষপর্যন্ত ঢাকা ফিরতে না পেরে সেনাবাহিনীর ট্যাঙ্কের ভিতরে লুকিয়ে খুলনা চলে যেতে হয় তাঁদের।
তারপর থেকেই এনসিপির নেতা ও সমর্থকেরা বলা শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশে এখনও পরাধীন গোপালগঞ্জ। গোটা বাংলাদেশকে আওয়ামী লিগ তথা ফ্যাসিস্ট মুক্ত করা গেলেও গোপালগঞ্জ এখনই সাবেক শাসক দলের মুক্তাঞ্চল। গত বছর ৫ অগস্ট হাসিনা সরকারের পতন হলেও গোপালগঞ্জে বিএনপি-এনসিপি-জামাত-সেনা-পুলিশ কোনও সুবিধা করতে পারেনি। ১৬ জুলাই বুধবার আওয়ামী লিগের প্রতিরোধ ভাঙতে শেষে নির্বিচারে গুলি চালায় সেনাবাহিনী। সরকারি হিসাব অনুযায়ী মারা গেছেন পাঁচ জন।
যদিও ময়না তদন্ত না করে জোরপূর্বক অন্তেষ্টি করায় গুলিতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়নি। তবে টেলিভিশন চ্যানেলের ভিডিওতে দেখা গেছে কীভাবে সেনা বিক্ষোভকারীদের দেহ লক্ষ্য করে গুলি করছে।
তারপরও আওয়ামী লিগের প্রতিরোধ শক্তি দেখে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয় শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে গোপালগঞ্জবাসীর আবেগ সবচেয়ে আগে দমন করা দরকার। আর সে জন্য সবচেয়ে আগে গোপালগঞ্জ ও টুঙ্গিপাড়া নাম মুছে দেওয়া দরকার। তাতে পিছন থেকে মদত দিচ্ছে জামাত ও বিএনপি। গোপালগঞ্জ নিয়ে আওয়ামী লিগের মাতামাতি নিয়ে অতীতে একাধিকবার অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া। বলা হয় বাংলাদেশে তাঁর মতো মুজিব বিরোধী মানুষ দ্বিতীয় কেউ নেই। তিনি মুজিব হত্যার দিন অর্থাৎ ১৫ অগস্ট ঘটা করে নিজের জন্মদিন পালন করেন। যদিও ১৫ অগস্ট তাঁর জন্মদিন, এমন কোনও নথি তিনি কখনও দেখাতে পারেননি।
এদিকে, মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার কয়েকশো প্রতিষ্ঠান, জায়গার নাম বদল করেছে বিগত সাড়ে এগারো মাসে। সেগুলি মুজিব ও হাসিনার নামে ছিল। এখন জাতির পিতার জন্মস্থান ও জন্ম জেলার নাম বদলের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশে অবশ্য শুধু গোপালগঞ্জ নয়, আরও কয়েকটি জেলা আছে যেখানকার মানুষ নেতাকে পরম শ্রদ্ধার আসনে বসিয়ে রেখেছেন। যেমন উত্তর প্রান্তের জেলা বগুরার সিংহভাগ মানুষ প্রয়াত জিয়াউর রহমানের প্রতি অনুগত। বিএনপি সেখানে কলাগাছ দাঁড় করালেও জিতবে। একইভাবে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নামে জাতীয় পার্টিকে ভোট দেয় রংপুরের মানুষ।
জামাত-বিএনপি-এনসিপির দাবি এবং সরকারের ভাবনা নিয়ে আওয়ামী লিগের এক বর্ষীয়ান নেতা বলেন, কাগজে কলমে নাম, অস্তিত্ব বদল করা হলেও মানুষের মন থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলা যাবে না।যেমন সরকারিভাবে নিষিদ্ধ ছাত্র লিগ গোপালগঞ্জে বিরোধীদের রুখে দিয়েছে।