
সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 18 December 2024 22:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার দেশের জন্মের ইতিহাস মুছে দিতে চাইছে বলে অভিযোগ সাবেক শাসক দল আওয়ামী লিগের। সে দেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঘটনার প্রেক্ষিতে আওয়ামী লিগের যুগ্ম সম্পাদক সাধারণ আফম বাহাউদ্দীন নাছিম বুধবার দলের তরফে লম্বা বিবৃতি দিয়েছেন।
আওয়ামী লিগ মনে করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঘটনা বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে দেওয়ার পরিকল্পনার একটি দৃষ্টান্ত। সরকারের অন্ধ সমর্থকেরা ওই ঘটনা ঘটিয়েছে। মঙ্গলবার রাতে সেখানে ছাত্র লিগের দুই নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আওয়ামী লিগের অভিযোগ ওই দুই ছাত্র সংগঠক জয় বাংলা স্লোগান দেয় এবং দেওয়ালে তা লিখেছিল। এই কারণে তাঁদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
আওয়ামী লিগের ওই নেতা বলেছেন, ফ্যাসিস্ট ইউনুসের নেতৃত্বে এই সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশ আওয়ামী লিগের নেতাকর্মীসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণকারী প্রগতিশীল ব্যক্তিদের উপর একচেটিয়া নির্যাতন-নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। কখনও রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে, আবার কখনও রাষ্ট্রক্ষমতার প্রচ্ছন্ন সমর্থনে দেশবিরোধী ও স্বাধীনতাবিরোধী উগ্র-সাম্প্রদায়িক শক্তির আস্ফালন দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক এই সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ এবং সেটা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সরকার উদাসীন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি গভীরভাবে সংকটাপন্ন। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানসহ অন্যান্য জাতি ও সম্প্রদায়ের মানুষের উপর নির্মম নির্যাতন-নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। অবৈধ দখলদার সরকার নানা উপায়ে মেরুকরণের মাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রতি পক্ষপাত দুষ্টু হয়ে বিভেদের বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে। তারা দেশের বিরুদ্ধে দেশ, সমাজের বিরুদ্ধে সমাজ, সময়ের বিরুদ্ধে সময়, ইতিহাসের বিরুদ্ধে ইতিহাসকে দাঁড় করানোর অপচেষ্টা করছে। তাদের এই অপতৎপরতা বাস্তবায়নে এমন কোনও হীন পন্থা নেই যে তারা অবলম্বন করছে না।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট ইউনুসের নেতৃত্বে অবৈধ দখলদার সরকার বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাস মুক্তিযুদ্ধকে টার্গেট করেছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলতে তারা সব উপায় অবলম্বন করছে। যে কারণে আঘাতটা এসেছে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধের প্রতি সংবেদনশীল মানুষ এটা মেনে নিচ্ছে না। তারা এই অপতৎপরতার বিরুদ্ধে লড়াই জারি রেখেছে। অথচ সরকার তাদের বাক স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার অপচেষ্টায় ব্যস্ত, তাদের কণ্ঠস্বর রুদ্ধ করতে চায়। আমরা ইতিহাসের পরতে পরতে দেখতে পাই, বাংলা মায়ের কোমল কোলে বেড়ে ওঠা দামাল ছেলেরা রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে সর্বদা দানবীয় শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম করে নিজেদের অধিকার ছিনিয়ে এনেছে। বার বার বুকের তাজা রক্ত দিয়ে উষর হয়ে যাওয়া মাটিকে উর্বরতা দান করেছে, মানবিক গণতান্ত্রিক রাজনীতির চাষাবাদ করেছে। এই সরকার যখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে চলেছে, 'জয় বাংলা'-কে জাতীয় স্লোগান থেকে বাদ দিয়েছে তখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে তরুণ-যুবারা শহর, নগর, বন্দর, গ্রামগঞ্জ ও হাটবাজারে 'জয় বাংলা' শুব্দযুগল লেখে সমগ্র বাংলাদেশ ছেঁয়ে দিচ্ছে। তারা কোনও অন্যায় বা বেআইনি কাজ করছে না।
'জয় বাংলা' স্লোগানের পক্ষে তাদের দৃঢ়তার জানান দিচ্ছে। অথচ সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে তাদের উপর নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সন্ত্রাসীরা হামলা করছে, রাষ্ট্রীয়ভাবে দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে দেয়ালে 'জয় বাংলা' লেখার অপরাধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইলেকট্রনিক বিভাগ ছাত্র লিগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা এবং নাচোল উপজেলা ছাত্র লিগের কর্মী রায়হানকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শুধু তাই-ই নয়, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, শারীরিকভাবে নির্যাতন চালিয়ে মারাত্মক জখম করছে, অন্যায় ও অন্যায্যভাবে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হচ্ছে। এই জাতীয় আক্রমণ থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লিগের নারী নেত্রীরাও রেহাই পাচ্ছেন না।
আমরা বাংলাদেশ আওয়ামী লিগের পক্ষ থেকে এই সকল অন্যায়, অবিচার ও বেআইনি অপতৎপরতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এই সরকার যে শুধু রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে বিভেদের বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে, তাই নয়, সমগ্র জাতিকে বিভক্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ফলে দেশের জনগণ একটা শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মধ্যে দিনাতিপাত করছে। এমনকী আলেম সমাজের মধ্যেও বিভেদের কার্ড খেলা হচ্ছে। যার ফলে আজ বিশ্ব ইজতেমা পালন করতে গিয়ে অনেককে জীবন দিতে হয়েছে। আমরা জাতি ধ্বংসের এই অপচেষ্টা থেকে সরকারকে সরে আসার দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দেশপ্রেমিক জনগণকে জাতির ক্রান্তিকালে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হওয়ার আবেদন জানাচ্ছি।