বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুসের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের ওপর উগ্র ইসলামিক সংগঠনগুলিকে মদত দেওয়ার অভিযোগ তুলল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন রাইটস অ্যান্ড রিস্কস অ্যানালিসিস গ্রুপ।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 29 October 2025 00:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস সে দেশের সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে উগ্র ইসলামিক জিহাদি সংগঠন গুলিকে মদদ দিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন রাইটস অ্যান্ড রিস্কস অ্যানালিসিস গ্রুপ (আরআরএজি-RRAG)। মঙ্গলবার বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের কঠোর নিন্দা করে আরআরএজি'র পরিচালক সুহাস চাকমা বলেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিচার বিভাগকে লাগামহীনভাবে ব্যবহার করার সুযোগ দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা।
আরআরএজি'র অভিযোগ গত ২৩ অক্টোবর, মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমর্থনে কয়েকটি ইসলামপন্থী সংগঠন যৌথভাবে ঢাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। সেখানে তারা আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের (ইস্কন – ISKCON) উপর সারাদেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানায়। ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী ছাত্ররা উসকানিমূলক স্লোগান দেয় এবং ইস্কন সদস্যদের ‘ভারতের এজেন্ট’ আখ্যা দিয়ে তাদের গ্রেপ্তার ও বাংলাদেশ থেকে বিতাড়নের দাবি তোলে।
সেদিনই হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশও একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে একই মিথ্যা অভিযোগ পুনরাবৃত্তি করে এবং ইস্কন নিষিদ্ধ করার দাবি জানায়। ঢাকায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ ও শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়, যা সাম্প্রদায়িক উস্কানি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
আরআরএজি–এর পরিচালক সুহাস চাকমা আরও বলেন, 'উদ্বেগজনকভাবে, আল-কায়েদা-সংযুক্ত আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (ABT) সাবেক নেতা জসিমউদ্দিন রহমানী—যিনি ব্লগার রাজীব হায়দার হত্যাকাণ্ডসহ সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত—তাকে বায়তুল মোকাররমের বিক্ষোভে অংশ নিতে দেখা গেছে। চরমপন্থী এই নেতার প্রকাশ্য পুনরুত্থান প্রমাণ করে যে ইউনুসের সরকার উগ্র ইসলামপন্থী শক্তিগুলোর প্রতি সহানুভূতিশীল।'

অন্যদিকে, ২৪ অক্টোবর বাংলাদেশ সেনাবাহিনী খাগড়াছড়ি জেলার বর্মাছড়ি এলাকার আর্য কীর্তি বৌদ্ধ বিহারের জমি জোরপূর্বক দখল করে সেখানে একটি অস্থায়ী সেনা শিবির স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। এর আগে, ২৮ সেপ্টেম্বর একই জেলায় গুইমারা এলাকায় সেনাবাহিনী তিনজন নিরপরাধ যুবককে গুলি করে হত্যা করে, যখন তারা ১৪ বছর বয়সি এক নাবালিকাকে গণধর্ষণকারী তিনজন মুসলিম বসতি স্থাপনকারীর গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতিবাদ জানাচ্ছিল। এ ধরনের ঘটনাগুলি আদিবাসী মেয়েদের ওপর ক্রমবর্ধমান যৌন সহিংসতা ও বিচারহীনতার প্রতি জন অসন্তোষ বাড়িয়ে তুলেছে। এর মধ্যে রয়েছে চলতি বছরের ৫ মে বান্দরবানের থানচিতে খিয়াং জনগোষ্ঠীর এক নারীকে গণধর্ষণ ও হত্যা, এবং জুলাই মাসে খাগড়াছড়ির ভাইবোনছড়ায় এক ত্রিপুরা হিন্দু স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনা।
সুহাস চাকমা বলেন, 'দেশজুড়ে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। ২১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র শ্রীশান্ত রায়কে তাঁর একটি পোস্টের মাধ্যমে ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ দেওয়ার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করেছে এবং ২২ অক্টোবর ঢাকার মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট সাইবার সিকিউরিটি অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর অধীনে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। আরআরএজি'র বক্তব্য, এই ঘটনা প্রমাণ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিচারব্যবস্থাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।