
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 22 February 2025 08:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে (Bangladesh) শুক্রবার মাতৃভাষা দিবসের (mother language day) একাধিক অনুষ্ঠানে মৌলবাদীরা (fundamentalist forces?) হামলা চালিয়েছে অন্যদিকে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপনে রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচার ভঙ্গের অভিযোগ নিয়ে বাদ-প্রতিবাদ চলছে। সেখানে রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন (President Md Sahabuddin) শ্রদ্ধা জ্ঞাপন এর সময় পাশে ছিলেন না সরকার প্রধান মোহাম্মদ ইউনুস (Md Yunus) বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচার হল রাষ্ট্রপ্রধান অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি এই ধরনের জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিলে সরকার প্রধান তাঁকে স্বাগত ও বিদায় জানাবেন। অনেকেই অভিযোগ করছেন রাষ্ট্রপতিকে অসম্মান করতে মাঝপথে সরে যেতে ইউনুস সরকার পরিকল্পনা করেই সাহাবুদ্দিনকে বয়কটের পথে হেঁটেছে।
আওয়ামী লিগ এক বিবৃতিতে বলেছে, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা মাতৃভাষার সম্মান রক্ষার্থে শহিদ হয়। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষা পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মর্যাদা প্রাপ্ত হয়। আর এই ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশের প্রথম সোপান। এরই ধারাবাহিকতায় ইতিহাসের পথ-পরিক্রমায় ১৯৭১ সালে বাঙালি জাতি সুমহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বদেশভূমি শত্রুমুক্ত ও স্বাধীন করে। বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতিটি ধাপে ভাষা আন্দোলনের অনুপ্রেরণা অনস্বীকার্য। তাই বাঙালি জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে দিবসটি স্মরণ করে আসছে এবং ভাষার জন্য বাঙালির এই আত্মত্যাগ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি প্রাপ্ত।
কিন্তু এ বছর অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের ক্ষেত্রে দেশবাসী সম্পূর্ণ এক নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলো। একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধান একই সঙ্গে শ্রদ্ধা নিবেদন ছিল বিগত বছরগুলিতে অলিখিত রীতি। সেই রীতি ভঙ্গ করেছে ইউনুস সরকার। রাষ্ট্রপ্রধান শ্রদ্ধা নিবেদনের ১০ মিনিট পর সরকার প্রধান শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শুধু রীতিগত এই বিষয় নয়, শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের পুরো বিষয়টিই একটি ভিন্ন আবহের মধ্য দিয়ে ঘটে। প্রতি বছরের ন্যায় প্রভাতফেরি সহকারে শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসা মানুষের ঢলও তেমন চোখে পড়েনি। চির আবেদন সৃষ্টিকারী সেই অমর গান ' আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি ' তেমন বাজানো হয়নি। একুশে ফেব্রুয়ারিতে বইমেলায় উপচে পড়া ভিড় এবার দেখা গেল না।
অমর একুশের কর্মসূচি পালনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠীর কোনও দরদ ছিল না। তারা শুধু দায়সারা গোছের কর্মসূচি পালন করেছে। কারণ খুনি ফ্যাসিস্ট ইউনুস সরকারের দেশবিরোধী অপশক্তি ও উগ্র-জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর প্রতি বিশেষ দুর্বলতা আজ দিবালোকের মতো স্পষ্ট। তারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই অশুভ শক্তিকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছে। তার প্রতিফলন একুশে ফেব্রুয়ারিও ঘটেছে।
আওয়ামী লিগ বলেছে, দেশের বিভিন্ন জায়গায় শহিদ মিনার ভাঙ্গা হয়েছে। শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে শহিদ বেদিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গ্রুপ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। অবৈধ ইউনূস সরকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে এবং জানমালের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। দেশব্যাপী খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, ডাকাতি, ছিনতাই ও রাহাজানি লাগামহীনভাবে চলছে।
সম্প্রতি প্রায় ৫০জন যাত্রী নিয়ে রাজশাহীগামী একটি বাসে ডাকাতির পাশাপাশি কমপক্ষে দুজন নারী ধর্ষণের শিকার হয়। ইউনূস বাংলাদেশকে খুনের দেশ, ধর্ষণের দেশ, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের দেশে রূপান্তরিত করেছে।
অন্যদিকে রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কর্মীদের নির্বিচারে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। অথচ শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ফুল সংগ্রহ করতে যাওয়া চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের শিকার হতে হয়। এই অবৈধ অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক ফ্যাসিস্ট ইউনুস সরকার জানমালের নিরাপত্তা দিতে পারছে না।