নির্বাচন শেষ হলেই অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর করবে বলে ঘোষণা মহম্মদ ইউনুসের। বর্তমান রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন সরে গেলে কি রাষ্ট্রপতি হবেন ইউনুস? বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা।
.jpeg.webp)
ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 10 February 2026 22:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে সংশয় মুক্ত থাকতে দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। তিনি বলেছেন নির্বাচন শেষ হওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছেন মহম্মদ ইউনুস। মনে করা হচ্ছে, প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে মঙ্গলবার রাতেই ছিল প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে তাঁর শেষ ভাষণ।
তিনি বলেছেন নির্বাচনের পর বাংলাদেশ সম্পূর্ণ বদলে যাবে। এক নতুন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বাংলাদেশ। নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হবে বলে দাবি করার পাশাপাশি ইউনুস বলেছেন মঙ্গলবার পর্যন্ত এবারের নির্বাচন নজির তৈরি করেছে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকায়।
তিনি অনুযোগ করেন, নতুন করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নাকি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে না। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও পরিকল্পিত অপপ্রচার, যার একমাত্র উদ্দেশ্য হল দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে বিঘ্ন সৃষ্টি করা। আপনারা নিশ্চিত থাকুন, নির্বাচনে বিজয়ী জনপ্রতিনিধিদের কাছে দ্রুততম সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তার দায়িত্ব সমাপ্ত করবে।’
প্রধান উপদেষ্টার এই ঘোষণার আগে থেকেই তাঁকে নিয়ে জল্পনা আছে এরপর তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হতে পারেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন মাস দেড়েক আগে এক সাক্ষাৎকারে ঘোষণা করেন, ভোটের পর তিনি নবনির্বাচিত সাংসদদের শপথ পাঠ করিয়ে বঙ্গভবন থেকে বিদায় নেবেন।
বাংলাদেশের মেয়াদ শেষের আগে একাধিক রাষ্ট্রপতি বিদায় নিয়েছেন। সাহাবুদ্দিন আভাস দিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তিনি প্রাপ্য মর্যাদা পাননি। প্রসঙ্গত কয়েক মাস আগে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসগুলি থেকে রাষ্ট্রপতি ছবি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ ঘিরে তুমুল অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল গণভবনে। রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন এই ব্যাপারে সরকারের অবস্থান জানতে চেয়েছিলেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন অবশ্য প্রকাশ্যে জানিয়ে দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এই ধরনের কোন নির্দেশনা বিদেশি মিশনগুলিকে দেওয়া হয়নি। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের বক্তব্য, শেখ হাসিনার মনোনীত রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন নিজেও নির্বাচিত সরকারের অধীনে দায়িত্ব পালন করতে চাইছে না। বাংলাদেশের এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লিগ অংশ নিতে পারেনি। বিএনপি অথবা জামাত কিংবা ওই দুই দলের যৌথ সরকার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
বাংলাদেশের জল্পনা আছে সাহাবুদ্দিন সরে গেলে রাষ্ট্রপতি হতে পারেন মহম্মদ ইউনুস। তবে সেক্ষেত্রে বিএনপি এবং জামাত দুই দলেরই সম্মতি প্রয়োজন হবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হতে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মাঝপথে সরে গেলে প্রধান বিচারপতি অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেবেন। এরপর সাংসদদের ভোটে নির্বাচিত হবেন নতুন রাষ্ট্রপতি।
যদিও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাম্প্রতিক গতিতে একাধিকবার বলেছেন প্রধান উপদেষ্টার পথ থেকে সরে যাওয়ার পর মহম্মদ ইউনুস আর কোনও সরকারি পদে থাকার পক্ষপাতী নন। মঙ্গলবারই মহম্মদ ইউনুস ও তাঁর উপদেষ্টারা ব্যক্তিগত সম্পদের খতিয়ান পেশ করেছেন জাতির কাছে। ইউনুস জানিয়েছেন গত ৩০ জুন পর্যন্ত তার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৫ টাকা। এক বছর আগে তা ছিল ১৪ কোটি ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৩ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে প্রধান উপদেষ্টার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ ৪ হাজার ৩৯২ টাকা।