.jpeg)
শেখ হাসিনা।
শেষ আপডেট: 14 April 2025 23:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দলের কর্মী সমর্থকদের এবার পাল্টা মার দেওয়ার নির্দেশ (retaliation) দিলেন শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। আওয়ামী লিগের (Awami League) ভার্চুয়াল মাধ্যমে ভাষণে ভারতে অবস্থানরত হাসিনা বলেছেন, আপনারা অনেক সহ্য করেছেন। আর নয়। আর আমার হুকুমের অপেক্ষায় থাকবেন না। হুকুম যা দেওয়ার দিয়ে দিলাম। এক গালে চড় মারলে আর এক গাল এগিয়ে দেবেন না। পাল্টা কষিয়ে চড় মারবেন। হাসিনা বলেন, বার বার মেরে যাবে আর আমরা মার খাব, এটা আর চলবে না। যার যা আছে, যে যেভাবে পারবেন, পাল্টা মার দিতে হবে। যে মেরেছে তাকে পাল্টা তাকে শিক্ষা দিতে হবে। ভাষণে আওয়ামী লিগের নেতৃত্ব নিয়েও নতুন কথা বলেছেন হাসিনা। তাঁর কথায়, যারা দুঃসময়ে কাজ করবে তারাই নেতা। তারা নেতৃত্ব নিয়েই কাজ করবে। এই সময় ভালমন্দ বিচার না করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লিগ নেত্রী।
হাসিনার এই বক্তব্য নিয়ে আওয়ামী লিগ তো বটেই অন্য দলেও চর্চা শুরু হয়েছে। গত বছর ৫ অগাস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার সাত মাসের মাথায় হাসিনা আওয়ামী লিগের ফেসবুক মারফত দেশের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়া শুরু করেন। প্রায় প্রতি সপ্তাহে তিনি দেশে থাকা আওয়ামী লিগের নির্যাতিত নেতা-কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। কথা বলছেন, দলের শহিদ নেতা-কর্মীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। তবে প্রকাশ্যে এর আগে পাল্টা মারের কথা বলেননি। যদিও দলের হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম গ্রুপগুলিতে তিনি আরও আগে থেকে প্রস্তুত হওয়ার পরামর্শ দিয়ে আসছিলেন। নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বলছিলেন, যার যা আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত হোন। আর যারা হামলা করেছে তাদের চিহ্নিত করে রাখুন। দিন আসছে, মাঠে নেমে ইউনুস বাহিনীকে মোকাবিলা করতে হবে। তবে সেই সভাগুলি প্রকাশ্য ভার্চুয়াল সভা নয়। শুধুমাত্র গ্রুপ সদস্যরাই সেই কথা শুনতে পেয়েছেন। এবার মুখ খুললেন আওয়ামী লিগের ফেসবুক পেজের নিয়মিত অনুষ্ঠানে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কর্তাদের কানে গিয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের এক পদস্থ কর্তা বলেন, আরও একবার প্রমাণ হল সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভারতে বসে দেশে অশান্তি তৈরি করতে চাইছেন। তাইল্যান্ডে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস এই কথাই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বলেছেন। ওই কর্তা বলেন, আওয়ামী লিগ নেত্রী যেভাবে হিংসায় উসকানি দিয়েছেন তা দেশবিরোধী কাজ। বিশেষ করে বিদেশে বসে দেশের বিরুদ্ধ এমন কথা বলায় তাঁর বিরুদ্ধ দেশদ্রোহিতার ধারায় মামলা দায়ের হবে।
হাসিনা বলেন, আমরা অতীতে কখনও প্রতিশোধের রাস্তায় হাঁটিনি। ২০০১-এ বিএনপি ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লিগের কর্মী-সমর্থকদের উপর নিপীড়ন, নির্যাতন চালিয়েছিল। ২০০৯-এ আওয়ামী লিগ ক্ষমতায় এলে আমরা কিন্তু প্রতিশোধের রাস্তায় হাঁটিনি। হাসিনা বলেন, আমি তখন বলেছিলাম, এখন প্রতিশোধ নয়, দেশ গড়ার কাজে হাত দিতে হবে। দেশটা গড়েও ছিলাম। সেই দেশ এখন ধ্বংস করে দিয়েছে। হাসিনা আরও বলেন, আমি বেঁচে আছি। আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন নিশ্চয়ই ভাল কোনও কাজ করাবেন বলে।
আওয়ামী লিগ সুত্রের খবর, প্রতিশোধ নিতে হাসিনা পাল্টা মারের রাস্তায় হাঁটার নির্দেশ দিয়েছেন বিশেষ কারণে। গত সপ্তাহে বাংলাদেশ পুলিশের একটি নির্দেশের প্রেক্ষিতে আওয়ামী লিগ নেত্রী দলকে শেষ দেখে ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বাংলাদেশ পুলিশের ঢাকার সদর দফতর থেকে গোটা দেশে পুলিশ বাহিনীকে পাঠানো নির্দেশিকায় আওয়ামী লিগের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের একপ্রকার নির্বিচারে গ্রেফতার করতে বলা হয়েছে। নির্দেশিকায় গোয়েন্দা রিপোর্টের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, আওয়ামী লিগ দলের প্রতিটি ইউনিটকে নির্দেশ দিয়েছে, ঢাকায় দুশো-আড়াইশো জনকে জড়ো করতে। শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে এমন পরিকল্পনা করা হয়েছে। নির্দেশিকায় এরপর বলা হয়েছে, রেল স্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, ফেরিঘাটে নজরদারি বাড়াতে এবং তল্লাশি চালাতে। যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, তাদের মোবাইল ট্র্যাক করে গ্রেফতার করতে বলা হয়।
দলের নেতৃত্ব নিয়েও নতুন কথা বলেছেন হাসিনা। ভার্চুয়াল সভায় এই প্রথম আওয়ামী লিগ নেত্রী বলেছেন, আমাদের দলে নেতার অভাব নেই। যারা মাঠ মর্যায়ে দলের জন্য কাজ করছে তারাই নেতা। হাসিনার কথায়, দুর্দিনে যারা দলের পাশে থাকবে তারাই নেতা। তাদের কথায় স্থানীয় দল চলবে। বারে বারে বলেন, দুর্দিনে যারা পাশে আছে তারাই নেতা।