
বাংলাদেশের সাংসদ খুন
শেষ আপডেট: 23 May 2024 12:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের শাসক দল আওয়ামী লিগের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজমের খুনিরা সকলেই সে দেশের নাগরিক বলে বুধবারই জানিয়েছিলেন শেখ হাসিনা সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। খুনিদের তিনজনকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে। তারাই খুনের কথা কবুল করে বলে বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে। সাংসদকে হত্যার পর দফায় দফায় তারা বিমানে দেশে ফিরে যায়।
তদন্তে জানা গিয়েছে, খুনের জন্য দু-দফায় মোট পাঁচজন কলকাতায় আসে। শহরের বিভিন্ন হোটেলে উঠে সাংসদের পশ্চিমবঙ্গে আসার অপেক্ষায় ছিল তারা। প্রাথমিকভাবে ঢাকা পুলিশ জানতে পেরেছে বাংলাদেশের একটি আন্তর্জাতিক সোনা পাচার-চক্র এই খুনের সঙ্গে যুক্ত। সেই চক্রের মাথা মহম্মদ শাহাদাত সাংসদকে হত্যা করার পর পরই নেপালে চলে গিয়েছে বলে জানতে পেরেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। খুন করার জন্য সে খুনিদের সঙ্গে পাঁচ কোটি টাকার চুক্তি করেছিল বলে জানতে পারে ঢাকা পুলিশ।
ঢাকা সূত্রে জানা যাচ্ছে, নিউটাউনের ফ্ল্যাটটি আখতারুজ্জামান তিন মাসের জন্য বুক করে। ভাড়া নেওয়ার সময় বলা হয়, কলকাতায় চিকিৎসার প্রয়োজনে কয়েকজন এসে থাকবেন।
ঢাকার সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত আওয়ামী লিগ সাংসদ আনোয়ারুলের বিরুদ্ধেও একাধিক অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগ ছিল। যদিও আওয়ামী লিগের দাবি, বিএনপি জমানায় মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয় আনোয়ারুলকে। সেই সময় ১৪ বছর তাঁকে দেশের বাইরে থাকতে হয়েছিল। আওয়ামী লিগ ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলি প্রত্যাহার করে নেয় সরকার।
তিনি এ মাসের ১২ তারিখ গেদে সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। কেন সোনা পাচারকারী চক্র তাঁকে খুন করল এবং হত্যার জন্য কলকাতাকে বেছে নিল সে দিকটি ঢাকা এবং পশ্চিমবঙ্গের সিআইডির গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছে। সাংসদ কলকাতায় যে বন্ধুর বাড়িতে উঠেছিলেন সেই গোপাল বিশ্বাসকেও কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তিনি পেশায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ মনে করছে, খুনের মামলা থেকে বাঁচার উদ্দেশে খুনিরা কলকাতাকে বেছে নিয়েছিল। বাংলাদেশে খুন করা হলে পুলিশের পক্ষে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা সহজ হত। তাছাড়া নিহত সাংসদ মাঝেমধ্যেই কলকাতায় আসতেন বলে জানা ছিল হত্যাকারীদের। এই দফায় তিনি কলকাতায় আসার পর থেকেই তাঁর গতিবিধির দিকে নজর রাখছিল খুনিরা। কলকাতায় হত্যা করা হলে প্রমাণ লোপাট সহজ হবে বলেও মনে করেছিল তারা। সেই লক্ষ্য অনেটাই পূরণ হয়েছে। এখনও পর্যন্ত সাংসদের দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। দেহ টুকরো টুকরো করে কেটে লোপাট করে দেওয়া হয়েছে।
তবে ১৩ মে রাতে নিউটাউনের ফ্ল্যাটে সাংসদের সঙ্গে আরও তিনজনের প্রবেশ এবং দফায় দফায় বাকিদের বেরিয়ে আসার সিসিটিভি ফুটেজ পেয়েছে সিআইডি। তাতে একমাত্র সাংসদের বেরিয়ে আসার ফুটেজ নেই। সেখানে রক্তের নমুনা পাওয়া গিয়েছে। সেই নমুনা এবং সাংসদের পরিবারের কারও রক্তের ডিএনএ টেস্ট করিয়ে দেখা হবে একই কিনা।