এমন কোনও সরকারের অধীনে তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন না, যে সরকার এমন নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হবে যেটাতে আওয়ামী লিগকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি।

শেখ হাসিনা
শেষ আপডেট: 29 October 2025 17:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আওয়ামী লিগকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দিলে দলের লক্ষ লক্ষ সমর্থক আগামী বছরের জাতীয় নির্বাচন বর্জন করবেন। বলে ছেন অপসারিত প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লিগ নেত্রী শেখ হাসিনা।
একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাকে যাওয়ার সাক্ষাৎকারে ৭৮ বছর বয়সি হাসিনা বলেন, এমন কোনও সরকারের অধীনে তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন না, যে সরকার এমন নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হবে যেটাতে আওয়ামী লিগকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। প্রসঙ্গত বাংলাদেশে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা আগামী বছর ফেব্রুয়ারি মাসে। তিনি আরও জানান, আপাতত তিনি ভারতেই থাকবেন থাকবেন।
সাক্ষাৎকারে হাসিনা আরও বলেছেন 'আওয়ামী লিগের ওপর নিষেধাজ্ঞা শুধু অন্যায় নয়, এটি আত্মঘাতীও।
তাঁর কথায়, 'পরবর্তী সরকারকে অবশ্যই নির্বাচনী বৈধতা পেতে হবে। লক্ষ লক্ষ মানুষ আওয়ামী লিগকে সমর্থন করে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা ভোট দেবে না। সরকার যদি কার্যকর রাজনৈতিক ব্যবস্থা চায়, তবে লক্ষ লক্ষ মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারে না।। হাসিনার আশা আওয়ামী লিগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হবে
বাংলাদেশে নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৬০ লক্ষাধিক। আওয়ামী লিগ ও বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করেছে, এবং আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি জয়ের সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন চলতি বছরের মে মাসে আওয়ামী লিগের নিবন্ধন স্থগিত করে। এর আগে ইউনুসের নেতৃত্বাধীন সরকার জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি এবং দলটির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ তদন্তের অজুহাতে সব রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমরা আওয়ামী লিগের ভোটারদের অন্য দলকে সমর্থন দিতে বলছি না। আমরা এখনও আশা করছি সাধারণ বুদ্ধি বিজয়ী হবে এবং আমাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হবে।'
মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিরোধী মত দমনের অভিযোগে অভিযুক্ত হলেও, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরে অবদানের জন্য প্রশংসিত হাসিনা ২০২৪ সালে টানা চতুর্থ মেয়াদে জয়ী হয়েছিলেন। ওই নির্বাচন মূল বিরোধী দল বিএনপি বয়কট করেছিল, যাদের শীর্ষ নেতারা তখন কারাগারে বা নির্বাসনে ছিলেন।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধাপরাধ আদালত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার বিচার শেষ করেছে, যেখানে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি ছাত্র আন্দোলনে সহিংস দমন অভিযানের কারণে তাঁকে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৫ অগস্টের মধ্যে ওই আন্দোলনে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হন, আহত হন হাজারো মানুষ — যাদের অধিকাংশই নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে আহত — যা ছিল ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বাংলাদেশের সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা।
অভিযোগ রয়েছে, হাসিনা নিরাপত্তা সংস্থার গোপন আটক কেন্দ্রের মাধ্যমে বিরোধী কর্মীদের গুম ও নির্যাতনের নির্দেশ দেন।
হাসিনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনও প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ বা অন্যান্য অপরাধে জড়িত ছিলেন না।
তাঁর কথায়, 'এই বিচার প্রক্রিয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাটক। এগুলি তথাকথিত ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট চলছে, যেখানে আগেই রায় নির্ধারিত। আমাকে যথাযথ নোটিশ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও দেওয়া হয়নি।'
রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও, হাসিনা বলেন আওয়ামী লিগ একদিন আবার বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে — সরকারে হোক বা বিরোধীদলে — এবং তার পরিবারকে দলটি নেতৃত্ব দিতে হবে এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই।
তাঁর ছেলে ও সাবেক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ, যিনি ওয়াশিংটনে থাকেন, গত বছর রয়টার্সকে বলেছিলেন যে প্রয়োজনে তিনি দলটির নেতৃত্ব দেওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারেন।
হাসিনা বলেন 'এটা আমার বা আমার পরিবারের ব্যাপার নয়।' তিনি বলেন, “বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত ভবিষ্যৎ অর্জনের জন্য সাংবিধানিক শাসন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় ফিরে আসতে হবে। আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ কোনও একক ব্যক্তি বা পরিবার দ্বারা নির্ধারিত নয়।'
১৯৭৫ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে তাঁর বাবা ও তিন ভাই নিহত হন, তখন হাসিনা ও তাঁর বোন বিদেশে ছিলেন। হাসিনা বলেন, তিনি দিল্লিতে স্বাধীনভাবে বসবাস করছেন, তবে পরিবারের ইতিহাসের কারণে সতর্ক রয়েছেন।
কয়েক মাস আগে, রয়টার্সের এক প্রতিবেদক তাঁকে দিল্লির ঐতিহাসিক লোধি গার্ডেনে নীরবে হাঁটতে দেখেন, তাঁর সঙ্গে ছিলেন দুইজন ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী। পথচারীরা চিনতে পারলে তিনি মাথা নেড়ে অভিবাদন জানান।
'আমি অবশ্যই দেশে ফিরতে চাই, যদি সেখানে বৈধ সরকার থাকে, সংবিধান রক্ষা করা হয় এবং প্রকৃত আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকে,' বলেছেন হাসিনা।