আওয়ামী লিগ বলেছে এই ধরনের একতরফা দায়মুক্তি শুধু অপরাধীদের দায়মুক্তি নয়, এটি রাষ্ট্রের নীরব সমর্থনের ইঙ্গিতও দেয়। বাংলাদেশে যখন তদন্ত ও বিচার হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই, তখন ন্যায়বিচার পাওয়ার সর্বোত্তম পথ হলো আইসিসি প্রসিকিউটরের একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করা।

শেষ আপডেট: 27 October 2025 17:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের (Muhammad Yunus) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করল আওয়ামী লিগ। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সংবিধান অনুযায়ী এই মামলা দায়ের করা হয়েছে প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস ও তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে। আইসিসি-র প্রসিকিউটরের কাছে রোম সংবিধানের ১৫ নম্বর বিধি অনুযায়ী এই মামলা দাখিল করে অনুরোধ করা হয়েছে যে তিনি আওয়ামী লিগের নেতাকর্মী ও শেখ হাসিনার সাবেক সরকারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত প্রতিশোধমূলক হিংসাত্মক ঘটনার তদন্ত শুরু করুন। আওয়ামী লিগের (Awami league) মতে ওই সব ঘটনা আইসিসি-তে নথিভুক্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।
প্রসঙ্গত আগামী ১৩ নভেম্বর ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে চলমান মামলায় সাজা ঘোষণার দিন জানাবেন বিচারপতি। আওয়ামী লিগ নেতৃত্বের ধারণা এর দিন কয়েক পর সাজা ঘোষণা করা হতে পারে। ইউনুস সরকারের পক্ষ থেকে এই মামলায় হাসিনা ও কামালের মৃত্যুদণ্ড দাবি করা হয়েছে। এমন সন্ধিক্ষণে আওয়ামী লিগ পাল্টা নেদারল্যান্ডে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা দায়ের করল।
বাংলাদেশে গত বছর জুলাই মাস থেকে লাগাতার হিংসাত্মক ঘটনা ঘটছে। এরই মাঝে গত বছর ৫ আগস্টপাঁচ অগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে বিক্ষোভের মুখে। তারপরও বাংলাদেশ হিংসা চলমান। মামলায় বলা হয়েছে মূলত আওয়ামী লিগের নেতা কর্মী সমর্থকদের উপর নিপীড়ন নির্যাতন চলছে। শেখ হাসিনা ও তাঁর দলের লোকজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে অপদার্থ করা হচ্ছে। লাগাতার সন্ত্রাসে গত দেড় বছরে বাংলাদেশ আওয়ামী লিগের প্রায় ৪০০ নেতাকর্মী খুন হয়েছেন বলে দলের তরফে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত বাংলাদেশ শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে আইসিসির লোম সংবিধানে স্বাক্ষর করেছিল। ২০১০-এর ২৩ আইসিসির রোম সংবিধান অনুমোদন করে এবং এবছর ১ জুন বাংলাদেশে তা কার্যকর করা হয়। তখন দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন হাসিনা। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে যে বাংলাদেশে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড, কারাবন্দি করা এবং নিপীড়নের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। ফলে এইসব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা উচিত আইসিসির প্রসিকিউটরের। আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রকৃতপক্ষে তদন্ত বা বিচার হওয়ার কোনো বাস্তব সম্ভাবনা নেই এবং অপরাধীদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে প্রকাশ্যে পিটিয়ে এবং আদালতে, থানায় হত্যা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে বলা হয়েছে হাজার হাজার রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সুশীল সমাজের লোকজনকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে ২৫ জনের বেশি আওয়ামী লিগ কর্মী নির্যাতনের শিকার হয়ে কারাগারে মারা গিয়েছেন। বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা অন্তর্বর্তী প্রশাসন অপারেশন ডেভিল হান্ট নামের একটি অভিযান শুরু করে। যার ঘোষিত লক্ষ্য ছিল 'আওয়ামী লিগকে' দমন করা। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই অভিযানে ১২ দিনের মধ্যে প্রায় ১৮,০০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলায় আওয়ামী লিগ আরও বলেছে, বাংলাদেশ এইসব নিপীড়নের ঘটনার সুবিচার পাওয়ার কোন সুযোগ নেই। গত বছর ১৪ অক্টোবর অন্তর্বর্তী প্রশাসন একটি 'ইমডেমনিটি অর্ডার' জারি করে। সে সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন: “যেসব ছাত্র ও নাগরিকরা এই আন্দোলন সফল করতে সর্বোচ্চ ভূমিকা রেখেছেন, তারা ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৮ অগস্ট পর্যন্ত তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য কোনো মামলা, গ্রেফতার বা হয়রানির মুখোমুখি হবেন না।।
আওয়ামী লিগ বলেছে এই ধরনের একতরফা দায়মুক্তি শুধু অপরাধীদের দায়মুক্তি নয়, এটি রাষ্ট্রের নীরব সমর্থনের ইঙ্গিতও দেয়। বাংলাদেশে যখন তদন্ত ও বিচার হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই, তখন ন্যায়বিচার পাওয়ার সর্বোত্তম পথ হলো আইসিসি প্রসিকিউটরের একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করা।