
রোহিঙ্গা শরণার্থী, ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 8 November 2024 21:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মায়ানমারের বেশ কিছু প্রদেশে তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্ত লাগোয়া ওই দেশের রাখাইন এবং চিন প্রদেশে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রসংঘ। শুক্রবার রাষ্ট্রসংঘের ইউনাইটেড নেসনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম বা ইউএনডিপি জানিয়েছে, গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত মায়ানমারের অর্থনীতি এমনীতেই ভেঙে পড়েছে। তার উপর দেশটির সেনা শাসকেরা বেশ কিছু প্রদেশের উপর অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। তারফলে ওই সব প্রদেশে দুর্ভিক্ষের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
কূটনৈতিক মহল মনে করছে মায়ানমারের অস্থির পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে পারে ভারত ও বাংলাদেশের উপর। ব্যাপক সংখ্যায় সে দেশের মানুষ ভারত ও বাংলাদেশে ঢুকে পড়তে পারে। সীমান্তে বহু মানুষ জড়ো হয়েছে প্রতিবেশী দুই দেশে আশ্রয় ও খাবারের জন্য। ২০১৭ সালে মায়ানমার সেনার অভিযানের মুখে রাখাইন প্রদেশের প্রায় বারো লাখ নাগরিক বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। মায়ানমারের সেনা প্রশাসন তাদের আর ফেরত নেয়নি। এরা মূলত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর লোক।
মায়ানমারের সেনা বাহিনী তিন বছর আগে সু চি'র নির্বাচিত সরকারকে বরখাস্ত করে ফের ক্ষমতা নিজেদের হাতে তুলে নেয়। এক বছরের মাথায় নির্বাচন করার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন ভোট নিয়ে উচ্চবাচ্য করছে না মিলিটারি। দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক মামলা মিলিয়ে সু চি'র ৩৫ বছরের জেল হয়েছে। নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রাপক নেত্রী যাতে আর রাজনীতিতে ফিরতে না পারেন সে জন্য সামরিক আদালতে দ্রুত বিচার শেষ করা হয়েছে।
এদিকে, দেশকে সেনার কবল মুক্ত করতে মায়ানমারের বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর নিজস্ব বাহিনী জোট বেঁধেছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলির সেনার যৌথ বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে রাখাইন, চিনের মতো একাধিক প্রদেশ সরকারি বাহিনীর হাতছাড়া হয়ে গিয়েছে।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মায়ানমারের সেনা শাসকেরা হাতছাড়া প্রদেশগুলির বিরুদ্ধে বদলা নিতে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা জারি করেছে। ইউএনডিপি জানিয়েছে, কাজ না থাকা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও যুদ্ধের ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি এবং খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।