
সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 12 January 2025 20:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের দেদার চাকরি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে বলে গণ অভ্যুত্থানের পরই অভিযোগ উঠেছিল। নাম জড়িয়েছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারেরও। সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিল প্রশিক্ষণ চলাকালে ৩২১ জন পুলিশ কর্মীকে চাকরি থেকে বসিয়ে দেওয়া। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক পরিষদ রবিবার প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দাবি করেছে ওই পুলিশ কর্মীদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া হোক। পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মণীন্দ্র কুমার নাথ রবিবার প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের প্রতি এই দাবি জানিয়েছেন।
চাকরিচ্যুত ৩২১ জনের মধ্যে ১০৩জন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য। চাকরি যাওয়া ৩৩ জন মহিলা পুলিশ কর্মীর ১৬ জন সংখ্যালঘু।
রাজশাহীতে বাংলাদেশ সরকারের সারদা পুলিশ অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণ শেষে পোস্টিং পাওয়ার মুখে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ১০৩ জন সহ মোট ৩২১ জনের চাকরি কেড়ে নিয়েছে মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার।
সংখ্যালঘুদের মধ্যে ৯১জন হিন্দু। চাকরি খোয়ানো ওই পুলিশ কর্মীরা গত বছর শেখ হাসিনা সরকারের সময় চাকরি পেয়েছিলেন।
৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা দেশছাড়ার পর পরবর্তী দিন কুড়ি ধরে চাপ দিয়ে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কয়েক হাজার কর্মচারীকে। সেই ধারা এখনও অভ্যাহত আছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রন্টু দাসকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতৃত্ব। ওই শিক্ষককে দিনভর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। খবর দেওয়া সত্ত্বেও পুলিশ বা সেনাবাহিনীর কেউ সেখানে যায়নি।
গতমাসে ইউনুস সরকার তিন পুলিশ কর্তা দেবদাস ভট্টাচার্য, কৃষ্ণপদ রায় এবং শ্যামলকুমার নাথ নামে তিন পদস্থ পুলিশ অফিসারকে চাকরি থেকে বসিয়ে দেয়। প্রথম দু’জন অ্যাডিশন্যাল আইজি এবং শেষের জন ডিআইজি পদমর্যাদার অফিসার। কৃষ্ণপদ রায় কয়েক মাস আগেও চট্টগ্রামের সফল পুলিশ কমিশনার ছিলেন। ঊধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাঁদের ডেকে চাকরি থেকে বসিয়ে দেওয়ার চিঠি ধরিয়ে দেন।
রাজশাহীতে অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাকাডেমির ঘটনাটি পুলিশমহল তো বটেই গোটা দেশেই চর্চার বিষয় হয়েছে। গত বছর শেখ হাসিনা সরকার পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর পদে ৮৫৭ জনকে নিয়োগ করেছিল। তাঁদের মধ্যে ৮০৪ জনকে নিয়মমতো এক বছরের প্রশিক্ষণ নিতে রাজশাহীর সারদা পুলিশ অ্যাকাডেমিতে পাঠানো হয়। এ মাসের গোড়ায় তাঁদের প্রশিক্ষণ শেষ হয়। বিদায়ী প্যারেডে শেষে তাঁদের কর্মক্ষেত্রে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। পোস্টিং অর্ডারও পেয়ে যান সকলে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গির আলম চৌধুরীর বিদায়ী প্যারেড পরিদর্শনের কথা ছিল। কিন্তু আগের দিন রাতে তিনি সফর বাতিল করেন। পরদিন যথারীতি প্যারেড হয়।
তাঁদের মধ্যে ৩২১ জন সাব ইন্সপেক্টরকে স্থানীয় থানা থেকে বরখাস্তের চিঠি ধরানো হয়। অভিযোগ প্যারেডের দিন টিফিন খাওয়ার সময় তাঁরা শৃঙ্খলা ভেঙেছেন। প্রকাশ্যে খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে বাহিনী ও সরকারের মর্যাদাহানী করেছেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল হাসিনা সরকারের সময়ে চাকরি পাওয়া প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ওই ৮০৪ জনের মধ্যে ১৭৫ বা ২১.৭৭ শতাংশ ছিলেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। ১৭৫ জনের মধ্যে ১৬৬ জন হিন্দু। বাকিরা বৌদ্ধ, খ্রিস্টান এবং প্রান্তিক নানা জনগোষ্ঠীর মানুষ।
চাকরি যাওয়ার ঘটনায় সরব হন শেখ হাসিনা। আসলে সংখ্যালঘু এবং সক্রিয় আওয়ামী লিগের সমর্থক পরিবারের সদস্য হওয়ার কারণে ওই ৩২১ জনের চাকরি কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের সংগঠনগুলির অভিযোগ সংখ্যালঘুদের ভাতে মেরে দেশছাড়া করার উদ্দেশেই চাকরি থেকে মাঝপথে বসিয়ে দেওয়া, শৃঙ্খলাভঙ্গের নামে বহিষ্কারের কৌশল নিয়েছে সরকার ও তাদের অনুগত সংগঠনগুলি। এর পিছনে জামায়াতে ইসলামীর চাপ ও মদত রয়েছে বলে অভিযোগ। যদিও ওই সংগঠন প্রতিবারই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।