ঢাকার এই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনা সহ আওয়ামী লিগ নেতাদের বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগে মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে একটি মামলায় শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে।
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 23 February 2026 15:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (International Crimes Tribunal Bangladesh) চিফ প্রসিকিউটরের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল আইনজীবী তাজুল ইসলামকে (Tazul Ishlam)। তাঁর স্থলাভিসিক্ত হলেন আইনজীবী আমিনুল ইসলাম।

ঢাকার এই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) সহ আওয়ামী লিগ নেতাদের বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগে মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে একটি মামলায় শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ড (Daeth Sentence) হয়েছে।
ওই মামলায় চিফ প্রসিকিউটর হিসাবে তাজুল ইসলাম জোরদার লড়াই করেছিলেন। গত বছর ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনার সাজা ঘোষণার আগে এই আইনজীবী আদালতে জোরালো সওয়াল করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার জন্য।
তিনি আইনজীবী এবং রাজনৈতিক মহলে জামায়াতে ইসলামের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। শুধু তাই নয়, শেখ হাসিনার সময়ে জামায়াতের নেতাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাজুল ইসলাম ছিলেন তাঁদের আইনজীবী। সেই কারণে অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে চিফ প্রসিকিউটর নিয়োগ করায় বিতর্ক দেখা দিয়েছিল। অবশেষে সরকার বদলের পর তাঁকে সরে যেতে হল। সোমবার বাংলাদেশ সরকারের আইন মন্ত্রক তাজুল ইসলামকে অব্যাহতি দিয়ে আমিনুল ইসলামকে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করে।
নতুন চিফ প্রসিকিউটর আবার খালেদা জিয়ার আইনজীবী হিসেবে বিচারমহলে অধিক পরিচিত। সদ্যপ্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতির মামলা তিনি ছিলেন প্রধান আইনজীবী। ফলে তাঁর নিয়োগ ঘিরে বিএনপি'র সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পুরস্কার পাওয়ার কথা উঠেছে। পদ হারানোর পর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় তাজুল ইসলাম বলেছেন, 'অন্তর্বর্তী সরকার আমাকে নিয়োগ করার পর আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার জন্য। নতুন নিয়োগ পাওয়া চিফ প্রসিকিউটরকে স্বাগত জানিয়ে তাজুল ইসলাম বলেছেন, 'আশাকরি এ বিচার এগিয়ে যাবে। নতুন চিফ প্রসিকিউটরকে আমি সব ধরনের সহযোগিতা করব।'
ঢাকার এই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিচার হতে পারে কিনা তা নিয়ে বিচার মহলে বিতর্ক আছে। অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল ১৯৭২ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের বিচারের জন্য। আওয়ামী লিগের বক্তব্য, ওই ট্রাইবুনালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী যাদের বিচার হয়েছে তারা সরাসরি ময়দানে নেমে মানবতা বিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিলেন।
অন্যদিকে গণঅভ্যুত্থান কোন ঘোষিত যুদ্ধ ছিল না। প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রীদের সেখানে কোন ধরনের ভূমিকা থাকার কথা নয়। পুলিশকে গুলি চালানোর নির্দেশ দিতে হয় না। ফৌজদারি দণ্ডবিধি অনুযায়ী তারা পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে গুলি চালিয়ে থাকে। এখন দেখার তারেক রহমানের সরকার মানবতা বিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনা সহ আওয়ামী লিগ নেতাদের বিচারে কী পদক্ষেপ করে।