বরখাস্ত দুই শিক্ষকই ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ বছর যাবত শিক্ষকতা করছিলেন। দুজনেই অভিযোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে বহিষ্কার করেছে।

ইসলাম বিদ্বেষের অভিযোগ
শেষ আপডেট: 20 January 2026 10:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (UAP) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা নিয়ে সেখানে অস্থিরতা দেখা দিলে এই সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় দুই শিক্ষকের বিনা নোটিসে চাকরি থেকে বরখাস্ত (2 Teachers Suspendend without notice) করে কর্তৃপক্ষ। ওই দুই শিক্ষককে বরখাস্ত করার দাবি তুলেছিল বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদের একাংশ একাংশ। তাদের অভিযোগ অভিযুক্ত শিক্ষকেরা ইসলামের অবমাননা করেছেন।
বরখাস্ত শিক্ষকেরা হলেন বেসিক সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক লায়েকা বশীর। আরেকজন ওই একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এএসএম মহসিন। অধ্যাপক মহসিনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লিগের (Awami League) সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও আনা হয়েছে।
লায়েকা বশীরের বিরুদ্ধে হিজাব ও নিকাব নিয়ে প্রশ্ন তোলার অভিযোগ তোলে পড়ুয়াদের একাংশ। যদিও অভিযোগটি বেশ পুরনো। গতবছর ১০ ডিসেম্বর তিনি তাঁর ফেসবুকে লেখেন, 'সারা শরীর ঢাকেন, হাত-মোজা, পা-মোজা পরেন, সমস্যা নাই। কিন্তু মুখমণ্ডল দেখাতেই হবে। ধর্মেও, যতদূর জানি, সারা মুখ মমি বানিয়ে রাখতে বলা হয়নি।'
তিনি আরও লেখেন, 'আজকাল ইউনিভার্সিটির ক্লাসে অনেক নারী-শিক্ষার্থী মুখ ঢেকে বসে থাকে। এটাকে আমার কাছে অভদ্রতা বলেই মনে হয়।' তাঁর মতে, এই মুখ-ঢাকার সংস্কৃতি নিঃসন্দেহে সমাজে অপরাধের মাত্রা বাড়াবে।'
পোস্টটির প্রাইভেসি সেটিং শুধু 'ফ্রেন্ডস' করা থাকলেও সেটির স্ক্রিনশট সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের কেউ কেউ এই নিয়ে তাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ শুরু করে সমাজ মাধ্যমে। চাপের মুখে তিনি পোস্টটি ডিলিট করে দিতে বাধ্য হন। সেইসঙ্গে ব্যাখ্যা দেন সম্প্রতি ঢাকার মোহাম্মদপুরে জোড়া খুনের ঘটনার প্রেক্ষাপটেই তিনি লেখাটি লিখেছেন। ওই হত্যাকান্ডে আততায়ীরা মুখ ঢেকে এসেছিল।
এদিকে, এএসএম মহসিনের বিরুদ্ধে বিগত এক-দেড় বছর যাবত ধর্মকে লোগো করে দেখার অভিযোগ আনা হচ্ছিল। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ আনা হয়। গত ডিসেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে আয়োজিত বইমেলার একটি স্টলে তিনি 'আওয়ামী লিগের ভবিষ্যৎ' শীর্ষক একটি বই রেখেছিলেন। ওই কে নিয়ে আপত্তি উঠলে তিনি রুখে দাঁড়ান এবং বই মেলা চলাকালীন দলে বইটি ছিল। তখন থেকেই তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লিগের দোসর বলে প্রচার শুরু হয়।
বরখাস্ত দুই শিক্ষকই ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ বছর যাবত শিক্ষকতা করছিলেন। দুজনেই অভিযোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে বহিষ্কার করেছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সহ উপাচার্য এবং রেজিস্টার এর সঙ্গে দেখা করে সুরক্ষা চেয়েছিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাতে সাড়া না দিয়ে তাদের চাকরি ছেড়ে দিতে চাপ সৃষ্টি করে। সোমবার দুজনকে বহিষ্কারের চিঠি ধরানো হয়।
এর আগে সোমবার বিকেল থেকে গুগল ফর্ম ছড়িয়ে ছাত্রদের দিয়ে জনমত তৈরি করা হয় দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বিকালে ক্যাম্পাসে মাইক লাগিয়ে দাবি তোলা হয় দুই শিক্ষককে বরখাস্ত করতে হবে। সন্ধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক দেখেও একই দাবি তুলে ছাত্ররা। রাত আটটা নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আন্দোলনকারী ছাত্রদের জানাই দুই শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পর বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয় শিক্ষাঙ্গনটি অনির্দিষ্টকালের জন্য আপাতত বন্ধ থাকবে। লায়েকা বশীর সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, ছাত্ররা প্রচার করে তাকে বহিষ্কার করলে বিশ্ববিদ্যালয় ইসলাম বিদ্বেষ (Islam Insulted) থেকে মুক্ত হবে।