দক্ষিণ কোরিয়ার (South Korea) বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় বাংলাদেশি স্টার্টআপের (Bangladesh startup) নতুন দিগন্ত, কর্মসংস্থান ও আন্তর্জাতিক সুযোগের বিস্তার।

দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ বাংলাদেশিদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
শেষ আপডেট: 12 August 2025 13:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে কোরিয়ান পপ বা ‘কে-পপ’-এর জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। কিন্তু শুধু গান, নাচ বা ফ্যাশনেই নয়—বাংলাদেশের একঝাঁক উদ্যমী তরুণ এখন দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ টেনে আনছেন নিজেদের স্টার্টআপ প্রোজেক্টে। ডিজিটাল অর্থনীতির নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে এই সম্পর্ক।
সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বড় বিনিয়োগ চুক্তি বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধনশীল স্টার্টআপ খাতে সাড়া ফেলে দিয়েছে। শুধু তহবিল নয়, এর সঙ্গে আসছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষতা বিনিময় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ। ফলে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে, উদ্ভাবনী প্রকল্প বিশ্বমঞ্চে জায়গা পাবে—যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় মাইলফলক হতে পারে।
একসময় কোরিয়ান বিনিয়োগ সীমাবদ্ধ ছিল বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে। এখন চিত্র বদলেছে। সেমিকন্ডাক্টর, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল ইলেকট্রনিকস এবং স্টার্টআপ—সম্ভাবনাময় নানা খাতে ছড়িয়ে পড়ছে কোরিয়ান বিনিয়োগ। বর্তমানে বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগের (এফডিআই) তৃতীয় বৃহত্তম উৎস।
বাংলাদেশের আইসিটি বিভাগ ও কোরিয়া প্রোডাক্টিভিটি সেন্টারের যৌথ মেন্টরিং প্রোগ্রাম ইতিমধ্যেই কয়েকটি সফল স্টার্টআপ গড়ে তুলেছে। ২০১৯ সাল থেকে কোরিয়া প্রতি বছর ১০টি সেরা বাংলাদেশি স্টার্টআপকে ইনকিউবেশন সুবিধা দিচ্ছে—যেখানে তহবিলের পাশাপাশি পেটেন্ট, কপিরাইট ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক দক্ষতা শেখানো হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিই সেন্টারও কোরিয়ার অর্থায়নে উদ্যোক্তা তৈরিতে কাজ করছে।
ইয়াংওয়ান কর্পোরেশন: চট্টগ্রামের কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনে বস্ত্র ও সৌরশক্তি খাতে বিনিয়োগ।
হুন্দাই ও ডিএক্স গ্রুপ: ইলেকট্রনিকস ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স বাজারে অংশীদারিত্ব।
স্যামসাং ও ফেয়ার গ্রুপ: মোবাইল, টিভি ও এয়ার কন্ডিশনার উৎপাদন।
গ্লোবাল ব্র্যান্ড পিএলসি ও হায়োসাং টিএনএস: ব্যাংকিং অবকাঠামো আধুনিকীকরণ।
উরি ব্যাংক: বিকাশ ও ব্যাংককম্পেয়ারবিডির সঙ্গে আর্থিক সেবায় কাজ।
স্টার্টআপ জগতে কোরিয়ান উপস্থিতি আরও বৈচিত্র্যময়—খাদ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এমএফএম কোরিয়া, ই-কমার্সে চারদিকে, এবং রোবোটিক্স ও কৃষি-প্রযুক্তিতে কাজ করা বাংলাদেশি স্টার্টআপগুলির ইনকিউবেশন প্রোগ্রাম ইতিমধ্যেই চলছে।
দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশে মেট্রো রেল, রেলওয়ে রোলিং-স্টক, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনসহ অবকাঠামো প্রকল্পে ৬ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংস্কারমুখী নীতি ও তরুণ জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ কোরিয়ার জন্য আরও আকর্ষণীয় বিনিয়োগ গন্তব্য হয়ে উঠবে।
কে-পপ যেমন বাংলাদেশের তরুণদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে, তেমনই কোরিয়ান বিনিয়োগ এখন তাদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পথে নেমেছে।