
চন্দ্রবোড়ার আতঙ্কে বাংলাদেশ
শেষ আপডেট: 25 June 2024 20:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলা যায় সাপে-মানুষের যুদ্ধ শুরু হয়েছে। সেই যুদ্ধে আপাতত এগিয়ে মানুষ। দেদার পিটিয়ে মারা হচ্ছে সাপ। বিষধর কী বিষধর নয় তা নিয়ে ভাবাভাবির মধ্যে যাচ্ছে না কেউ। মানুষ যেন মুখিয়ে আছে সাপ মারতে। বিগত কয়েক দিন যাবৎ দিনে কয়েকশো সাপ মারা গিয়েছে।
এমনই পরিস্থিতি চলছে বাংলাদেশে। যা দেখে সে দেশের কৃষি ও পরিবেশ বিজ্ঞানীরা চিন্তিত। তাঁদের বক্তব্য, এভাবে নির্বিচারে সাপ মেরে ফেলা হলে পরিবেশের ভারসাম্য, জীব বৈচিত্র নষ্ট হয়ে যাবে। তাতে অনেক বড় বিপদে পড়বে দেশ।
ঘটনার সূত্রপাত অল্পদিনের ব্যবধানে চন্দ্রবোড়া বা রাসেলস ভাইপারের ছোবলে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু। মৃতদের বেশিরভাগেরাই কৃষক। মাঠে চাষের কাজ করার সময় সাপের কামড়ে মারা গিয়েছেন। আবার কয়েকজনকে বাঁচানোও গিয়েছে সময়মতো চিকিৎসার ব্যবস্থা করায়। বড় আকারে হইচই শুরু হয় গত সপ্তাহে রাজশাহীকে কয়েকজন পড়ুয়া এই সাপের কামড়ে মারা যাওয়ায়।
তারপর থেকেই শুরু হয়েছে দেশ জুড়ে সাপ নিধন যজ্ঞ। ফরিদপুরের এক রাজনীতিক ঘোষণা করেন, কেউ রাসেলস ভাইপার মারতে পারলে ৫০ হাজার টাকা ইনাম দেবেন। যদিও প্রশাসন ও পরিবেশবাদীদের চাপে সেই ঘোষণা প্রত্যাহার করেছেন তিনি। আবার পুলিশের বিরুদ্ধেও সাপ পিটিয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে।
বাংলাদেশে রাসেলস ভাইপার চন্দ্রবোড়া নেই বলে একটা সময় ধরে নেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশে সাপটি উলুবোড়া নামেও পরিচিত। ২০১৩ সাল থেকে ফের এই সাপের অস্তিত্ব টের পাওয়া যাচ্ছে। প্রথমে মূলত পদ্মা নদীর অববাহিকায় অস্তিত্ব টের পাওয়া যাচ্ছিল। ক্রমে গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি এই সাপের কামড়ে একাধিক মৃত্যুর ঘটনায় আতঙ্কে মানুষ সাপ দেখলেই লাঠিসোঁটা নিয়ে নেমে পড়ছেন সাপ মারতে। রেহাই পাচ্ছে না জলঢোঁড়া, হেলে সাপও।
বাংলাদেশের সাপ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চন্দ্রবোড়া আগ্রাসী সাপ নয়। আক্রান্ত না হলে ছোবল মারে না। মৃত্যুর হারে এই সাপ নবম স্থানে আছে। অর্থাৎ ছোবল মারলেই মৃত্যু অনিবার্য নয়। কিন্তু চন্দ্রবোড়ার আতঙ্কে অন্যান্য সাপেরও মৃত্যু অনিবার্য হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাংবাদিক বৈঠকেও এই প্রসঙ্গ ওঠে। তিনি দেশবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
যদিও ইতিমধ্যে সাপ মারতে মানুষ যেন উন্মাদ হয়ে উঠেছে। বিষহীন চেনা সাপকেও পিটিয়ে মারা হচ্ছে। যেমন ছেলেধরা বা ডাইনি সন্দেহে পিটিয়ে মারে মানুষ।
বাংলাদেশের সাপ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনর্থক সব সাপ মেরে ফেলা ঠিক হচ্ছে না। কারণ, চন্দ্রবোড়াকে ঘায়েল করতে পারে এমন সাপও মানুষের রোষ থেকে রেহাই পাচ্ছে না। সরকারি হিসাবে সাপের কামড়ে বাংলাদেশে বছরে সাড়ে সাত হাজার মানুষ মারা যান। তাদের মধ্যে একশোর মতো মানুষ মারা যান চন্দ্রবোড়ার কামড়ে।