বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লিগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান এবং মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের অবদান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলমান। মেজর জিয়া পরবর্তীকালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন এবং বিএনপি দল প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর দলের দাবি স্বাধীনতার ঘোষক জেনারেল জিয়া। অন্যদিকে আওয়ামী লিগের বক্তব্য, স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

শেষ আপডেট: 26 March 2026 11:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন করছে বাংলাদেশ। রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকালে ঢাকার অদূরে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বরাবরের মতো বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্যে বাণী দিয়েছেন। দুজনেই স্বাধীনতা লড়াইয়ে শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ভাষণে শুধুই সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কথা উল্লেখ আছে। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার এবং বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত জিয়াউর রহমান বর্তমান শাসক দল-বিএনপি'র প্রতিষ্ঠাতা। রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন স্বাধীনতার লড়াইয়ে শেখ মুজিবুর রহমান সহ জাতীয় কোনও নেতার নাম উল্লেখ করেননি।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের বাণীতে কোন জাতীয় নেতার নাম নেই। তিনি জাতির সেরা সূর্য সন্তানদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
রাষ্ট্রপতির ভাষণ, বাণী ইত্যাদি সরকারি আধিকারিকেরা লিখে দেন। স্বভাবতই রাষ্ট্রপতির ভাষণে সরকার তথা শাসকদলের কথাই গুরুত্ব পায়। ২৫ মার্চ দিনটি বাংলাদেশ গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। ১৯৭১ এর ওই দিনে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে গণহত্যা শুরু করেছিল। ওই দিনটি স্মরণে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন তাঁর ভাষণে বলেছেন মুক্তিযুদ্ধের সময় দ্বিধাগ্রস্ত জাতিকে সঙ্ঘবদ্ধ করেছিলেন জেনারেল জিয়া।
বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লিগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান এবং মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের অবদান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলমান। মেজর জিয়া পরবর্তীকালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন এবং বিএনপি দল প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর দলের দাবি স্বাধীনতার ঘোষক জেনারেল জিয়া। অন্যদিকে আওয়ামী লিগের বক্তব্য, স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
বর্তমান রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বরাবর আওয়ামী লিগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদফতরের নথিতে বলা হয়েছে, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তিনি ১৯৭৪ সালে পাবনা জেলা যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার প্রতিবাদ করে তাঁকে জেলে যেতে হয়েছিল। পরবর্তীকালে তিনি সরকারি চাকরিতে নিযুক্ত হলেও অবসরের পর আওয়ামী লিগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। ২০২৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য মনোনীত করেন। তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
শেখ হাসিনার মনোনীত সেই রাষ্ট্রপতি তারেক রহমানের জমানায় একাধিক ভাষণে মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশ নিয়ে বিএনপি'র বয়ান তুলে ধরেছেন। লক্ষণীয় হল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তুলনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদান সম্পর্কে অনেক বেশি বলছেন হাসিনা মনোনীত রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের অনেকেই মনে করছেন এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিএনপি'র কৌশলী অবস্থান। তারা রাষ্ট্রপতির ভাষণে বিএনপির রাজনীতি এবং দলের দুই প্রধান মুখ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার অবদানকে নথিভূক্ত করিয়ে নিচ্ছেন।