
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক কি তিক্ততায় পৌঁছচ্ছে?
শেষ আপডেট: 19 September 2024 12:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক কি তিক্ততায় পৌঁছচ্ছে? এই ধারণার কারণ, আসন্ন রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণসভার ফাঁকে বাংলাদেশের অনুরোধ সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্ভবত সেদেশের নতুন তদারকি সরকারের প্রধান মুহম্মদ ইউনুসের সঙ্গে দেখা করছেন না। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে ইউনুসের বিভিন্ন কথাবার্তা এবং সেখানে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলার ঘটনায় তদারকি সরকারের নিষ্ক্রিয় থাকাকে ভালো চোখে নিচ্ছে না নয়াদিল্লি। কেন্দ্রীয় সরকার সূত্র জানাচ্ছে, নিউইয়র্কে মোদী-ইউনুস বৈঠকের সম্ভাবনা বিশবাঁও জলে।
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর অত্যাচারের কারণে ভারত সরকার ও কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপি এবং তার নেপথ্য মস্তিষ্ক আরএসএস যারপরনাই ক্ষোভপ্রকাশ করেছিল। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের তরফেও প্রধানমন্ত্রীর কাছে সেদেশে বসবাসকারী হিন্দু ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আর্জি জানানো হয়েছিল। এমনকী খোদ মোদী বাংলাদেশের তদারকি সরকারের প্রধান মুহম্মদ ইউনুসকে ফোন করে সংখ্যালঘু নিরাপত্তায় জোর দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। তারপরেও বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী কাজকারবার চলতেই থাকায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে খানিকটা ভাটা পড়ে। সেই প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণসভার ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বাংলাদেশের তদারকি প্রধানমন্ত্রী ইউনুসের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনায় দাঁড়ি পড়তে চলা নিয়ে জল্পনার জলঘোলা শুরু হয়েছে।
এ মাসের গোড়ার দিকে বাংলাদেশের তরফে এই অনুরোধ করা হয়েছিল নয়াদিল্লিকে। যাতে বলা হয়েছিল, রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণসভায় যখন বিশ্বের তাবড় নেতারা এক জায়গায় মিলিত হবেন, তখন তার ফাঁকে ইউনুস একান্তে দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে কথা বলতে চান মোদীর সঙ্গে। শেখ হাসিনাকে ভারত আশ্রয় দেওয়ার পর দুদেশের সম্পর্কে যে চিড় ধরেছে, তা নিয়ে ঝেড়ে কাশতে চেয়েছিল ঢাকার বিদেশমন্ত্রক।
কিন্তু, নয়াদিল্লির সরকারি সূত্র জানিয়েছে, ভারতের দিক থেকে এরকম কোনও বৈঠকে সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তিনদিনের মার্কিন সফরে মোদীর ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর তিনি ডেলাওয়্যার-এর উইলমিংটনে কোয়াড-ভুক্ত দেশগুলির শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন। কোয়াড হল, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, জাপান এবং আমেরিকাকে নিয়ে একটি কূটনৈতিক গোষ্ঠী। এবার যার পৌরোহিত্য করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তারপর ২৩ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণসভায় ভাষণ দেবেন। এর ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী মোদীর নিউইয়র্কে বেশ কয়েকজন রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করার কার্যসূচি রয়েছে। যার মধ্যে বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নাম নেই।