
মহম্মদ ইউনুস ও শেখ হাসিনা
শেষ আপডেট: 14 October 2024 15:00
দ্য ওয়াল বুরো: বাংলাদেশে শেখ হাসিনাকে হটাতে গণ অভ্যত্থানে অংশ নিয়ে আওয়ামী লিগের কর্মী সমর্থক এবং পুলিশ কর্মীদের খুন, সরকারি সম্পত্তি বিনষ্টের অভিযোগে শত শত মামলা হয়েছিল বাংলাদেশে। মহম্মদ ইউনুসের সরকার সোমবার ওই সব অপরাধ ক্ষমা করে দিল। বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বলেছে, অভ্যুত্থানে যুক্ত কোনও ব্যক্তিকে গ্রেফতার, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে না।
সরকারের এই সিদ্ধান্ত সমস্ত টেলিভিশন চ্যানেলকে স্ক্রলে লাগাতার প্রচার করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের মাধ্যমে বৈষম্যমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথে এক নবযাত্রা সূচিত হয়েছে। এ গণঅভ্যুত্থানকে সাফল্যমণ্ডিত করতে যেসব ছাত্র-জনতা সক্রিয়ভাবে আন্দোলনের মাঠে থেকে এর পক্ষে কাজ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ১৫ জুলাই হতে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সংগঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট ঘটনার জন্য কোন মামলা, গ্রেফতার বা হয়রানি করা হবে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনা প্রদান করা হল। এ বিষয়ে অসত্য তথ্য প্রদান করে কোন সুবিধা অর্জনের বিরুদ্ধেও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হল।’
ইউনুস সরকারের এই সিদ্ধান্তে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে ইউনুস প্রয়াত রাষ্ট্রপতি তথা জেনারেল জিয়াউুর রহমানের জুতোয় পা গলালেন। শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবার হত্যা ও খুনের ষড়যন্ত্রে লিপ্তদের গণ ক্ষমা করে ইনডেমনিটি আইন চালু করেছিলেন তিনি।
জিয়ার জারি করা ইনডেমনিটি আইন পরবর্তীকালে বতিল করে দিয়েছিল বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট। হাসিনা সরকারের উদ্যোগে বিচারে কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড হয়। তারা বিদেশে গা ঢাকা দিয়ে আছে।
এ বছর জুলাই অগাস্টে হাসিনা সরকারকে উৎখাতের আন্দোলনে কয়েক হাজার কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি হয়। রাজারবাগে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ভবনটি আগুন দিলে সেটি সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে গিয়েছে। ভাঙচুর করা হয় মেট্রো রেলের একাধিক স্টেশন, মৌসম ভবন, সচিবালয় সহ একাধিক সরকারি বাড়ি। এছাড়া ট্রেন-বাসে আগুন দেওয়ার অসংখ্য ঘটনা তো আছেই। পাশাপাশি চলে হত্যাকাণ্ড। বাংলাদেশ পুলিশের হিসাব অভ্যুত্থানকারীদের হাতে প্রায় চারশো পুলিশ কর্মী নিহত হয়। একটি থানায় এক সঙ্গে ১১জন পুলিশ কর্মীকে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে দেয় অভ্যুত্থানকারীরা।
পাশাপাশি চলে আওয়ামী লিগের নেতা-কর্মীদের নির্বিচারে হত্যা, ঘর-বাড়ি, দোকান-বাজারে অগ্নিসংযোগের ঘটনা। আওয়ামী লিগের নেতা-কর্মীদেরও মেরে গাছে, লাইট পোস্টে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আর ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা গণভবন ছেড়ে যাওয়ার পর সেখানে নজিরবিহীন লুটপাট, ভাঙচুর চালানো হয়। ওই দিন রাতেই ধানমণ্ডিতে শেখ মুজিবুরের বাড়ি যা জাতীয় যাদুঘর ছিল সেখানে ভাঙচুরের পর আগুন দিয়ে দেয় বিভোভকারী। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মুজিবুরের অসংখ্য মূর্তি ভাঙা হয়।
ইউনুস সরকারের সোমবারের ঘোষণা অনুযায়ী এই সব ঘটনায় যুক্ত কারও শাস্তি হবে না। ৮ অগাস্ট রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেন ইউনুস। দায়িত্ব নিয়ে যদিও উল্টো কথা বলেছিলেন। সরকারের উপদেষ্টারা বলেছিলেন, আইন আইনের পথে চলবে। সব হিংসার বিচার হবে। এখন গণ ক্ষমার পথে হাঁটলেন ইউনুস।
প্রশ্ন উঠেছে, হাসিনা দেশ ছাড়েন ৫ অগাস্ট দুপুরে। তাহলে ৮ অগাস্ট পর্যন্ত সংঘঠিত অপরাধকেও কেন গণ ক্ষমার আওয়াত আনা হল। ৫ থেকে ৮, এই তিন দিন বাংলাদেশ ছিল কার্যত সেনার হাতে। আর ওই তিনদিনই সবচেয়ে বেশি হত্যা, লুটতরাজ চলে দেশ জুড়ে। আওয়ামী লিগ সমর্থক ও সংখ্যালঘুদের উপর হিংসার ঘটনাও ওই তিনদিন বেশি ঘটেছে। ইউনুস ঢাকায় জাতীয় মন্দির বলে পরিচিত ঢাকেশ্বরী কালী মন্দিরে গিয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন, সংখ্যালঘুদের উপর হামলার প্রতিটি ঘটনার বিচার হবে। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ডিগবাজি খেলেন তিনি।