প্রধানমন্ত্রী পদে তারেক রহমান (Tarique Rahman) দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলে আসছেন। দিন দশেক আগে তিনি সংখ্যালঘুদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ দু'হাত তুলে বিএনপিকে (BNP) সমর্থন জানায়।

তারেকের অস্বস্তি বাড়াল সংখ্যালঘু সংগঠনের রিপোর্ট
শেষ আপডেট: 10 April 2026 10:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে (Bangladesh) সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে-পরে গত তিন মাসে সারা দেশে আগের মত সাম্প্রদায়িক সহিংসতা অব্যাহত বলে অভিযোগ করেছে সে দেশের সংখ্যালঘুদের বৃহত্তম সংগঠনটি। এই সব ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।
প্রধানমন্ত্রী পদে তারেক রহমান (Tarique Rahman) দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলে আসছেন। দিন দশেক আগে তিনি সংখ্যালঘুদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ দু'হাত তুলে বিএনপিকে (BNP) সমর্থন জানায়। বৈঠকে তারেক রহমান এজন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এই সম্পর্ককে দীর্ঘ মেয়াদে স্থায়ী রাখতে সরকার ও বিএনপি (BNP) সচেষ্ট থাকবে। বিএনপি'র অন্য নেতারাও সংখ্যালঘু নেতাদের আশ্বাস দিয়েছেন।
কিন্তু হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্যপরিষদ যারা বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের (Bangladeshi Minority) সবচেয়ে বৃহৎ সংগঠন তাদের বক্তব্য সরকারের ঘোষণার সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতি মিলছে না। হিন্দুসহ সংখ্যালঘুদের উপর নিপীড়ন নির্যাতনের ঘটনা চলমান। ওই সংগঠনের তরফে এক নেতা জানিয়েছেন অপরাধমূলক ঘটনাগুলির প্রায় ৯০-৯৫ ভাগ হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সংঘটিত হয়েছে।
সংগঠনের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৬-এর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ- এই তিন মাসে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ১৩৩টি। এর মধ্যে হত্যার ঘটনা ২৫টি, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা চারটি, মন্দিরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ৩৫টি এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের উপর হামলাসহ অন্যান্য অপরাধ ৬৯টি।
২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে মোট ৪৬টি সংখ্যালঘু ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে হত্যা ১১টি, ধর্ষণ একটি, মন্দিরে হামলা নয়টি, আদিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর হামলা একটি, হামলা, ডাকাতি, ভাঙচুর, হুমকি, বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ঘটনা ১৫টি, ভূমি দখল তিনটি, চাঁদাবাজি একটি এবং অন্যান্য অপরাধ পাঁচটি।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ৫০টি সংখ্যালঘু ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে হত্যা, আটটি, ধর্ষণ একটি, মন্দিরে হামলা ১৫টি, ধর্ম অবমাননার অভিযোগ একটি, হামলা, ডাকাতি, ভাঙচুর, হুমকি, বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ঘটনা ১৭টি, ভূমি দখল ছয়টি এবং অপহরণ একটি ও অন্যান্য একটি।
২০২৬ সালের মার্চ মাসে মোট ৩৭টি সংখ্যালঘু ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে হত্যা: ছয়টি, ধর্ষণ/যৌন হয়রানি দুটি, মন্দিরে হামলা ১১টি, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হামলা একটি, আদিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর হামলা একটি, হামলা, ডাকাতি, ভাঙচুর, হুমকি, বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ঘটনা সাতটি, ভূমি দখল চারটি এবং অন্যান্য ঘটনা পাচটি।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ বলেছে, তারা আশা করেছিল, বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর এ ধরণের হামলার ঘটনা তেমন ঘটবে না। কিন্তু এতদসত্ত্বেও এ ঘটনা অব্যাহত থাকায় সংখ্যালঘুরা উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত। পরিষদ উল্লেখিত এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিদান, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ, আহতদের সুচিকিৎসার পাশাপাশি সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠনসহ আট দফা দাবি পূরণের জন্যে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে।
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের এই অভিযোগগুলি সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারের পুলিশ প্রশাসনের কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে এই প্রতিবেদনের সংযুক্ত করা হবে।