বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মোটেই অবনতি হয়নি। এমনটাই দাবি করছে মহম্মদ ইউনুসের সরকার (Muhammad Yunus)। মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টারন প্রেস উইং এই বিষয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে।

শেষ আপডেট: 9 September 2025 16:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মোটেই অবনতি হয়নি। এমনটাই দাবি করছে মহম্মদ ইউনুসের সরকার (Muhammad Yunus)। মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টারন প্রেস উইং এই বিষয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, পরিসংখ্যানগতভাবে নানা ধরনের অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে হলেও অনেক ঘটনা বিগত শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) সরকারের সময়ে সংঘঠিত হয়েছে৷ কিন্তু তখন নিরাপত্তার অভাব থাকায় আক্রান্ত, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ থানায়, আদালতে যেতে পারেননি। অপরাধ নথিভুক্ত করা হত না।
২০২০ থেকে ২০২৫-এর অগস্ট পর্যন্ত পরিসংখ্যানের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শেষ ১৩ মাসে হত্যাকাণ্ডের হার তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা গেছে। এর একটি বড় কারণ হল, হাসিনার ১৬ বছরের শাসনামলে সংঘটিত অন্তত ১,১৩০টি হত্যাকাণ্ড শুধুমাত্র সরকার পরিবর্তনের (৬অগস্ট ২০২৪ থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত) পরেই নথিভুক্ত হয়েছে। অনেক হত্যা মামলা আগে শাসক দলের সন্ত্রাসীদের দ্বারা দমন করা হয়েছিল — এবং পুলিশও মামলা নিতে নিরুৎসাহিত করেছিল। শাসন পরিবর্তনের পর এই সব ঘটনা প্রকাশ্যে আসে ও রেকর্ডভুক্ত হয়। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে অনেক ধরনের অপরাধ আগের বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দেখা যাচ্ছে। তবে এটি নতুন সহিংসতার ঢেউ নয় বরং দীর্ঘদিনের দমিত বিচার ব্যবস্থার প্রতিফলন। ইউনুস সরকারের দাবি, সাধারণ নাগরিকরা এখন আর আগের মতো রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে ভয় পাচ্ছেন না।বলা হয়েছে, আগে শাসক দলের কর্মীরা ভুক্তভোগীদের মামলা দায়ের করতে বাধা দিত। বিশেষত যখন অভিযুক্তরা তাদের দলের কর্মী হতো। এতে হাসিনা শাসনামলের অপরাধের পরিসংখ্যান কৃত্রিমভাবে কম দেখানো হত। পুলিশও শাসক দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা নিতে অনীহা দেখাত।

ইউনুসন সরকারের দাবি, বিগত বছরের তুলনায় ডাকাতি কমেছে।২০২৪ সালে ডাকাতির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে ১,৪০৫টি। ২০২৫ সালে তা কমে ডাকাতির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে ১,৩১৪টি। তবে ২০২৩ সালের আগের তুলনায় তা এখনও বেশি। কারণ বিগত বছরগুলিতে হওয়া এখন সব ডাকাতির মামলা পুলিশ স্টেশনে নির্বিঘ্নে রেকর্ড হচ্ছে। এছাড়া, থানাগুলিতে একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে নাগরিকরা নির্ভয়ে অপরাধ রিপোর্ট করতে পারছেন। ইউনুস সরকার দাবি করেছে ২০২৪ সালে আইনশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে ১,২২৬টি। ২০২৫ সালে এখনও পর্যন্ত ঘটনার সংখ্যা ৬৫১। সরকারের দাবি ২০২৪ সালে ১২৫ দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৫-এ এপর্যন্ত ৫৯টি ঘটনা ঘটে। চুরির ঘটনা নিয়ে সরকারের দাবি এই অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৪ সালে ৮,৬৫২ চুরির ঘটনা ঘটে বাংলাদেশে। ২০২৫-এ এখনও পর্যন্ত ৬,৩৫৪টি এই অপরাধ ঘটেছে।
ইউনুস সরকারের দাবি, এতে বোঝা যায়, যদিও সহিংস অপরাধ (যেমন হত্যা) বেশি দেখা যাচ্ছে, কিন্তু সাধারণ অপরাধের হার কমছে। এটি আরও উন্নত আইনশৃঙ্খলা এবং অধিক সঠিক মামলা নথিভুক্তির ইঙ্গিত দেয়। ২০২৪ সালে অগস্ট থেকে শুরু করে যেসব হত্যা ও অপরাধের সংখ্যা বেড়েছে, তার সবটাই নতুন সহিংসতা নয় — বরং বহুদিনের দমনকৃত মামলা অবশেষে নথিভুক্ত হচ্ছে। ২০২৪-২৫ সালে রেকর্ডকৃত কিছু হত্যা মামলার ঘটনা ২০০৯-২০১৩ সালেরও হতে পারে। সরকারের আরও দাবি, ভুক্তভোগীরা এখন রাজনৈতিক সন্ত্রাসের ভয়ে মামলা করতে বাধা পাচ্ছেন না। পুলিশ সদস্যরাও এখন আর কাউকে মামলা দায়ের করতে নিরুৎসাহিত বা বাধা দিচ্ছেন না।বিশেষ করে চুরি জাতীয় অপরাধ কমে যাওয়াটা ইঙ্গিত দেয় যে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির পাশাপাশি মামলা দায়েরের স্বাধীনতা ফিরে এসেছে।