বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে উমামা সংগঠনকে বেনোজল মুক্ত করার দাবিতে সরব হন।

বাংলাদেশে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একদা প্রথম সারির মুখ উমামা ফাতামা
শেষ আপডেট: 28 July 2025 18:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একদা প্রথম সারির মুখ উমামা ফাতামা তাঁদের জুলাই আন্দোলনকে মানি মেকিং মেশিন বা টাকা বানানোর ব্যবস্থা বলে বর্ণনা করেছেন। সেই সঙ্গে যোগ করেছেন, জুলাই আন্দোলনে যোগদান তাঁর জন্য ছিল একটি ট্র্যাজেডি। তিনি এখন আফসোস করেন ওই আন্দোলনে যুক্ত থাকায়।
উমামার এমন মন্তব্য করেছেন ফেসবুক লাইভে। রবিবার রাতে করা লাইভ ভাষণে এই নেত্রীর বক্তব্য ঝড় তুলেছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেত্রী উমামা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখপাত্র। জুলাই আন্দোলনে বর্ষপূর্তি চলছে বাংলাদেশে। এই সময় সাবেক নেত্রীর মন্তব্য ঝড় তুলেছে। তাঁর বক্তব্য বিশেষ মাত্রা ও মান্যতা পেয়েছে সদ্যই তোলাবাজির অভিযোগে কয়েকজন সমন্বয়কে পুলিশ গ্রেফতার করায়৷ ধৃতদের একজন আবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরামর্শদাতা কমিটির ছাত্র প্রতিনিধি।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে উমামা সংগঠনকে বেনোজল মুক্ত করার দাবিতে সরব হন। তখন থেকেই তিনি বলেছিলেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন দিশাহীন হয়ে পড়েছে। সাময়িক নিষ্ক্রিয় থেকে শেষ পর্যন্ত চলতি বছরের জুন মাসে তিনি ওই প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করেন।
রবিবার রাতের বক্তব্য জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতৃত্বকেও নাড়িয়ে দিয়েছে। উমামা ওই দল গঠনেও আপত্তি জানিয়েছিলেন।
তবে অনেকেই মনে করেন, তাঁর এমন মন্তব্য ছিল সময়ের অপেক্ষা। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করা নিয়ে তিনি সেই সময় ফেসবুক পোস্টে লেখেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে আমার আনুষ্ঠানিক যাত্রা এখানেই শেষ হলো। এনসিপি নামক রাজনৈতিক দলটি গঠনের পর আমি জুলাইয়ের অসমাপ্ত কাজগুলো করার দায়বদ্ধতা থেকে এই ব্যানার নিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু দলীয় লেজুড় ও প্রেসক্রিপশনের বাইরে এই ব্যানারটি স্বাধীনভাবে কাজ করলে অনেকের রাজনৈতিক ভবিষ্যত হুমকির মুখে পড়ত। তাই আমার উপর অনলাইন, অফলাইনে ভয়াবহ চাপসৃষ্টি করা হয় যাতে আমি এই ব্যানার নিয়ে কাজ না করি। আমি পুরো বিষয়টাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েই একটা ইতিবাচক ভাবনা থেকে ব্যানারকে সচল করার চেষ্টা করেছিলাম। পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আমার আলাদা করে বলার কিছু নেই। যে মানুষগুলার সঙ্গে আমি পাশে দাঁড়ায়ে মিটিং করছি, মিছিল করছি তারাই পরিকল্পতিভাবে জুনিয়রদের দিয়ে আমার বিরুদ্ধে নোংরা প্রচারণা চালায়। মানুষ বাইরে যত ভালো সাজার চেষ্টা করুক ভিতর থেকে কতটা ছোটলোক হতে পারে আমি হাড়ে হাড়ে টের পাই ওই সময়গুলাতে। এই সো কল্ড সহযোদ্ধারা মানুষকে টিস্যু পেপারের মতো ব্যবহার করে, প্রয়োজন শেষ হলে ছুঁড়ে ফেলতে এক মুহূর্তও লাগে না। আমি মার্চ-এপ্রিল মাসে এই প্ল্যাটফর্ম নিয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি পোকার মতো ভিতর থেকে প্ল্যাটফর্মকে সুবিধাবাদীরা খেয়ে ফেলেছে।
তিনি আরও লেখেন, হ্যাঁ, আমি বলব বিভিন্ন শাখা কমিটিতে অনেক ভাল মানুষ ছিল, যারা পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে কমিটিতে আসছিল। চেষ্টা করছে কাজ করার। কিন্তু তারাও এই সুবিধাবাদীদের কাছে জায়গা করতে পারেনি। আমার সাথে অনেকের কথা হয় এখনো। ব্যক্তিগত জায়গা থেকে চেষ্টা করি সাজেশন দেওয়ার, হেল্প করার। জুলাই অভ্যুত্থানের মতো এত বড় ইভেন্ট দেখার পর চোখের সামনে সবকিছু ভেঙে পড়তে দেখাটা অনেক অনেক কঠিন। পরবর্তীতে আমার বন্ধু, শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে পরামর্শ করে এই ব্যানার থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।
বৈষম্যবিরোধী ব্যানারের থেকে সরাসরি পদত্যাগ না করলেও এই ব্যানারের সঙ্গে কার্যত সম্পর্কছিন্ন করি গত এপ্রিল-মে মাসে।