খালেদা জিয়াকে বিদায় জানাতে তাঁর জানাজা বা শেষ যাত্রায় শান্তি কামনায় মানুষের ঢল নেমেছে ঢাকায়। বাংলাদেশ সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্রান্তের ময়দানে সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। এই মুহূর্তে সেখানে তৈরি অস্থায়ী মঞ্চে খালেদা জিয়ার দেহ শায়িত রাখা হয়েছে।

শেষ আপডেট: 31 December 2025 15:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খালেদা জিয়াকে বিদায় জানাতে তাঁর জানাজা বা শেষ যাত্রায় শান্তি কামনায় মানুষের ঢল নেমেছে ঢাকায়। বাংলাদেশ সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্রান্তের ময়দানে সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। এই মুহূর্তে সেখানে তৈরি অস্থায়ী মঞ্চে খালেদা জিয়ার দেহ শায়িত রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশের তিনবারের এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানাতে একটু আগে ঢাকায় পৌঁছেছেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ঢাকায় পৌঁছেছেন আরও বেশ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা। উপস্থিত হয়েছেন বাংলাদেশের বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা। বলাই বাহুল্য সেই তালিকায় আওয়ামী লিগের কেউ নেই। বাংলাদেশ সরকারের একটি সূত্রের খবর খালেদার অন্তেষ্টি পর্ব শেষ হওয়ার পর তারেক রহমানের সঙ্গে একান্তে কথা হতে পারে জয়শঙ্করের।
রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে আয়োজিত বিদায় অনুষ্ঠানে শোক জানাতে তারেক রহমানের পাশেই উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা মহাম্মদ ইউনুস। ছিলেন বাংলাদেশ সেনার তিন বাহিনীর শীর্ষ কর্তারা।
জানাজা বা প্রার্থনা শুরুর আগে খালেদা জিয়ার সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করা হয়। তাতে বলা হয়েছে বেগম খালেদা জিয়া তাঁর রাজনীতিতে আপস শব্দটির সঙ্গে সর্বদা লড়াই করে গিয়েছেন। তিনি মনে করতেন বিদেশে আমাদের বন্ধু আছে। কিন্তু কোন প্রভু নেই। তিনি গণতন্ত্র পুনঃ প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছেন।

প্রার্থনা শুরুর মুখে বিএনপির তরফে খালেদার জীবনী উল্লেখ করতে গিয়ে তীব্র আক্রমণ জানানো হয় আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লিগ নেত্রী শেখ হাসিনাকে। অভিযোগ করা হয়, হাসিনা সরকার খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসা করতে না দেওয়ার কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়েছিল। খালেদার মৃত্যুর পেছনে পরোক্ষে হাসিনা সরকারের ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ করে বিএনপি।
খালেদার দলের তরফে হাসিনার পাশাপাশি প্রয়াত প্রয়াত সেনা শাসক হুসেন মহম্মদ এরশাদেরও তীব্র সমালোচনা করা হয়। নিন্দা করা হয় ২০০৬ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত জাতীয় বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কর্মকর্তাদের। বিএনপি'র তরফে বলা হয়, সেই সরকারের কর্তারাও এখন কেউ দেশে নেই। দেশ ছাড়তে হয়েছে শেখ হাসিনাকে। দীর্ঘ সময় জেলে কাটাতে হয় এরশাদকে। অন্যদিকে খালেদা জিয়া সর্বদাই বলতেন বাংলাদেশই আমার একমাত্র ঠিকানা। আজ সেই সত্যিই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশে।