
শেখ হাসিনা।
শেষ আপডেট: 18 December 2024 07:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক মাস পেরিয়ে গিয়েছে। শেখ হাসিনার নামে রেড কর্নার নোটিস জারি করেনি আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল। বুধবার ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাসিনার বিষয়ে তদন্ত রিপোর্ট জমা করার কথা ছিল বাংলাদেশ পুলিশের। তদন্তে অগ্রগতি না হওয়ায় মঙ্গলবারই ট্রাইব্যুনালের কাছে পুলিশ আরও সময় প্রার্থনা করে। ট্র্যাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মহম্মদ গোলাম মর্তুজা আরও দু-মাস সময় দিয়েছেন পুলিশকে।
তবে রেড কর্নার নোটিস জারি নিয়ে ইন্টারপোলের নীরবতায় অস্বস্তিতে পড়েছে ইউনুস সরকার। আবার হাই কোর্টের একটি রায় অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য স্বস্তিদায়ক হয়েছে। হাই কোর্ট ফের তত্বাবধায়ক সরকার গঠনের অনুচ্ছেদটি সংবিধানে ফিরিয়ে আনার সুযোগ করে দিয়েছে। ফলে আগামী নির্বাচন ইউনুস সরকারের অধীনে হওয়ার সম্ভাবনা ফের উজ্জ্বল হয়েছে বলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল মনে করছে। তবে আদালতের রায় কীভাবে ইউনুস সরকারের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। শেখ হাসিনা সরকার তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছিল।
এদিকে, রেড কর্নার নোটিস জারির বিষয়ে ইন্টারপোল এখনও বাংলাদেশ পুলিশের চিঠির জবাব দেয়নি বলে ট্রাইব্যুনালে জানান সরকার পক্ষের আইনজীবী তাজুল ইসলাম। এই ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফ্ট্যান্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি জানান, ইন্টারপোলকে রিমাইন্ডার লেটার পাঠিয়ে অনুরোধ করা হয়েছে দ্রুত রেড কর্নার নোটিস জারি করে শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করতে।
প্রসঙ্গত, ইন্টারপোলের রেড কর্নার নোটিস জারির অর্থ আন্তর্জাতিক ওই পুলিশ সংগঠনের সদস্য দেশগুলির উপর দায়িত্ব বর্তাবে শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করার। গত ৫ অগাস্ট থেকে শেখ হাসিনা ভারতে আছেন। যদিও বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকলে কোনও ইন্টারপোলকে এড়িয়ে এই ব্যাপারে অগ্রসর হতে পারে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সেই চুক্তি আছে।
গত ১৮ অক্টোবর ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। ট্রাইব্যুনালে হাসিনার খুন-সহ একাধিক অপরাধে দায়ের হওয়া মামলার শুনানি চলছে।
এদিকে, বাংলাদেশে সমাজমাধ্যমে ঝড় তুলেছে দু মিনিট দশ সেকেন্ডের একটি ভিডিও। তাতে দেখা যায় বরগুনা জেলার এক অজ্ঞাত স্থানে আওয়ামী লিগের কিছু কর্মী সোমবার বিজয় দিবসে শপথ নিচ্ছেন যে কোনও মূল্যে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনবেন। তাঁরা স্লোগান দেন, ‘শেখ হাসিনার হাত ধরে জঙ্গি জামায়াত খতম করো, মুক্তিযুদ্ধ আঁকড়ে ধরো।’ পুলিশ ভিডিও’টি নিয়ে তদন্তে নেমেছে। পুলিশের এক বড় কর্তার কথায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা আছে। আইনের চোখে তিনি একজন অপরাধী। তাঁকে বেপথে দেশে ফেরানোর চেষ্টা, সংকল্প বেআইনি।
হাসিনা ছাড়াও আরও যে ৪৫ জনের নামে মামলা দায়ের হয়েছে তাঁদের মধ্যে আওয়ামী লিগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াবদুল কাদেরের নাম আছে। মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালের কাছে এক মামলাকারীর আইনজীবী অভিযাগ করেন ওই আওয়ামী লিগ নেতা নভেম্বর পর্যন্ত দেশেই লুকিয়ে ছিলেন। চলতি মাসের গোড়ায় তিনি দেশ ছেড়েছেন। ট্রাইব্যুনাল এই ব্যাপারে সরকারের বক্তব্য জানতে চেয়েছে। ওই ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সরকারের কাছে এমন কোনও তথ্য ছিল না। পুলিশ-প্রশাসন যদি জানতে পারত ওবায়দুল কাদের দেশেই আছে তা হলে অবশ্যই তাঁকে গ্রেফতার করা হত।