সদ্য গঠিত বাংলাদেশের ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি (এনসিপি)-র নেতা হাসনাত আবদুল্লার সাম্প্রতিক মন্তব্য ও হুমকির প্রতিবাদেই এই কর্মসূচি বলে জানানো হয়েছে (Bangladesh News)।

ছবি সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 19 December 2025 15:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগরতলায় বাংলাদেশের (Bangladesh) ডেপুটি হাই কমিশনের সামনে শুক্রবার বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন আদিবাসী যুবক ও পড়ুয়ারা। সদ্য গঠিত বাংলাদেশের ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি (এনসিপি)-র নেতা হাসনাত আবদুল্লার সাম্প্রতিক মন্তব্য ও হুমকির প্রতিবাদেই এই কর্মসূচি বলে জানানো হয়েছে (Bangladesh News)।
এই বিক্ষোভের আয়োজন করে ত্রিপুরার (Tripura) অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী যুব সংগঠন ইউথ টিপরা ফেডারেশন (YTF)। সংগঠনের অভিযোগ, হাসনাত আবদুল্লা মন্তব্য করেছেন, ভারত যদি বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে, তবে তার পাল্টা জবাব হিসেবে ঢাকাও (Dhaka) ভারতের উত্তর-পূর্বের ‘সেভেন সিস্টার্স’ রাজ্যগুলিকে বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগে মদত দিতে পারে। এই মন্তব্যকে ‘অপমানজনক ও উসকানিমূলক’ বলে দাবি করেন বিক্ষোভকারীরা।
উল্লেখ্য, হাসনাত আবদুল্লা ২০২৪ সালের বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ‘স্টুডেন্টস অ্যাগেনস্ট ডিসক্রিমিনেশন’ মঞ্চের প্রাক্তন আহ্বায়ক। শুক্রবারের বিক্ষোভে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের বিরুদ্ধেও স্লোগান ওঠে। যদিও ডেপুটি হাই কমিশনের বাইরে মোতায়েন নিরাপত্তারক্ষীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখেন।
‘১৯৭১ ভুলে গেলে চলবে না’
বিক্ষোভসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওয়াইটিএফ সভাপতি সুরজ দেববর্মা বলেন, “বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম যেন ভুলে যাচ্ছে, ভারতের সহযোগিতা এবং ভারতীয় সেনার আত্মত্যাগের ফলেই ১৯৭১ সালে সেই দেশের জন্ম।” তাঁর অভিযোগ, আজ সেই ইতিহাস উপেক্ষা করেই ভারতকে শত্রু হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
তিনি আরও বলেন, এর আগেও বাংলাদেশের এক প্রাক্তন সেনা আধিকারিক উত্তর-পূর্ব ভারতকে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করার কথা বলেছিলেন, যেখানে শিলিগুড়ি করিডরের প্রসঙ্গ উঠে এসেছিল। দেববর্মার দাবি, এই বিক্ষোভের মাধ্যমে ঢাকাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে উত্তর-পূর্ব ভারতের সমুদ্রপথে সরাসরি কোনও যোগাযোগ নেই, এবং পরিস্থিতি এমন দিকে গেলে ‘টিপরাসা জনগোষ্ঠীকে প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য করা হতে পারে’।
এর আগেও দক্ষিণ ত্রিপুরার বেলোনিয়া সীমান্তে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর অবৈধ বাঁধ নির্মাণের অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন YTF সভাপতি। এ দিন তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ভারত-বাংলাদেশের চার হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ সীমান্তে কড়া নজরদারির দাবি জানান। পাশাপাশি বলেন, কেন্দ্র ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে আদিবাসী মানুষদের নিজেদের জমি ও স্বার্থ রক্ষার ক্ষমতা দেওয়া উচিত।