
বাংলাদেশে আর্থিক অবরোধ জারি হলে সেদেশে বস্ত্র শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
শেষ আপডেট: 16 November 2024 14:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইন্দো-আমেরিকান গোষ্ঠী বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচারের প্রতিবাদে ঢাকার উপর আর্থিক অবরোধ জারির চাপ সৃষ্টি করছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। আগামী বছরে ক্ষমতায় বসতে চলা ট্রাম্প প্রশাসন যাতে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নির্যাতন ঠেকাতে কড়া পদক্ষেপ নেয় তার জন্য তোড়জোড় চালাচ্ছে মার্কিন-ভারতীয় গোষ্ঠী। মার্কিন কংগ্রেসে এজন্য আর্থিক অবরোধ জারি সহ বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রস্তাব আনার জোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ডাক্তার ভরত বরাই এনিয়ে তৎপর হয়েছেন। বরাই সেদেশের ভারতীয়-আমেরিকান গোষ্ঠীর একজন প্রভাবশালী কর্ণধার। তিনিই ভাবী ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তৎপরতা শুরু করেছেন। ভারতীয়-আমেরিকানদের দাবি, বাংলাদেশের উপর নতুন সরকার আর্থিক অবরোধ তৈরি করুক।
সম্প্রতি ক্যাপিটলে দেওয়ালি উৎসবের অনুষ্ঠানে বরাই জোরের সঙ্গে বাংলাদেশের বিষয়ে ট্রাম্পের বিদেশনীতিকে স্মরণ করিয়ে দেন। হবু প্রেসিডেন্টের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে তিনি ট্রাম্পের একটি নির্বাচনী ভাষণের কথাও তুলে ধরেন। ভোটের আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, বাংলাদেশে হিন্দু, খ্রিস্টানদের উপর বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা করছি। এই প্রতিহিংসার কারণে বাংলাদেশে নৈরাজ্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বরাই বলেন, বাংলাদেশে যাতে ট্রাম্প প্রশাসন আর্থিক অবরোধ জারি করে তার জন্য আমরা কংগ্রেসেও দাবি তুলব। তাঁর দাবি, বাংলাদেশে আর্থিক অবরোধ জারি হলে সেদেশে বস্ত্র শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের অর্থনীতির শিকড় হল বস্ত্র শিল্প। তৈরি পোশাক বিক্রি করে ঢাকা প্রচুর পরিমাণে বিদেশি মুদ্রা আয় করে থাকে।
একইসঙ্গে বরাই ভারত সরকারের কাছে আর্জি জানিয়ে বলেন, নয়াদিল্লি যেন বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচার নিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা করে এবং আর্থিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। কারণ, ভারতের সঙ্গেই বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণে বাণিজ্য লেনদেন হয়ে থাকে। তাঁর আশা, এই জাতীয় চাপে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার বিব্রতবোধ করবে। তারা হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় ব্যবস্থা নেবে।