ভোট বৈতরণী পেরতে ভাতার রাজনীতিতে পা রাখতে চলেছে বাংলাদেশ। এই মুহূর্তে সে দেশের রাজনীতিতে অন্যতম দল বিএনপি (BNP) তাদের নির্বাচনী ইস্তাহারে (Election Manifesto) ঘোষণা করেছে, ক্ষমতায় এলে তারা প্রতি মাসে দরিদ্র পরিবারগুলিকে (poor Bangladeshi families) আড়াই হাজার টাকা করে সহায়তা দেবে।

শেষ আপডেট: 6 February 2026 16:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোট বৈতরণী পেরতে ভাতার রাজনীতিতে পা রাখতে চলেছে বাংলাদেশ। এই মুহূর্তে সে দেশের রাজনীতিতে অন্যতম দল বিএনপি (BNP) তাদের নির্বাচনী ইস্তাহারে (Election Manifesto) ঘোষণা করেছে, ক্ষমতায় এলে তারা প্রতি মাসে দরিদ্র পরিবারগুলিকে (poor Bangladeshi families) আড়াই হাজার টাকা করে সহায়তা দেবে। প্রয়োজনে নগদ অর্থের পরিবর্তে সমমূল্যের নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রীও পরিবারগুলি পেতে পারে।
শুক্রবার ঢাকার একটি পাঁচতারা হোটেলে জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপি তাদের ইস্তাহার প্রকাশ করেছে। দলের প্রথম সনে দুই নেতা মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (Mirza Fakrul Islam Alamgir, BNP secretary general) এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান (Nazrul Islam Khan, Standing committee membersl of BNP) ইস্তাহার প্রকাশ করে জানান, বিএনপি'র ঘোষণাপত্র নিছক ঘোষণা নয়। বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে এই ঘোষণাপত্র কার্যকর করবে দল।
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত বছর ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে ফিরেছেন। সেদিন দলের সভায় খালেদা জিয়ার পুত্র তারিখ ঘোষণা করেছিলেন 'আই হ্যাভ এ প্ল্যান'। তখন থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছিল তারেকের পরিকল্পনা কী। বিএনপি তরফে শুক্রবার বলা হয়েছে, দলের ইস্তাহারে পার্টির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা সদ্যপ্রয়াত চেয়ারম্যান খালেদা জিয়া এবং নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভাবনাকে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের খবর, বাংলাদেশে বিগত সরকারগুলি বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের জন্য নগদ ভাতার ব্যবস্থা করলেও এই প্রথম সামগ্রিকভাবে সমস্ত জাতি-ধর্ম-সম্প্রদায় নির্বিশেষে প্রতিমাসে ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু হতে পারে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে।
বৃহস্পতিবারই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে টাকার অংক ১০০০ থেকে বৃদ্ধি করে দেড় হাজার করেছে। ভোটের আগে ভাতা ঘোষণা বা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত ঘিরে ভারতে যখন বিতর্ক তুঙ্গে তখন পড়শি দেশ বাংলাদেশের রাজনীতিতেও এবার সরকারের নগদ আর্থিক সহায়তার বিষয়টি আলোচনায় চলে এল।
নয়টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে বিএনপির মোট ৫১ দফা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইস্তাহার প্রকাশ করেছে। তারেক রহমান দলের চেয়ারম্যান হওয়ার পর এই প্রথম তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করল। এই প্রথম তারেক নিজেও জীবনে প্রথমবার কোন নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
১. প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে 'ফ্যামিলি কার্ড' চালু করে প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অর্থসেবার এই পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।
২. কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে 'কৃষক কার্ড'-এর মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষি বীমা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণ জোরদার করা হবে। মৎস্যচাষি, পশুপালনকারী খামারি ও কৃষি খাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এই সুবিধা পাবেন।
৩. দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা এবং রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
৪. আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন, প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সহায়তা এবং 'মিড-ডে মিল' চালু করা হবে।
৫. তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা সহায়তা, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্তকরণ এবং মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।
৬. ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে।
৭. পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে দেশপ্রেমী জনগণের স্বেচ্ছাশ্রম ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল খনন ও পুনঃখনন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপন এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে।
৮. ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করা হবে।
৯. ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম (পেপাল) চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন এবং 'মেড ইন বাংলাদেশ' পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ করা হবে।
এর আগে পঞ্চম থেকে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইস্তাহার প্রকাশ করেছিলেন বিএনপি'র সদ্যপ্রয়াত চেয়ারম্যান তথা তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। পরে তিনটি নির্বাচনের দুটি বিএনপি বয়কট করেছিল। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় খালেদা জিয়া কারাবন্দি ছিলেন।