বাংলাদেশের এবারের নির্বাচনের জোড় প্রচার চলছে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে ইসলামী শাসনব্যবস্থা কায়েম হবে দেশে।

শেষ আপডেট: 5 February 2026 07:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশ (Bangladesh) জামায়াত ইসলামের (Jamaat-e-islami) আমির শফিকুর রহমান দিন কয়েক আগে দাবি করেছিলেন ভারতের একজন কূটনীতিক তার সঙ্গে একান্তে দীর্ঘ সময় কথা বলেছেন। তবে সেই কূটনীতিক অনুরোধ করায় তিনি তার নাম বলতে চান না। তাদের আলোচনায় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের (India Bangladesh relationship) উন্নয়নে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে কথা হয়েছিল।
জামাত আমিরের সেই বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে দলটির নির্বাচনী ইস্তাহারকে কেন্দ্র করে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাতে ভারত ও চিনের সঙ্গে সুসম্পর্ক উন্নয়নে জোর দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছে। আশ্চর্যজনকভাবে ইস্তাহারে পাকিস্তানের নাম উল্লেখ নেই। সামগ্রিকভাবে ইসলামিক দুনিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা অবশ্য বলা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কারো কারো মত ইস্তাহারে আলাদা করে পাকিস্তানের নাম উল্লেখ না করে জামাত আসলে তাদের কৌশল বদলের ইঙ্গিত দিল। বাংলাদেশের জামাত পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু দল হিসেবে পরিচিত। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে দলটি পাকিস্তানের পক্ষ নেওয়ায় এখনো তাদের কথা শুনতে হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা কেউ কেউ মনে করছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের নেতারা দলের গা থেকে পাকিস্তানি অনুগামী তকমা ঝেড়ে ফেলতে চান। বিশেষ করে নির্বাচনী ময়দানে আওয়ামী লিগের অনুপস্থিতিতে বিএনপি'র মতো মধ্যপন্থী দলের সঙ্গে ভারতের উদীয়মান সুসম্পর্ককে বিবেচনায় রেখে কট্টর ইসলামীপন্থী দলটি সরকার গঠনের ভাবনাকে সামনে রেখে ভারতকে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অনেকেই মনে করছেন। কেউ কেউ কটাক্ষ করে এই ঘোষণাকে জামাতের ডিগবাজি বলেও মন্তব্য করছেন।
বাংলাদেশের এবারের নির্বাচনের জোড় প্রচার চলছে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে ইসলামী শাসনব্যবস্থা কায়েম হবে দেশে। নারীদের স্থান হবে ঘরে। এমনকি বর্তমানে কর্মরত নারীদের কাজের সময় কমিয়ে তাদের সংসারে আরো বেশি সময় দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে এমন প্রচারও জামায়াতে ইসলামিক সমাবেশ গুলিতে শোনা গিয়েছে। তা নিয়ে দলটিকে গুরুতর বিতর্কের মুখে পড়তে হয়।
এই প্রেক্ষাপটে জামাতের ইস্তাহারে নারীদের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বিশেষ উল্লেখ অনেকেরই নজর কেড়েছে। তাতে বলা হয়েছে যুবসমাজের পাশাপাশি নারীদেরও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে আরো বেশি অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া হবে। এমনকি জামাত সরকার গড়লে মন্ত্রিসভাতে ও মহিলাদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হবে বলে দলটির তরফে জানানো হয়েছে। এমনকি জামায়াতের ইস্তাহারে শরিয়া অর্থাৎ ইসলামিক শাসন ব্যবস্থা কায়েমের কথা বলা হয়নি।
মোট ৭০ পাতার ইস্তাহারে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী পাঁচটি বিষয়ে 'হ্যাঁ এবং পাঁচটি বিষয়ে 'না' উল্লেখ করেছে। 'হ্যাঁ'-র মধ্যে রয়েছে সততা, ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থান। ‘না’-এর মধ্যে আছে- দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব ও চাঁদাবাজি।
ইস্তাহারে মোট ২৬ টি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জামাত। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঘোষণা হল,
জাতীয় স্বার্থে আপসহীন বাংলাদেশ' এই স্লোগানের আলোকে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থে আপসহীন রাষ্ট্র গঠন;
. বৈষম্যহীন, ন্যায়, ইনসাফভিত্তিক মানবিক বাংলাদেশ গঠন;
. যুবকদের ক্ষমতায়ণ এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদেরকে প্রাধান্য দেওয়া;
. নারীদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র গঠন।
. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি নিরাপদ রাষ্ট্র বিনির্মাণ।
. সকল পর্যায়ে সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন;
. প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ও স্মার্ট সমাজ গঠন।
. প্রযুক্তি, ম্যানুফ্যাকচারিং, কৃষি ও শিল্পসহ নানা সেক্টরে ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারি চাকরিতে বিনামূল্যে আবেদন, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ও সকল ধরনের বৈষম্য দূরীকরণ;
. ব্যাংকসহ সার্বিক আর্থিক যাতে সংস্কারের মাধ্যমে আস্থা ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগ ও ব্যবসা বান্ধব টেকসই ও স্বচ্ছ অর্থনীতি বিনির্মাণ;
. সমানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতির নির্বাচনসহ সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী করে সুসংহত ও কার্যকর গণতন্ত্র নিশ্চিত করা।