বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুনানির সময় আমিনুল গণি নিজেকে হাসিনার আইনজীবীর ভূমিকা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন।

শেষ আপডেট: 25 June 2025 16:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (ICT-International Crimes Tribunal) মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (ex PM Sheikh Hasina) পক্ষে সওয়াল করবেন না আইনজীবী আমিনুল গণি (টিটু) (Lawyer Aminul Gani Titu)। বুধবার তিনি নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মহম্মদ আমির হোসেনকে (Md Amir Hossain)। তাঁকে অবশ্য ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানই সরে যেতে পরামর্শ দেন।
শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁর হয়ে মামলা লড়ার জন্য সরকারের তরফে নিয়ম মেনে নিয়োগ করা হয়েছিল আমিনুল গণিকে। তিনি শেখ হাসিনার একজন কড়া সমালোচক। এমনকী গত বছর ৫ অগাস্ট হাসিনা সরকারের পতনের দিন তিনি আওয়ামী লিগ (Awami League) সুপ্রিমোর ফাঁসি চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন। সেই খবর জানাজানি হতে গণির নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। বিস্ময় ও বিরক্তি প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা।
বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুনানির সময় আমিনুল গণি নিজেকে হাসিনার আইনজীবীর ভূমিকা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি গোলাম মোর্তূজা মজুমদারের বেঞ্চ সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।
তবে তাঁর নিয়োগ ঘিরে বিতর্কে বিরক্ত আবদুল গণি। তিনি বলেন, এ কথা ঠিক যে আমি শেখ হাসিনার কড়া সমাকলোচক। ২০১৩ সাল থেকে আমি ফেসবুকে হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে লেখালেখি করেছি। কিন্তু আইনজীবী হিসাবে আদালতে দাঁড়ালে তাঁর পক্ষেই যুক্তির জাল বুনতাম।
এর আগে বিচারপতি বলেন, ট্রাইব্যুনাল তাঁকে বলেন, ‘এই ক্লায়েন্টের (শেখ হাসিনা) ওপর আপনার মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার ঝড় তুলেছে। আবার আপনিই তাঁকে ডিফেন্ড করতে চাইছেন।, এটা মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি করেছে।’ জবাবে আমিনুল গনি বলেন, আইনজীবী হিসেবে তিনি যে সৎ, তা তিনি প্রমাণ করতে চান। কিন্তু নৈতিকতার প্রশ্ন তোলে ট্রাইব্যুনাল।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে কীভাবে তাঁর বিচার চলবে সে ব্যাপারে ট্রাইব্যুনালকে পরামর্শ দিতে একজন অ্যামিকাস কিউরি বা আদালত বান্ধব নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী এ ওয়াই মশিউর রহমান। অন্যদিকে, আইনের বিধান মেনে ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার হয়ে মামলা লড়তে একজন আইনজীবীকে নিয়োগ করে। সেই আইনজীবী আমিনুল গণি টিটুর নিয়োগ নিয়ে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। ট্রাইব্যুনালে যিনি হাসিনাকে নির্দোষ প্রমাণে লড়াই করবেন দেখা যাচ্ছে সেই আইনজীবী এর আগে শেখ হাসিনার ফাঁসি দাবি করেছেন।
গত বছর ৫ অগাস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর ওই আইনজীবী ফেসবুক পোস্টে লেখেন, 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংসকারী, খুনি, মিথ্যাবাদী শেখ হাসিনার ফাঁসি চাই।'
এমন একজন আইনজীবীকে কীভাবে হাসিনার আইনজীবী হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হল তা নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়। ট্রাুইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, আইনজীবী হিসাবে কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে তা সম্পূর্ণভাবে ট্রাইব্যুনালের বিষয়। সরকারের কিছু করণীয় নেই।
এদিকে, শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেছেন, এটা একটা প্রহসন। আমার মায়ের মামলায় সরকার যাঁকে নিয়োগ করেছে তিনিই মায়ের ফাঁসি চেয়ে ফেসবুকে সরব হয়েছিলেন। বোঝাই যাচ্ছে বিচার কীভাবে হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি এর আগে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী আসামিদের হয়ে মামলা লড়ছেন। তাঁর নিয়োগ নিয়েও বিতর্ক আছে।