ঢাকার খিলক্ষেত এলাকায় দুর্গা মন্দির ভাঙা এবং লালমনিরহাটে তথাকথিত ধর্ম অবমাননার অজুহাতে পরেশ চন্দ্র শীল ও বিষ্ণুপদ শীলের উপর হামলার প্রতিবাদে শুক্রবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে।

শেষ আপডেট: 27 June 2025 15:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঢাকার খিলক্ষেত এলাকায় দুর্গা মন্দির ভাঙা এবং লালমনিরহাটে তথাকথিত ধর্ম অবমাননার অজুহাতে পরেশ চন্দ্র শীল ও বিষ্ণুপদ শীলের উপর হামলার প্রতিবাদে শুক্রবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশ থেকে দোষীদের শাস্তি দাবি করা হয়। খিলক্ষেতের দুর্গা মন্দিরটি অবশ্য সরকারি প্রশাসন বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয়। বাংলাদেশ রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, মন্দিরটি রেলের জমিতে ছিল। রেল।জমি দখলমুক্ত করেছে।
মানব বন্ধনে বক্তব্য রাখেন হিন্দু মহাজোটের সভাপতি দীনবন্ধু রায়, নির্বাহী সভাপতি প্রদীপ কুমার পাল, প্রধান সমন্বয়কারী বিজয় কৃষ্ণ ভট্টাচার্য, মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক প্রমুখ।
বক্তারা বলেন মৌলবাদীদের দাবির প্রেক্ষিতে ঢাকার খিলক্ষেত পুলিশ ও সেনাবাহিনী বুলডোজার দিয়ে শ্রী শ্রী দূর্গা মন্দির ও প্রতিমা ধ্বংস, মন্দির পুজার আসবাবপত্র ও প্রতিমা অসম্মান করে ট্রাকে করে লুঠ করেছে। লালমনিরহাটে তথাকথিত ধর্ম অবমাননার অযুহাতে পরেশ চন্দ্র শীল ও বিষ্ণুপদ শীল এর উপর হামলা রক্তাক্ত জখম ও মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। খিলক্ষেত এলাকার মৌলবাদীদের দাবিতে সরকার কর্তৃক ধ্বংস করা মন্দিরের পাশেই রেলওয়ের জমিতে মসজিদ, মাদ্রাসা ও একাধিক রাজনৈতিক দলের অফিস রয়েছে। সরকার সেসব ধ্বংস না করে শুধুমাত্র হিন্দু মন্দির ও প্রতিমা ধ্বংস করে চরম সাম্প্রদায়িকতার পরিচয় দিয়েছে।

দেশে হিন্দু বিদ্বেষ চরম আকার ধারন করেছে বলে সংগঠনটির দাবি। তারা বলেছে, দেশে হিন্দুদের জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। কিছুদিন আগে যশোরে ১৮টি হিন্দু বাড়ি দোকান, মোটর সাইকেল সহ ঘরের আসবাবপত্র, খাদ্য সব কিছুতে আগুন দেওয়া হয়। ধর্ম অবমাননার অজুহাতে বিভিন্ন স্থানে হামলা ও মিথ্যা মামলার ঘটনা ঘটেছে।
সরকার এবং প্রশাসন পুরোটাই মৌলবাদীদের ইসারায় চলছে। লালমনিরহাটে মব সৃষ্টিকারীদের গ্রেফতার না করে উল্টো হামলায় রক্তাক্ত যখম হওয়া আক্রান্তদের মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করেছে।
বক্তারা আরও বলেন, আমরা আশা করেছিলাম স্বৈরাচার উচ্ছেদের পর দেশে কোন বৈষম্য থাকবে না। সকল ধর্মের মানুষ সমঅধিকার ও সম মর্যাদা পাবে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, উপদেষ্টা পরিষদে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নাই। ১০টি সংস্কার কমিটির একটিতেও কোন হিন্দু সদস্য নাই। বিভিন্ন সেক্টরের নিয়োগে হিন্দু সম্প্রদায় উপেক্ষিত। শুধু তাই নয় যে সংবিধান সকল নাগরিকের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন, সেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের মতামতও গ্রহণ করেনি। পুরো প্রশাসন তালিবানী মতাদর্শে চলছে।
গত দুই মাসের মধ্যে সারা দেশে হিন্দু নির্যাতনের ঘটনা অতীতের সআ রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। প্রতিদিনই দেশের কোনও না কোনও স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ভাঙচুর, জমি দখল, হত্যা, হত্যা প্রচেষ্টা, অপহরণ, নারী নির্যাতন, মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার, দেশত্যাগের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
বক্তারা বলেন খিলক্ষেতের মন্দিরের জায়গাটি ছিল ভাওয়াল রাজা রাজেন্দ্র নারায়ন রায় চৌধুরীর সম্পত্তি। রেলওয়ে কোন প্রকার ক্ষতিপূরণ না দিয়ে দখল করেছে। সুতরাং হিন্দুর সম্পত্তিতে হিন্দুর মন্দির অবৈধ ছিল না। রেলওয়ে ও প্রশাসন শুধু মন্দির ও প্রতিমা ধ্বংস করেই ক্ষান্ত হয় নাই। প্রতিমাগুলো চরম অসম্মান করে ভেঙ্গেচুরে দড়ি দিয়ে বেঁধে ট্রাকে করে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে ফেলে দিয়ে চরম ধর্ম অবমাননা করেছে। তার ভিডিও ফুটেজ সোসাল মিডিয়া সহ গোয়েন্দা ও প্রশাসনের হাতে থাকা সত্বেও রেল উপদেষ্টা চরম মিথ্যাচার করে বিবৃতি দিয়েছে হিন্দু সম্প্রদায় তাদের প্রতিমা বিষর্জন দিয়েছে। রেল উপদেষ্টা এহেন চরম মিথ্যাচার করে শপথ ভঙ্গ করেছেন। এই চরম মিথ্যাবাদীর এক মিনিটও ক্ষমতায় থাকার অধিকার নাই।
সংগঠনের দাবি, আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে রেল উপদেষ্টার পদত্যাগ ও তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার মামলা দায়ের, মব সৃষ্টিকারী অপরাধীদের গ্রেফতার ও মানবতা বিরোধী অপরাধ ট্রাইবুনালে বিচার করে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারের দখলে থাকা রাজধানীর টিকাটুলির মদনেশ্বর মহাদেব মন্দিরের জায়গায় নির্মিত রাজধানী মার্কেট ও ৪ তলা মসজিদ উচ্ছেদ, ৯০/৯১ হৃষিকেশ দাস রোডের সীতানাথ মন্দিরের জায়গা দখলমুক্ত করা, ওয়ারীর ৩৮ টিপু সুলতান রোডের শঙ্খ নিধি মন্দির, ১ নং পুরনো পল্টনের লক্ষ্মী নারায়ণ মন্দিরের জায়গায় নির্মিত এফএ টাওয়ার সহ সারা দেশের বেদখলকৃত সকল মন্দির ও মন্দিরের জায়গা থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে আগামী ৭ দিনের মধ্যে হিন্দুদের কাছে ফেরৎ দিতে হবে। অন্যথায় সারাদেশে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তারা বলেন ৭ দিনের মধ্যে দেশের সকল মন্দিরের জায়গা যদি দখলমুক্ত না হয় তাহলে এই মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক সরকারের অধীনে হিন্দু সম্প্রদায় কোন ভোট কেন্দ্রে যাবে না, কোন ভোটে অংশগ্রহণ করবে না, সকল ধরনের ভোট বর্জন করবে।