বক্তারা বলেন, বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা ধ্বংস, মন্দির ধ্বংস পুজার আসবাবপত্র চুরি হয়েছে। লালমণিরহাটে তথাকথিত ধর্ম অবমাননার অযুহাতে পরেশ চন্দ্র শীল ও বিষ্ণুপদ শীল-এর উপর হামলা রক্তাক্ত জখম ও মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 4 July 2025 19:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হিন্দুদের জন্য আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। জনসংখ্যার নিরিখে এই সংরক্ষণ দাবি করেছে বাংলাদেশ জসতীয় হিন্দু মহাজোট। শুক্রবার ঢাকায় প্রেস ক্লাবের সামনে মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে জোটের বক্তারা এই দাবি উত্থাপন করেন।
তাঁরা বলেন, প্রতিটি জাতীয় নির্বাচন হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে নির্যাতন হয়ে ফিরে আসে। নির্বাচন উপলক্ষে হিন্দু নির্যাতন বন্ধে জাতীয় সংসদ সহ সর্বক্ষেত্রে সংরক্ষিত আসন ও পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা পুনঃ প্রতিষ্ঠা, বিভিন্ন স্থানে মন্দির ও প্রতিমা ভাংচুর এবং লালমনিরহাটে তথাকথিত ধর্ম অবমাননার অযুহাতে পরেশ চন্দ্র শীল ও বিষ্ণুপদ শীল এর উপর হামলা, রক্তাক্ত যখম ও মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারের প্রতিবাদে, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় জোট। মহাজোটের সভাপতি অ্যাডঃ দীনবন্ধু রায়, নির্বাহী সভাপতি অ্যাডঃ প্রদীপ কুমার পাল, সহ সভাপতি দুলাল মন্ডল, প্রদীপ কুমার দাস, প্রধান সমন্বয়কারী বিজয় কৃষ্ণ ভট্টাচার্য, মহাসচিব অ্যাডঃ গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক প্রমুখ ভাষণ দেন।

বক্তারা বলেন, বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা ধ্বংস, মন্দির ধ্বংস পুজার আসবাবপত্র চুরি হয়েছে। লালমণিরহাটে তথাকথিত ধর্ম অবমাননার অযুহাতে পরেশ চন্দ্র শীল ও বিষ্ণুপদ শীল এর উপর হামলা রক্তাক্ত জখম ও মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। কুমিল্লা সহ বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ, খুন মহামারি আকার ধারন করেছে। স্বাধীনতার পর থেকেই হিন্দু সম্প্রদায় সর্বক্ষেত্রে অবহেলার শিকার। জাতীয় সংসদে হিন্দু সম্প্রদায়ের কোন প্রতিনিধি না থাকায় হিন্দুরা বছরের পর বছর নির্যাতিত হচ্ছে। কিছুদিন আগে যশোরে ১৮টি হিন্দু বাড়ি দোকান, মটর সাইকেল সহ ঘরের আসবাবপত্র, খাদ্য সব কিছু ভষ্মীভূত করা হয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, আমরা আশা করেছিলাম স্বৈরাচার উচ্ছেদের পর দেশে কোন বৈষম্য থাকবে না। সকল ধর্মের মানুষ সমঅধিকার ও সম মর্যাদা পাবে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, উপদেষ্টা পরিষদে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নেই। ১০টি সংস্কার কমিটির একটিতেও কোন হিন্দু সদস্য নেই। বিভিন্ন সেক্টরের নিয়োগে হিন্দু সম্প্রদায় উপেক্ষিত। শুধু তাই নয়, যে সংবিধান সকল নাগরিকের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন। সেই সংবিধান সংস্কারেও হিন্দু সম্প্রদায়ের মতামতও গ্রহণ করেনি।

প্রতিদিনই দেশের কোন না কোন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ভাঙচুর, জমি দখল, হত্যা, হত্যা প্রচেষ্টা, অপহরণ, নারী নির্যাতন, মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার, দেশ ত্যাগে বাধ্যকরনের হুমকীর মত একের পর এক ঘটনা ঘটেই চলেছে।
বক্তারা বলেন শত্রু সম্পত্তি আইনের যাঁতাকলে হিন্দু সম্প্রদায়ের ২৬ লাখ একর সম্পত্তি দখল হয়েছে। ঢাকার মদনেশ্বর মহাদেব জিউ ঠাকুরের দেবোত্তর সম্পত্তি, টিপু সুলতান রোডের শঙ্খনিধি মন্দির, হৃষিকেশ দাস রোডের সীতানাথ মন্দির সহ শত শত মন্দির ও দেবোত্তর সম্পত্তি বেদখল হয়েছে। সারাদেশে সরকারের দখলে থাকা সকল মন্দির ও মন্দিরের জায়গা হিন্দুদের কাছে ফেরতের দাবি করেন। বক্তারা বলেন জাতীয় সংসদে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব না থাকায় ওই সম্প্রদায় নির্যাতিত হতে হতে আজ সংকটের মুখোমুখি। আগামী নির্বাচনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসন ও পৃথক নির্বাচন পুনঃ প্রবর্তনের দাবি করেন। যদি সংরক্ষিত আসন ও পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা না করা হয় তাহলে আগামী কোন নির্বাচনে হিন্দু সম্প্রদায় ভোট কেন্দ্রে যাবে না, ভোটে অংশগ্রহণ করবে না, সকল ধরনের ভোট বর্জন করবে।