বুধবার বাংলাদেশ সরকার ভারতে বসে আওয়ামী লিগের কার্যকলাপ নিয়ে আপত্তি তোলার পরদিনও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক করেন হাসিনা। বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অভিযোগ করে আওয়ামী লিগ কলকাতা ও দিল্লিতে অফিস খুলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

শেষ আপডেট: 22 August 2025 16:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দলের নানা স্তরের নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় মুখোমুখি বৈঠক করছেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লিগের ছয় শীর্ষ নেতার সঙ্গে বৈঠকের পর দলের অঙ্গ সংগঠন ছাত্রলিগ, যুব লিগ, শ্রমিক ও কৃষক লিগের নেতাদের সঙ্গেও মুখোমুখি বৈঠক করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবারও দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ফের বৈঠক করেছেন তিনি। সেই বৈঠক ভার্চুয়াল মাধ্যমে হলেও আওয়ামী লিগের কাছে তা বাড়তি গুরুত্ব বহন করছে দুটি কারণে। প্রথমত, গত বছর ৫ অগস্ট সরকার পতন এবং তাঁর দেশত্যাগের পর হাসিনা টেলিফোনে নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্তরে বৈঠক করলেও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করার সুযোগ পাননি। দ্বিতীয়ত, গত পরশু অর্থাৎ বুধবার বাংলাদেশ সরকার ভারতে বসে আওয়ামী লিগের কার্যকলাপ নিয়ে আপত্তি তোলার পরদিনও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক করেন হাসিনা। বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অভিযোগ করে আওয়ামী লিগ কলকাতা ও দিল্লিতে অফিস খুলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। ভারত সরকার পত্রপাঠ সেই অভিযোগ নসাৎ করে দিয়েছে। আওয়ামী লিগের বৈঠকে ঢাকার প্রতিবাদ নিয়ে হাসিনা এবং আওয়ামী লিগ নেতারা কোনও মন্তব্য করেননি। দল আগেই পার্টি অফিস খোলা সংক্রান্ত খবরের বিরোধিতা করে বিবৃতি দিয়েছিল।
বৈঠকটি ডাকা হয়েছিল ২১ অগস্ট উপলক্ষে। ২১ বছর আগে, ২০০৪ সালের ওই দিনে ঢাকায় আওয়ামী লিগের সভায় গ্রেনেড হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান হাসিনা। তবে তাঁর এক কানের শ্রবণ শক্তি পুরোপুরি হারান। গ্রেনেডের আঘাতে মারা যান দলের বর্ষীয়ান নেত্রী আইভি রহমান-সহ ২২ নেতা-কর্মী। প্রতি বছর দিনটি শোক দিবস হিসাবে পালন করে আওয়ামী লিগ। দলের অভিযোগ, ওই হামলার অন্যতম কারিগর ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান এবং স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান। বাংলাদেশে তখন বিএনপি-জামাতের সরকার চলছিল।
এবার ২১ অগস্ট স্মরণে ভার্চুয়াল স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেই সুবাদে হাসিনার সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়া, জাহাঙ্গির কবীর নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন নাছিম, মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এস কামাল হোসেন এবং সুজির রায় নন্দী, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মৃণালকাম্তি দাস প্রমুখ। সভায় সভাপতিত্ব করেন হাসিনা। বৈঠকে হাসিনা বলেন, ১৯৭৫-এর ১৫ অগস্ট বঙ্গবন্ধু তথা জাতির পিতাকে হত্যা, ২০০৪-এর ২১ অগস্টের গ্রেনেড হামলা এবং গত বছর ৫ অগস্ট ছাত্র-জনতা বিপ্লবের নামে একই মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল।