বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বৃহস্পতিবার হাসিনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের স্বপক্ষে তীব্র সওয়াল করেন চিফ প্রসিকিউটর।

শেষ আপডেট: 23 October 2025 15:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার ট্রাইবুনালে গুরুতর অভিযোগ করলেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বৃহস্পতিবার হাসিনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের স্বপক্ষে তীব্র সওয়াল করেন চিফ প্রসিকিউটর।
সওয়ালে তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশে গৃহযুদ্ধ বাঁধাতে চাইছেন। তিনি সেনাবাহিনীকে উসকে দিয়ে বলছেন তোমাদের সদস্যদের ট্রাইবুনালে বিচার হচ্ছে। তোমরা কেন প্রতিবাদ করছ না। চিফ প্রসিকিউটর বলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী এইভাবে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে উসকানি দিতে চাইছেন।
প্রসঙ্গত মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকার দায়ে পঁচিশ জন সাবেক ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা অফিসারের বিরুদ্ধে ট্রাইবুনালে মামলা করেছে বাংলাদেশ সরকার।। তাদের মধ্যে কর্মরত ১৫ জন ট্রাইবুনালে হাজির হলে তাদের কারাগারে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। ঢাকার সেনানিবাসের একটি ভবনকে সাবজেল ঘোষণা করে সেখানে রাখা হয়েছে ধৃত সেনা অফিসারদের। হাসিনা দলের ফেসবুক পেজের ভাষণে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র খুব প্রকাশ করে বলেন, ইউনুস সরকার দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে অপমান করছে। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন এইভাবে একদিন সরকার ওয়াকারকেও ছোবল মারবে না তার কোন গ্যারান্টি আছে কি?
ট্রাইবুনালে গত তিন দিন শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং বাংলাদেশ পুলিশের প্রাক্তন আইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের জন্য সরকার নিয়োজিত আইনজীবী তাঁদের পক্ষে সওয়াল করেন। সেই আইনজীবী বলেন শেখ হাসিনা দেশের প্রভূত উন্নয়ন করেছেন। সেই কারণেই চক্রান্ত করে তাঁকে ক্ষমতারচ্যুত করা হয়। এই ট্রাইবুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিচার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আইনজীবী।
বৃহস্পতিবার চিফ প্রসিকিউটর সিকিউটার তাজুল ইসলাম এবং ট্রাইবুনালের বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার একযোগে দাবি করেন, ট্রাইবুনাল আইনে কোন অসঙ্গতি নেই। আসামিদের ন্যায্য বিচারের ব্যবস্থা এই চাইবুনালে আছে। এদিকে, বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার ঘোষণা করেছেন আগামী ১৩ নভেম্বর এই মামলায় শেখ হাসিনা এবং অন্য আসামীদের সাজা ঘোষণার তারিখ জানানো হবে। নভেম্বর মাসের মধ্যেই সাজা ঘোষণা হবে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে।
ট্রাইব্যুনালে ইতিমধ্যেই সরকারের তরফে চিফ প্রসিকিউটর শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন। এই মামলায় প্রধান ৩ আসামী হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনা ও তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের আইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। আইজি মামুন ইতিমধ্যে মামলায় রাস সাক্ষী হয়েছেন। সেই কারণে সরকার পক্ষ তাঁর করা সাজা দাবি করেনি।