চলতি বছরের ১২ মে থেকে ইউনুস সরকার আওয়ামী লিগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে রেখেছে। প্রতিদিনই সাবেক শাসক দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করছে পুলিশ ও সেনার যৌথ বাহিনী। বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং মানবাধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ করতেও প্রধান উপদেষ্টাকে বলেছে ওই ছয় সংগঠন।

শেষ আপডেট: 20 October 2025 19:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আওয়ামী লিগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসকে চিঠি দিয়েছে ছয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। চলতি বছরের ১২ মে থেকে ইউনুস সরকার আওয়ামী লিগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে রেখেছে। প্রতিদিনই সাবেক শাসক দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করছে পুলিশ ও সেনার যৌথ বাহিনী। বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং মানবাধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ করতেও প্রধান উপদেষ্টাকে বলেছে ওই ছয় সংগঠন।
এগুলি হল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, সিভিকাস, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস, ফর্টিফাই রাইটস, রবার্চ এফ. কেনেডি হিউম্যান রাইটস এবং টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট। ইউনুস সরকারের জন্য তারা ১২টি বিষয়ে নজর দিতে বলেছে। তার মধ্য আছে, সেনা-পুলিশ-প্রশাসনের জবাবদিহিতা ও বিচারের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা। নিরাপত্তা খাতে সংস্কার, গুমের অপরাধ নির্ধারণ ও তদন্ত কমিশন শক্তিশালীকরণ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সংস্কার, ব্যক্তির স্বাধীনতা রক্ষার আইন সংস্কার, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা ও নজরদারি সীমিত করা, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার, আওয়ামী লিগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সিভিল সোসাইটি ও এনজিওর স্বাধীনতা, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সঙ্গে সহযোগিতা। চিঠিতে তারা বলেছে, আগের সরকারের সময় সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলির বিচারের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি নির্বিচারে গ্রেফতার ও আটক, বিশেষ করে আওয়ামী লিগ সংশ্লিষ্ট যেসব মামলার যথাযথ প্রমাণ নেই বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে হয়- তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
প্রসঙ্গত, এই প্রথম হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো প্রথমসারির আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আওয়ামী লিগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানাল। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে আরও পাঁচটি সংগঠন। জানা যাচ্ছে, ইউনুস সরকারের উপর আরও আন্তর্জাতিক সংগঠন একই দাবি জানাতে চলেছে। এতদিন মনে করা হচ্ছিল আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আওয়ামী লিগ একঘরে হয়ে পড়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সহ ছয় সংস্থার চিঠিতে সেই সংশয়ও দূর হল। শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে মানবাধিকার হরণের ঘটনা নিয়ে ইতিপূর্বে দায়সাড়া তদন্ত রিপোর্ট পেশ করে বিতর্কে জড়িয়েছে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল। সেই সংস্থাও আওয়ামী লিগের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং সন্ত্রাস দমন আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের সমালোচনা করে তা প্রতাহারের দাবি জানিয়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লিগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় আছে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে শেখ হাসিনার দল ভোটেও অংশ নিতে পারবে।