খালেদা এমন সময় মারা গেলেন যখন তার গোটা রাজনৈতিক জীবনের প্রধান প্রতিপক্ষ আওয়ামী লিগ নির্বাচনী ময়দানের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেই। ইউনুস সরকার আওয়ামী লিগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি তাদের নির্বাচনী নিবন্ধন কেড়ে নিয়েছে।
_0.jpg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 30 December 2025 09:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মহম্মদ ইউনুস তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার (Yunus on Khaleda Zia Demise) মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার তাই তিনি বলেছেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত।
অধ্যাপক ইউনুস বলেন, বেগম খালেদা জিয়া (Bangladesh Former PM Khaleda Zia) কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী ছিলেন না; তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাঁর অবদান, দীর্ঘ সংগ্রাম এবং তাঁর প্রতি জনগণের গভীর আবেগ বিবেচনায় নিয়ে সরকার চলতি মাসের শুরুতে তাঁকে রাষ্ট্রের ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (ভেরি, ভেরি ইম্পর্ট্যান্ট পারসন)’ হিসেবে ঘোষণা করে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং বাংলাদেশের মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার আপসহীন নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশ বারবার অগণতান্ত্রিক পরিস্থিতি থেকে মুক্ত হয়েছে এবং স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে অনুপ্রাণিত হয়েছে। দেশ ও জনগণের প্রতি তার অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

যদিও খালেদা এমন সময় মারা গেলেন যখন তার গোটা রাজনৈতিক জীবনের প্রধান প্রতিপক্ষ আওয়ামী লিগ নির্বাচনী ময়দানের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেই। ইউনুস সরকার আওয়ামী লিগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি তাদের নির্বাচনী নিবন্ধন কেড়ে নিয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ হল অন্তর্বর্তী সরকারের আওয়ামী লীগকে নিয়ে সিদ্ধান্তে খালেদার দল বিএনপি (BNP) বিরোধিতা দূরে থাক বরং প্রবলভাবে সমর্থন করেছে। ফলে খালেদার বহুদলীয় রাজনৈতিক রক্ষার যে কৃতিত্বের কথা ইউনুস বলেছেন তার দল বিএনপি সেই অবদানকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে সে প্রশ্ন নেত্রী মৃত্যু কালেও উঠেছে।
ইউনুস বলেছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও জাতীয় কল্যাণে নিবেদিত তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, জনগণমুখী নেতৃত্ব এবং দৃঢ় অবস্থান সর্বদা পথনির্দেশক ছিল। তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ ও প্রমাণিত রাষ্ট্রনায়ককে হারাল।
প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী (Bangladesh's First Woman Prime Minister was Khaleda Zia) এবং বিএনপির চেয়ারপারসন, যিনি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তিনি বলেন, তাঁর স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালে বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তাঁর দৃঢ় নেতৃত্ব এইচ এম এরশাদের নয় বছরব্যাপী স্বৈরশাসন পতনে নির্ণায়ক ভূমিকা রাখে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার (Bangladesh Former PM Khaleda Zia) বহু উদ্যোগ ও সিদ্ধান্ত দেশকে এগিয়ে নিয়েছে। তিনি মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু করেন, যা বাংলাদেশে নারীশিক্ষার অগ্রগতিতে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক জীবনে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন অত্যন্ত সফল এবং কোনও নির্বাচনে তিনি পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সাধারণ নির্বাচনে তিনি পাঁচটি ভিন্ন সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে তিনি তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনটিতেই বিজয়ী হন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি অর্থনৈতিক উদারীকরণের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি স্থাপন করেন।
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বেগম খালেদা জিয়া সংগ্রাম ও প্রতিরোধের এক অনন্য প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন। তার আপসহীন অবস্থান দীর্ঘ সংগ্রামের সময় জাতিকে ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক সাফল্যের কারণেই বেগম খালেদা জিয়া চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হন। মিথ্যা ও সাজানো মামলায় তাকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং দীর্ঘ সময় কারাবরণ করতে হয়। প্রধান উপদেষ্টা বেগম খালেদা জিয়ার শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গ এবং তার দলের নেতাকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
জাতির এই অপূরণীয় ক্ষতির দিনে তিনি দেশের জনগণকে শান্ত ও ধৈর্যশীল থাকার আহ্বান জানান এবং সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও প্রার্থনা করার অনুরোধ জানান।