আওয়ামী লিগ নিয়ে ভারতের মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল ঢাকা। নির্বাচনের বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ না চাওয়ার বার্তা দিল বাংলাদেশ সরকার।

শফিকুল আলম
শেষ আপডেট: 13 May 2025 22:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আওয়ামী লিগকে (Awami League) নিয়ে ভারতের (India) মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া দিল বাংলাদেশ। প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম (Shafiqul Alam) মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই ব্যাপারে সরকারের অভিমত জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, আমরা দেখেছি যে আওয়ামী লিগের ১৫ বছরের দীর্ঘ অত্যাচারী ও দুর্নীতিপরায়ণ শাসনে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে। আমাদের রাজনৈতিক পরিসর কঠোরভাবে সংকুচিত করেছে এবং আমাদের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে আপস করা হয়েছে। এই দলের মানবতাবিরোধী অপরাধের কারণে যে ক্ষতিগুলি হয়েছে, তা এখনও তাজা।
শফিকুল আলম বিবৃতিতে আরও বলেছেন, আমি ইতিমধ্যেই বলেছি যে এই দলের কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা জরুরি। যাতে জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত থাকে। জুলাই (২০২৪) আন্দোলনের কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাদী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা প্রদান করা যায়।
সোমবার বিকালেই দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল আওয়ামী লিগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেন। তিনি বলেন, ‘কোনও উপযুক্ত আইনি প্রদ্ধতি অনুসরণ না করেই আওয়ামী লিগের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ উদ্বেগজনক পদক্ষেপ।’ বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র আরও বলেছেন, ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও পরিসর যেভাবে সঙ্কুচিত হয়ে আসছে তাতে একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারত স্বভাবতই উদ্বিগ্ন বোধ করছে।’
সেই সঙ্গে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বাংলাদেশে নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে দ্রুত একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের দাবিকে আমরা জোরালো সমর্থন জানাই।’ কূটনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে ভারত সরকার আরও একবার স্পষ্ট করে দেয় বাংলাদেশে আওয়ামী লিগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন হোক, চায় না নয়াদিল্লি।
শফিকুল আলম এই ব্যাপারে বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে, আমরা মনে করতে পারি, কীভাবে আওয়ামী লিগ বারবার নির্বাচন হাস্যকর করে তুলেছিল। দলট আমাদের নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও প্রতিষ্ঠানগুলি রঅপূরণীয় ক্ষতি সাধন করেছে। আমরা আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনর্গঠন করতে একটি সংস্কারের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন সম্পূর্ণরূপে আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমরা সবার কাছে আবেদন জানাচ্ছি যে, নির্বাচনের বিষয়ে আমাদের জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছাকে সম্মান জানানো হোক। কূটনৈতিক মহল মনে করছে, নির্বাচনকে অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে উল্লেখ করে ঢাকার তরফে নাক না গলানোর বার্তাই দেওয়া হয়েছে।