
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 23 December 2024 16:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে তৎপরতা জোরদার করল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লিগ নেত্রীকে তাদের হাতে তুলে দিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রক ভারত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন সোমবার ঢাকায় জানিয়েছেন, ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের কাছে কূটনৈতিক নোট পাঠানো হয়েছে। বলা হয়েছে, দেশে বিচারের উদ্দেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ফেরানো হোক।
হাসিনাকে দেশে ফেরাতে দু'দিন আগেই ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশ সরকারকে নির্দেশ দেয়। গত মাসে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানের নির্দেশ মতো আন্তর্জাতিক পুলিশ ইন্টারপোলকে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ পুলিশ। ইন্টারপোল কোনও পদক্ষেপ না করায় তাদের তাগাদা দিতে নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।
ইন্টারপোলের পাশাপাশি এবার ভারত সরকারের কাছেও সরকারিভাবে হাসিনাকে ফেরৎ চাইল বাংলাদেশ। গত ৯ ডিসেম্বর বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রির ঢাকা সফরের সময় বাংলাদেশ সরকার হাসিনার প্রসঙ্গ উত্থাপন করে।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি আছে। সেই চুক্তির উল্লেখ করে এবার কূটনৈতিক নোট পাঠিয়েছে ঢাকা। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এই পদক্ষেপের কথা জানানোর আগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, তাঁরা পররাষ্ট্র মন্ত্রককে অনুরোধ করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ফেরত চেয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। হাসিনার বিরুদ্ধে খুন, গুম সহ মানবতা বিরোধী একাধিক অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে।
ভারত সরকার কি হাসিনাকে ফেরত দেবে? দিল্লির সরকারি সূত্রের খবর, বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী কোনও আসামিকে ফেরত চাইলেই তা মানতে বাধ্য নয় সংশ্লিষ্ট দুই দেশ। নরেন্দ্র মোদীর সরকার এই ব্যাপারে এককভাবে সিদ্ধান্ত নেবে বলেও মনে করছে না সংশ্লিষ্ট মহল। হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁকে ফেরানোর পদক্ষেপ করার আগে ভারত সরকার অভিযোগ ইত্যাদি খতিয়ে দেখবে। দেশে ফিরলে তাঁর নিরাপত্তা এবং ন্যায় বিচার নিয়ে একশোভাগ নিশ্চিত না হয়ে কোনও পদক্ষেপ করবে না ভারত সরকার।